জীবিকার তাগিদে ঋণ করে প্রবাসে, দুর্ঘটনায় আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রাঙ্গুনিয়ার জামাল
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জীবিকার তাগিদে ঋণের টাকা নিয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মো. জামাল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ওমানের একটি নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।
জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেনের ছেলে মো. জামাল (৩৯) বর্তমানে ওমানের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত তিনদিন ধরে তিনি সেখানে ভর্তি আছেন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ওমান থেকে জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, গত তিন দিন আগে ওমানের আল আমরাত থানা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যান জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তাঁর জ্ঞান থাকলেও মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ায় এবং প্যারালাইসিস দেখা দেওয়ায় পায়ের কোনো অনুভূতি নেই।
মো. বাবুল আরও জানান, গত দুই দিনে ভাইয়ের চিকিৎসা বাবদ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিপুল এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাঁদের পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হলেও তাঁরা জানিয়েছেন, জামালের শারীরিক যে অবস্থা এবং শরীরে যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানো হয়েছে, তাতে সাধারণ বিমানে তাঁকে বহন করা সম্ভব নয়। দেশে নিতে হলে ব্যক্তিগতভাবে ভাড় করা বিশেষ বিমানে (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) নিতে হবে। অন্যথায় ওমানেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই মুহূর্তে কী করবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মো. জামাল তিন বছর আগে ঋণের টাকায় প্রবাসে যান। বছরখানেক আগে ছুটিতে দেশে এসে আবার ওমানে ফিরে যান তিনি। সবকিছু গুছিয়ে ওঠার আগেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন জামাল। প্রবাসে তিনি কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
জামালের পরিবারে রয়েছেন তার স্ত্রী, সাত বছরের এক ছেলে ও পাঁচ বছরের এক মেয়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জামালের এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
