ওসমান হাদির ভাইয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ফোনালাপ: সর্বোচ্চ সহযোগিতার নিশ্চয়তা

ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, রাত ৯টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ওমর বিন হাদির একটি টেলিফোন আলাপ হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত।

তিনি আরও বলেন, “হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে আমি কয়েকজন উপদেষ্টাসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি। বৈঠক থেকে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

হাদির চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সকল চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে। প্রয়োজন হলে দেশে-বিদেশে সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।

ওসমান হাদির প্রতি তার ব্যক্তিগত উদ্বেগ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাদি আমাদের সবার অতি আপন ও স্নেহের মানুষ। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তিনি খুব শিগগিরই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন—এই দোয়া রইল।”

তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপির গত ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের বাচা বাবা শাহ (রহ.) মাজার জিয়ারত ও নিকটবর্তী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর গতকাল আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। ১৭ বছর পর দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে।”

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী বিধিমালা যেভাবে দেওয়া হয়েছে, সবাই তা সম্মানের সঙ্গে মেনে চলবেন। এতে প্রমাণ হবে—বাংলাদেশ পুরোনো রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে আমাদের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে তা হবে নির্বাচন কমিশনের সব লিখিত নির্দেশনা মেনে।”

মোটরসাইকেল শোডাউন, ব্যানার-ফেস্টুন ইত্যাদি প্রচারণা পদ্ধতি প্রসঙ্গে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ থেকে কোনো ধরনের মোটরসাইকেল শোডাউন, বড় পোস্টার বা ব্যানার করা যাবে না। এগুলো পরিহার করলেই নতুন রাজনীতির একটি ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।”

এসময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেন।

অন্যদিকে একইদিন হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার–পোস্টার অপসারণ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ : তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি এই হামলাকে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, যারা আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তারা তাদের ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী প্রতিটি দল ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশাসন চাইলে হাদির ওপর হামলার ঘটনার তদন্তে বিএনপি সহযোগিতা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছাত্রদলসহ দলের সবাইকে আহ্বান করছি—সরকারকে, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে, যাতে তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করতে পারে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা।

ইসির নির্দেশ মেনে রাঙ্গুনিয়ায় ব্যানার–ফেস্টুন সরালেন জামায়াত প্রার্থী নিজেই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম নিজ উদ্যোগে তার সব ধরনের নির্বাচনি ব্যানার–ফেস্টুন সরিয়ে ফেলছেন।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হসপিটাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যানার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম সবার জন্য সমান। ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা মানা প্রতিটি প্রার্থীর দায়িত্ব। তাই আমি নিজেই ব্যানার সরানোর কাজ শুরু করেছি।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ খরচে সব ধরনের আগাম প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই শুক্রবার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের হাতে নির্বাচনী ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করেন জামায়াতের এই প্রার্থী।