ঢামেকে নুরকে দেখতে গেলেন নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান সদ্য নির্বাচিত ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন এস এম ফরহাদ, মুহাম্মাদ মহিউদ্দিনসহ অন্য নেতারা। তারা নুরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং সমবেদনা জানান।

গণ-অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সমন্বয়ক শাকিল উজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত ভিপি-জিএসসহ নেতাকর্মীরা নূরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হন নুর। ওই রাতেই তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

 

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— সমান গুরুত্বে দেখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

দুই ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং এ সংক্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিশন সদস্যরা জানান, খুব শিগগিরই কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেবে।

এই বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিতে আগামী রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারো বৈঠক করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রস্তাবনাগুলোও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম তিনটি মেন্ডেটের অন‍্যতম হচ্ছে সংস্কার। তাই নির্বাচন ও বিচারের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদের বিষটিকে দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচনই নয়, এটি হচ্ছে একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা।”

তিনি বলেন, “তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদেরকে অবশ্যই মৌলিক সংস্কারগুলো চুড়ান্ত করে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।”

কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল: যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোডাউন চত্বরে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুরাদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার সময়ে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “সেই মহান নেতা জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের সুযোগ্য সন্তান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি দেশনেতা তারেক রহমান বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। জনগণের সম্পৃক্ততায় তিনি গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে দেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।”

নিজের প্রসঙ্গ টেনে যুবদল নেতা বলেন, “আমার জন্ম, শিক্ষা-দীক্ষা সবকিছুই রাঙ্গুনিয়াকে কেন্দ্র করে। আপনাদের ভালোবাসা, স্নেহ আর সহযোগিতাতেই আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরেছি। এ অর্জন শুধু আমার নয়, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষেরই অর্জন। আমৃত্যু আমি রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন আবুধাবি বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, “দলের ক্রান্তিলগ্নে যারা পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারাই দলের প্রকৃত সম্পদ। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।”

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহসিন ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদলের সদস্য সচিব খালেদ হোসেন চৌধুরী রাসেলের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন সাময়িক বরখাস্ত

ডেস্ক: সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়া কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। একই দিন প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি পুকুর নিজের নামে নামকরণ করেন ডিসি সুলতানা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় ওই বছরের ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। চোখ বেঁধে তুলে এনে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ডিসি অফিসে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালান তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।

পরে আরিফুলের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। কারামুক্ত হয়ে আরিফুল ইসলাম রিগান এ ঘটনায় মামলা করেন, যা পাঁচ বছর ধরে চলমান। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এবার বরখাস্ত হলেন সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন।