রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীতে গরু চুরি, আতঙ্কে গ্রামবাসী

এম জাহাঙ্গীর নেওয়াজ, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর পরিবারের গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের চম্পাতলী এলাকায় প্রবাসী নুর মোহাম্মদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বেলালের মা বলেন, “আমাদের পুরনো বাড়িতে সেদিন একটি মাহফিল চলছিল। এ সময় বিদ্যুতও ছিল না। রাত তিনটার দিকে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। এর মধ্যে চোরের দল গোয়ালঘর থেকে আমার তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।”

স্থানীয় জাফর আলম বলেন, “বর্তমানে চম্পাতলী এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কিছু দিন আগে তালুকদার বাড়ির প্রবাসী হাজী মমতাজ আলমের নতুন ঘরে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছিল।”

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইতোমধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধী গ্রেফতার ও নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার রয়েছে।

ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু, একজন সড়কে, অন্যজন অসুস্থতায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে রাঙ্গুনিয়ার দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। একজন প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, অন্যজন অসুস্থজনিত কারণে।

প্রয়াতদের একজন উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তাপুর এলাকার মো. ফারুক (৩৫)। তিনি মৃত আরবান আলীর ছেলে। অন্যজন ময়ূর উদ্দিন (২২), পারুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড উত্তর পারুয়া এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।

ফারুকের মৃত্যুর বিষয়ে একই এলাকার ওমানপ্রবাসী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি সোহার গাদাফান এলাকায় ফ্রি ভিসায় কাজ করতেন। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার লিভারের সমস্যা শনাক্ত করেন। পরে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি। পরে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ফারুকের এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। দেড় বছর আগে সর্বশেষ বাংলাদেশে এসে পুনরায় ওমানে পাড়ি জমান। পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, ময়ূরের বড় ভাই আবদুল সুক্কুর জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ওমানের বোয়ালী এলাকায় আরবাবের কাছে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। গাড়িতে আরও তিনজন ছিলেন। গাড়ি উল্টে গেলে সবাই আহত হন। তবে ময়ূরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

ময়ূর একটি মাছ পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৩ বছর আগে প্রবাসে যান তিনি। সর্বশেষ ৪-৫ মাস আগে দেশে এসে আবারও ওমানে ফিরে যান। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার লাশ দেশে পাঠানোর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা চলছে।