“নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় নৈতিকতা ও ঐক্যবদ্ধতা অপরিহার্য” – চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি”।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, আতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোছলেহ উদ্দিন।

আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তাগণ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব, প্রতিবন্ধী নারী ও প্রবাসীদের পরিবারের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ, গণপরিবহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, আমাদের প্রত্যেককে নৈতিক মূল্যবোধ অনুযায়ী নিজেদের জীবন ও চরিত্র উন্নত করতে হবে। নিরাপদ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় উপপরিচালক নারীর আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়া জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুর পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

সভাপতি গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে এবং নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস।

হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সদর দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ইটভাটার কিলন ও চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মোট ১৬ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে কাটিরহাটের ধলই এলাকায় মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস (KRM)–কে এক লাখ টাকা, চারিয়ার মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকস (NBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (KBC)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেসার্স কাজী ব্রিকস ম্যানুঃ (KBM)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স শাহেন শাহ ব্রিকস ফিল্ড (SNF)–কে দুই লাখ টাকা, মেসার্স চট্টলা ব্রিকস (CBM)–কে দুই লাখ টাকা এবং মেসার্স সেঞ্চুরি ব্রিকস (CBM-1)–কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ভাটাগুলোর কিলন–চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও মেসার্স হিমালয় ব্রিকসের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন, সিনিয়র কেমিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে র‍্যাব-০৭, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর, হাটহাজারী থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, হাটহাজারী স্টেশন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল হাছান ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাহাতিয়া দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর থেকে বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা চালান। রাণীরহাট এলাকায় গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তব্য রেখে এডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, “বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় রাঙ্গুনিয়া গড়াই আমার লক্ষ্য।”

দিনব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ধামাইরহাট, ইসলামপুর, পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির হযরত শাহসুফী মাওলানা আহসানুল্লাহ (রহ.) ও বাছুর মোহাম্মদ পাড়ার হযরত রাজ্জাক আলী শাহ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর ইসলামপুর খলিপাড়া, গাবতল বাজার, মঘাইছড়ি বাজার, কাউখালী রাস্তার মাথা, বহরাতল, বেতছড়ি, জঙ্গল বগাবিলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শেষে তিনি রাণীরহাট বাজারে প্রচারণা সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতারা।

মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন—ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল রিয়াদের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ হাসান রিয়াদ (২৬)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াদ উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের লেয়াকতের পাড়ার আবদুল কদ্দুসের ছেলে। তিনি স্থানীয় জমছড়ি ব্রিজের পাশে দোকান করতেন।

স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, রাতে উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকার নানাবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রিয়াদ। বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে পৌঁছালে কক্সবাজারমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।