ভিপি জিতু, জিএস মাজহারুল; জাকসুতে ২৫ পদে প্রাধান্য শিবিরের

ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল পৌনে ৬টায় আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার।ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশীদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক পদে (জিএস) পদে ৩ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের (এজিএস) দুটি পদেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ২৩৫৮ ভোট এবং আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ৩৪০২ জয় পেয়েছেন।

১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টি জিতেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। বাকি চারটি পদের মধ্যে ভিপিসহ তিনটি পদে স্বতন্ত্র এবং একটিতে বাগছাস প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

কার্যকরী সদস্যের ছয় পদের পাঁচটি জিতেছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা, একটিতে বাগছাসের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সবমিলিয়ে ২৫টি পদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির ২০টি, স্বতন্ত্ররা তিনটি এবং বাগছাস দুটি পদে জয় পেয়েছে।

অন্যান্য পদে জয় পেয়েছেন
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক- আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক- মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক- মো. জাহিদুল ইসলাম বাপ্পী (শিবির প্যানেল),
সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র), সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক- মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল), নাট্য সম্পাদক- মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), ক্রীড়া সম্পাদক- মাহমুদুল হাসান কিরণ (স্বতন্ত্র), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী)- ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ)- মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল), তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক- মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল), সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক- আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী)- নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ)- মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল), স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক- হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল), পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক- মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল),

কার্যকরী সদস্য
মো. তরিকুল ইসলাম (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মো. আবু তালহা (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মোহাম্মদ আলী চিশতি (পুরুষ, বাগছাস), নাবিলা বিনতে হারুণ (নারী, শিবির প্যানেল), ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (নারী, শিবির প্যানেল), নুসরাত জাহান ইমা (নারী, শিবির প্যানেল)।

এবারের জাকসু নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৫৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে মোট আটটি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল।

তবে ভোট গ্রহণ শুরুর পর কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জনকারীদের মধ্যে রয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, এবং স্বতন্ত্রদের ‘অঙ্গীকার পরিষদ’।

 

তরুণদের নেতৃত্বে আলোকিত রাঙ্গুনিয়া গড়ার আহ্বান — এস এ মুরাদ চৌধুরী

এস এ মুরাদ চৌধুরী (ছবি: সংগৃহীত)

প্রিয় রাঙ্গুনিয়ার ছাত্র সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম, আপনাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা রইলো। আপনিই আমাদের ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। শুধু আগামী দিনের নেতা নন, আজকেই আপনি পরিবর্তনের মূল চালক। আমি বিশ্বাস করি, রাঙ্গুনিয়াকে একটি শিক্ষিত, আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনার হাতে।

বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ার সন্তানরা আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি চাই, এই গৌরব এবং আলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিক রাঙ্গুনিয়ার সন্তানরা।

আমি আপনার কাছে এসেছি একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও সেবক হিসেবে, দলমত, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে। আপনার স্বপ্ন, আপনার সমস্যা, আপনার চাওয়া-পাওয়া সবকিছু আমার কাছে অমূল্য।

আপনাদের কাছে আহ্বান, হোয়াটসঅ্যাপ-এ সরাসরি পরামর্শ দিন: ০১৮১৪৩৪০৫২৬। আপনারা আমাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন, যেমন:

  • রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় ঘাটতি চিহ্নিত করা।
    কিভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়।
  • মাদক, সন্ত্রাস ও বেকারত্ব থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত রাখা।
  • খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি নির্ভর একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা।
  • বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
  • নাগরিক অধিকার নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

আপনার চিন্তাভাবনা, শক্তি ও একাত্মতা দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে পারি একটি আলোকিত, সাম্যনিষ্ঠ ও মানবিক রাঙ্গুনিয়া—যেখানে জ্ঞানের আলো, কর্মের সুযোগ এবং সহমর্মিতার চেতনা থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত।

আমি আপনার সহযোগিতা, সমর্থন এবং দোয়ায় এগিয়ে যেতে চাই। ভুল-ত্রুটি থাকলে আমাকে সংশোধন করুন। চলুন, তরুণদের নেতৃত্বে মুরুব্বিদের আশীর্বাদ নিয়ে রাঙ্গুনিয়াকে একটি পজিটিভ স্বপ্নের জনপদে পরিণত করি।

— এস এ মুরাদ চৌধুরী (সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদল), মোবাইল: ০১৮১৪৩৪০৫২৬
হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৮১৪৩৪০৫২৬

গণছুটিতে থাকা বিদ্যুতকর্মীদের প্রত্যাবর্তনে রাঙ্গুনিয়ায় স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গণছুটিতে থাকা ৭৩ জন বিদ্যুতের কর্মী পুনরায় কর্মস্থলে ফিরেছেন। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২ রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ ফয়সাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যুতের রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ১০৩ জন কর্মীর মধ্যে ৩৭ জন লাইনম্যান, মিটার রিডার ও অন্যান্য কর্মী সহ মোট ৭৩ জন কর্মী গণছুটিতে যান।

গণছুটির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। গৃহস্থালি, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। কিছু এলাকায় দিনে ৮–১০ বার বিদ্যুৎ আসে বা কোথাও ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিজিএম মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, “উল্লেখিত সমস্যা এখন স্বাভাবিক হয়েছে। গণছুটিতে যাওয়া কর্মীরা এবার কর্মস্থলে ফিরে এসেছে। আজ সকাল থেকেই রাঙ্গুনিয়ায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গণছুটির সময় দুর্ভোগ কমাতে রাউজান থেকে ঠিকাদারের লোক এনে বিকল্পভাবে কাজ চালানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে ইউনিসেফের চার পরামর্শ

ডেস্ক:
বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চারটি পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের দেওয়া পরামর্শগুলো হলো—

  • শিশুকে কখনো একা ফেলে রাখা যাবে না, সবসময় দায়িত্বশীল কারও সাথে থাকতে হবে।
  • শিশুদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
  • খোলা পানির উৎস চিহ্নিত করে তার চারপাশে বাধা বা বেড়া স্থাপন করতে হবে।
  • উদ্ধার ও সুরক্ষাকৌশল সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা প্রচার করতে হবে।

সংস্থাটি জানায়, এসব করণীয় মেনে চললে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ)

কক্সবাজারে ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবলে তুলকালাম, ইউএনওসহ আহত অন্তত ২০

কক্সবাজার: কক্সবাজারে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ডিসি (জেলা প্রশাসক) গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গ্যালারি পূর্ণ হওয়ায় মাঠে প্রবেশে বাধা দেয়ায় ক্ষুব্ধ দর্শকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ছোটাছুটিতে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রামু ও টেকনাফ উপজেলা একাদশের মধ্যে বেলা ৩টায় ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ম্যাচ দেখতে সকাল ৭টা থেকে স্টেডিয়ামে দর্শকরা টিকিট সংগ্রহ শুরু করেন। টিকিটের মূলধন ছিল ৫০ টাকা, কিন্তু দর্শকের উপস্থিতি এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় টিকিটের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।

দর্শকরা অভিযোগ করেছেন, স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজার হলেও প্রায় ৩০ হাজার টিকিট বিক্রি করা হয়। অতিরিক্ত দর্শকরা গ্যালারিতে বসার জায়গা না পাওয়ায় গেট ভেঙে আড়াইটার দিকে পুরো মাঠ দখল করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে লাঠিচার্জের মাধ্যমে দর্শকরা বের করে আনা সম্ভব হয়।

তবে এ সময়ে গ্যালারি, মাঠ, প্রেস বক্সসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির কারণে ফাইনাল ম্যাচ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।