টাইফয়েড টিকা: সুরক্ষার এক অনন্য হাতিয়ার

ডা. এম এ মোরশেদ (ছবি: সংগৃহীত)

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে টাইফয়েড টিকা দেওয়া শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক কিংবা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—“এই টিকা কেন দিতে হবে? কোনো ক্ষতি হবে না তো?”

আর এসব বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক নিজের ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তোলে ধরেন ডা. এম এ মোরশেদ।

“সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেন। তার পোস্ট থেকে নেওয়া মূল অংশগুলো নিচে প্রকাশ করা হলো।”

তিনি জানান, টাইফয়েড টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া হয় টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করার জন্য।
টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত, পানি ও খাদ্যবাহিত সংক্রমণ, যেটি Salmonella Typhi জীবাণুর কারণে হয়।

কেন টিকা জরুরি?
রোগ প্রতিরোধ: টিকা শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, ফলে জীবাণু প্রবেশ করলেও গুরুতর সংক্রমণ হয় না।

জটিলতা থেকে সুরক্ষা: টাইফয়েড হলে অন্ত্রের আলসার, রক্তক্ষরণ, এমনকি অন্ত্র ফেটে গিয়ে জীবনহানির ঝুঁকি থাকে। কিছু শিশুর মস্তিষ্কেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স রোধ: বর্তমানে অনেক টাইফয়েড জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে গেছে। এতে চিকিৎসা কঠিন হচ্ছে। টিকা এ ঝুঁকি কমায়।

প্রাদুর্ভাব:
বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে পানি ও খাদ্য দূষণের কারণে টাইফয়েড একটি সাধারণ রোগ।

ভ্রমণকারীদের সুরক্ষা: যেসব দেশে টাইফয়েড বেশি হয়, সেখানে ভ্রমণের আগে টিকা নেওয়া জরুরি।

কে টিকা নেবে?
ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাসকারী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকেই টিকা দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশে শিশুদের জন্য সরকারিভাবে এটি চালু হতে যাচ্ছে।

কিভাবে দেয়া হয়?
ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা দেয়া হয়। একবার নিলে কয়েক বছরের জন্য সুরক্ষা পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য ২–৩ বছর পর পর পুনরায় নিতে হয়।

বাংলাদেশে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই শিশুদের সরকারি ভাবে টাইফয়েড এর টিকা দেওয়া হবে, এই সুবিধা গ্রহণ করার আহবান জানান তিনি। এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে টিকা গ্রহণের দিন বাচ্চা অসুস্থ থাকলে ঐদিন টিকাদান বিরত রাখতে হবে।

ডা. এম এ মোরশেদ
সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ।

“ঢাবি এজিএস প্রার্থী আশরেফার জীবনের দুঃখের গল্প”

“আশরেফা খাতুনের ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ছবি”

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আশরেফা খাতুন একজন এজিএস প্রার্থী। তার ব্যালট নং – ৫। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি হঠাৎ তার জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তার রিকশাওয়ালা পিতাকে স্মরণ করেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন, যা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো।”

আমরা যখন অনেকটা ছোট তখন আব্বুর অনেক বড় লস হয়। টাকাপয়সার প্রচন্ড টানাটানি। ঢাকায় থাকতাম তখন। আপু স্কুলে যায়। আমি তখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করি নাই। তিনটা ছেলেমেয়ের খরচ চালানো, পড়াশোনার পরিবেশ রাখার জন্য আমার আব্বু এই ঢাকা শহরে রিকশা চালানো শুরু করে। আম্মু গার্মেন্টসে চাকরি করেছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টেষ্ট পর্যন্ত। তারপরও খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে যেতো বলে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আব্বু-আম্মু ঢাকায় থাকতো। আম্মুকে কখনো কাছে পাই নাই। নানু যতদিন বেঁচে ছিল তার কাছেই বড় হয়েছি। আপু পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের দেখতো। আম্মু সাথে না থাকার কারণে কত মানুষের কত কটু কথা যে শুনেছি! এমনও হয়েছে যে বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলাম আমি আর আপু। এখনো গ্রামে গেলে পুরোনো অভ্যাসবশত ঘর থেকে বের হতে মনে চায় না। আপু বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে চলে গেল খুলনায়। আমি তখন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। রান্নাবান্না করে রেখে পরীক্ষা দিতে যেতাম। কলেজে ভর্তি হলাম যখন তখন ঘরের কাজ, চারটা ব্যাচ টিউশন, নিজের কলেজ, ধানের মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই-সিদ্ধ সব করতাম আব্বুর সাথে মিলে। সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতাম। উঠেই টিউশনে যেতাম। রাইস কুকারে আব্বু ভর্তা-ভাত তুলে দিতো। কিন্তু আমি আর খাওয়ার সময় পেতাম না। তাড়াহুড়ো করে নিজে যেতাম স্যারের কাছে পড়তে। কলেজে ক্লাস করে দুইটার মধ্যে বাড়ি ফিরতাম। এসেই রান্নার প্রস্তুতি। এরমধ্যে স্কুলের টিফিন টাইমে আরেকটা ব্যাচ আসতো পড়তে। তাদের পড়ানো শেষে রান্না করতাম। স্কুল ছুটি হতে হতে আরেকটা ব্যাচ আসতো। কতদিন এমন হয়েছে যে তরকারি চুলায়, স্টুডেন্টরা চলে আসছে। আব্বু দোকান বন্ধ করে এসে তরকারি নামাতো। আমি ব্যাচ শেষ করেই আরেকটা টিউশনে যেতাম। দুপুরেও খাওয়া হতো না। একদম সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গোসল, খাওয়াদাওয়া করতাম। আমার ওজন কমে ৪০-৪২ কেজি হয়ে গিয়েছিল। এডমিশন পর্যন্ত এভাবেই চলেছে। পানি আনতে কতদূর যাওয়া লাগতো। কলসটা কোমরে করে আনতেও মনে হতো পাহাড়সম ওজন।

আম্মু বাড়িতে আসার পরে একটু রান্না করা খাবার, একটু যত্ন পেয়েই মারাত্মক জ্বর এসে পড়লো একদিন। যত্ন পেয়ে অভ্যাস ছিল না। তখন বারবার কমলা খেতে চাইতাম। কিন্তু কমলা কিনে আনার মতোও সামর্থ্য ছিল না আমাদের। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমাকে আর একটা ঈদে জামা কিনে দিলো না আম্মু। খুব কেঁদেছিলাম সেইবার। আমি পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি প্রতিটা পরীক্ষায় সরকারি বৃত্তি পেয়েছি। ওই টাকায় পরেরবার থেকে ঈদের ড্রেস বানাতাম। স্কুল ড্রেস ছিঁড়ে গেলেও বলতাম না, সেলাই করে পরতাম। সেল্ফ এমপাওয়ার্ড হওয়া শুরু আমার তখন থেকে। এডমিশনের সময় পড়া, ঢাকা আসা, ফর্ম তোলা সব আমার টিউশনের টাকায় করেছি। ভর্তির সময় অবশ্য দুইজন বড় ভাই হেল্প করেছেন। তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ আমি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম, কিন্তু আব্বু ভর্তি হতে দিতে রাজি না। কারণ খরচ দিতে পারবে না। আমি জিদ করলাম। গ্রামে থাকতেই ঢাকায় টিউশন ম্যানেজ করে এসেছিলাম। ৩৫০০ টাকা, সপ্তাহে ৪ দিন, সব সাবজেক্ট। আমার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি। ওই টাকা দিয়ে নিজে চলতাম। বাড়িতে টিউশনের টাকা পাঠাতাম। সেই যে শুরু, এখনো চলছে। বাড়িতে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে না পারলে মন খচখচ করে এখনো। আপু সরকারি চাকরি করে এখন। তাও আমি সংসারের সিংহভাগ খরচ চালানোর চেষ্টা করি এখনো। আব্বু-আম্মু যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন ইনশাল্লাহ আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো।

এতখানি বলার কারণ হলো এটা বোঝানো যে আমি মোটামুটি বুঝতে শেখার পর থেকেই স্বাধীনচেতা। ডিপেন্ডেন্ট না থাকার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমি ভাবতাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হবে আত্মমর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু বাধ সাধলো ভর্তির অল্প কয়েকদিনের মাথায়। দেখলাম আমার এক বন্ধুর পায়ে ঘায়ের মতো হয়ে গিয়েছে ছারপোকার কামড়ে। জিজ্ঞেস করলাম এত বাজে অবস্থা হওয়ার কারণ। বলল, ৬ জনের রুমে ৪২ জন থাকে। এটাকে গণরুম বলে। দেখতাম ওরা ক্লাস শেষেই হলে ফিরতো। বলতাম আড্ডা দিতে। কিন্তু ওরা না কি রাতে ঘুমাতে পারে না, দিনের বেলা রুমে একটু জায়গা পাওয়া যায় ঘুমানোর। রাত হলেই বড় ভাইরা ওদেরকে রুম থেকে বের করে দিতো। ওদের বলতো হাতিরঝিল,শহীদ মিনারে ঘুরে বেড়াতে। ওদেরকে গেস্টরুমে গালিগালাজ করতো। আমার বন্ধু ইফাজ একদিন বলেছিল, ওর মৃত বাপকে নিয়েও গালি দেয় গেস্টরুমে।
আমার মতো স্বাধীনচেতা,প্রায় মুক্ত মানুষের জন্য এটা ছিল স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার মতো। সেদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম-গেস্টরুম সহ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু। আস্তে আস্তে দেখলাম আমার মতো আরো মানুষ আছে। আখতার ভাই ছিলেন আমার জন্য অনুপ্রেরণা। ওনাকে আমি প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই। সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিল আন্দোলনে যখন ভাইয়ের উপর ছাত্রলীগ হামলা করে তখনো ওনাকে বাঁচাতে আমরা ছয়টা মেয়ে ছুটে গিয়েছিলাম। যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আখতার হোসেনদের মাইর খাওয়া লাগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেমের বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছি। এখনো বলছি, ভবিষ্যতেও বলবো ইনশাল্লাহ। আমার রিকশাচালক বাবা আমাকে বলেছে, ‘পেটে ভাত না থাকলেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়’

এখনো মাথা উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা চলমান। দোয়া রাইখেন সবাই।

আশরেফা খাতুন
এজিএস পদপ্রার্থী
ব্যালট নং ০৫
ডাকসু নির্বাচন-২০২৫

রাঙ্গুনিয়ায় অস্ত্রসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন সরফভাটা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই এলাকার মো. পারভেজ (৩১) এবং আশরাফ আলী সিকদার (১৯)

ওসি সাব্বির বলেন, “সকালে সরফভাটা এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযানের সময় সেনাবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।”
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি কিরিচ, একটি দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় আরও চারটি মামলা রয়েছে।”

“তারা হারায়—কখনো ফিরে, কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতিতে”

রাঙ্গুনিয়ায় দুই শিশুর হারিয়ে যাওয়া ও মানবিক উদ্ধার অভিযান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: একটা অন্ধকার রাত। দুই অবুঝ শিশু পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

কে জানে তারা কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে?
তারা হারিয়ে গেছে—কখনো হয়তো ফিরে আসবে, আবার কখনো হারিয়ে যাবে এমন এক পরিণতির দিকে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে—দুই শিশুকে পাওয়া গেছে। কেউ চিনে থাকলে যেন যোগাযোগ করা হয়।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু দুজনকে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক শিশুদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নে। শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায়, স্থানীয় এক যুবক, মুসাফির তালুকদার, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন যাতে তাদের পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়।

জোনাকি ও আয়েশা—দুই অবুঝ মুখের পরিচয়

শিশু দুটির একজনের নাম জোনাকি, অপরজন আয়েশা। তারা জানায়—তাদের বাবার নাম সোহেল, মায়ের নাম মুন্নী। কখনো তারা বলে সৈয়দনগর, কখনো কাটাখালি—ঠিকানা তারা মনে রাখতে পারে না।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকা থেকে ফোন আসে। এক ব্যক্তি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, শিশুদের নানী পরদিন সকালেই প্রমাণপত্রসহ এসে নিয়ে যাবেন।

পরদিনই এক করুণ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জোনাকি(৯) ও আয়েশার(৭) নানী এসে তাদের পারুয়া থেকে নিয়ে যান।

“কিন্তু পরদিন আরও একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা সামনে আসে।”

জানা যায়, জোনাকি ও আয়েশার বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা এখন নানীর কাছে থাকে।
পায় না বাবার আদর, কিংবা মায়ের যত্ন। কারণ মা মুন্নী শহরে কাজ করেন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে।

বাবা-মা উভয়ের মধ্যেই রয়েছে কিছুটা মানসিক সমস্যা, আর শিশু দুজনের একজন মানসিকভাবে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বিকারগ্রস্ত)। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, ঠিকানা মনে রাখতে পারে না। মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে শিশুদের নানী মো. ননা মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তার জানান, তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হারিয়ে গিয়েছিল শেষবার কাউখালি থানার সহায়তায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তারা তার কাছেই থাকেন উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর এলাকার সোনারগাঁও এলাকা সংলগ্ন ঘোনাকূল ওরনার টিলা এলাকায়।

“দারিদ্রতার কাছে তিনিও পরাজিত, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই দুই নাতনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেও তবুও হারিয়ে যায় তারা।”

প্রশ্ন: এবার তারা ফিরে এসেছে ভালো কিছু মানুষের সহানুভূতিতে, কিন্তু আগামীবার?

 

পূর্বের আরেক করুণ গল্প: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন 

এ ধরনের একটি ঘটনা আগেও ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ওসমানের টেক এলাকার আমড়াকাটার বাড়িতে।
সেখানে এক মেধাবী ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হলেও ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তার পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা না থাকলেও, সাজ্জাদের সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে। সে প্রায়ই হারিয়ে যেতো। কখনো ফিরে আসতো, কখনো বহুদিন নিখোঁজ থাকতো।

শেষবার সে হারিয়ে যায় চিরতরে। তার বাবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু ছেলের মুখ শেষবার আর দেখতে পারেননি।

সাজ্জাদের গল্প আমাদের শেখায়—মানসিক অসুস্থতা শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের কষ্ট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

নিরাপদ নয় এই অনিশ্চিত পথচলা

জোনাকি ও আয়েশার গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি বাংলাদেশের অনেক শিশুর বাস্তবতা।
তারা হারিয়ে যায়— কখনো ফিরে আসে কারো মমতায়,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নির্মম পরিণতির অন্ধকারে।

এখনই যা করণীয়:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা:
শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রশাসনিক নজরদারি:
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৩. পরিচয়পত্র ব্যবস্থা:
শিশুদের জন্য আইডেন্টিটি ট্যাগ, নামপোতা জামাকাপড় কিংবা ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

৪. কমিউনিটি সাপোর্ট:
স্থানীয় দোকান, বাজার, মসজিদ-মন্দিরের লোকদের সচেতন করা জরুরি—যাতে তারা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারেন।

শেষ কথা: আজ জোনাকি ও আয়েশা ফিরে এসেছে।
কিন্তু এটাই কি শেষবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

“আমরা জানি না, এটাই কি তাদের হারানোর শেষবার?
কিন্তু এটুকু জানি—তারা যেন আর না হারায়,
তাদের ছোট্ট জীবন যেন থেমে না যায় কোনো নির্মম পরিণতির কাছে। এই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”

প্রতিবেদন: এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার,
সম্পাদক: রাঙ্গুনিয়া টুডে।