ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর উদ্যোগ, সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল দুপুরে একটি মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতাল–এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি কল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনাতেই তাকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত দুই দিন ধরে ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালে যোগাযোগ করে। আজ এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং অপরিবর্তিত রয়েছে।

আগামীকাল দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল–এর অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসমান হাদির চিকিৎসাসংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। পাশাপাশি তার চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এদিকে, ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শে মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

চট্টগ্রাম: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা–এর সভাপতিত্বে এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মোতাহার হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ নাজির আহমেদ খান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফ উদ্দিন।

বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে জাতির মেধা ও মনন ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা ধারণ করেই একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মহান আত্মত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে। তবেই পূর্ণতা পাবে আত্মত্যাগকারী অগ্রজদের স্বপ্ন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।