পটিয়ায় ৪৫ জন উপকারভোগীর মাঝে আর্থিক অনুদান ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ

পটিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে মোট ৪৫ জন উপকারভোগীর মাঝে আর্থিক অনুদান, ভাতা, পুনর্বাসন সহায়তা ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার পটিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সহায়তা প্রদানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের হঠাৎ দুর্ঘটনা তহবিল থেকে ৫ জনের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক এবং স্মার্ট নাগরিক কার্ড বিতরণ করা হয়। বন্যা পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আরও ১০টি পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া সমাজসেবার নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় ৫০ জনের মাঝে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষাবৃত্তির চেক ও উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫ জন বিশেষ সহায়তা পান। সরকারি শিশুপারিবার (বালক), পটিয়ার ২৪ জন শিশুর মাঝেও ক্রীড়া সামগ্রী, পোশাক, শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ে সব ধরনের সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে।

সরকারি এসব সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী: দীঘিনালার দুর্গম গ্রামে স্বস্তির শ্বাস

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): পাহাড়ে ঘেরা খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালি ইউনিয়নের বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া—একটি প্রায় অপ্রবেশ্য ও চিকিৎসাবঞ্চিত গ্রাম। সাধারণ জ্বর বা ব্যথার মতো অল্প অসুস্থতার চিকিৎসার জন্যও স্থানীয়দের দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। কষ্টকর ভ্রমণ, ব্যয়বহুল যাতায়াত এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ বহুদিন ধরেই চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন।

এই মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সেনাবাহিনী আয়োজন করেছে বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী দীঘিনালা সেনা জোনের ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (দি বেবী টাইগার্স) বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ায় এই ক্যাম্প পরিচালনা করে। ক্যাম্পে পাঁচ শতাধিক চাকমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, শিশু ও শিক্ষার্থী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন।

দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ওমর ফারুক (পিএসসি) এর নির্দেশনায় পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন। তিনি রোগী দেখা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ থেকে শুরু করে সার্বিক কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে তদারকি করেন। সেনাবাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে ক্যাম্প পরিচালনায় অংশ নেন।

ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন বলেন,
“বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া দীঘিনালার অন্যতম দুর্গম এলাকা। এখানে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত। মানুষ যেন ঘরের কাছেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পায়—সেই লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় হেডম্যান চন্দ্র হংশ রোয়াজা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে এলাকার মানুষের জন্য ‘আশীর্বাদ’ উল্লেখ করে বলেন,
“পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া খুব কঠিন। একদিনে এত মানুষের চিকিৎসা পাওয়া সত্যিই বড় পাওয়া। আমরা সেনাবাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ।”

চিকিৎসা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন প্রান্তিক মানুষেরা। ৫৫ বছর বয়সী চাঞ্চলতা ত্রিপুরা বলেন,
“অনেক দিন ধরে মাথা ও হাত–পায়ে ব্যথা আর হাই প্রেসারে ভুগছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। আজ স্যাররা চিকিৎসা দিলেন, ওষুধ দিলেন। ভগবান স্যারদের মঙ্গল করুন।”

সাত মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে আসা গৃহবধূ লক্ষী চাকমা জানান,
“আমার বাচ্চা কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। স্যাররা দেখে ওষুধ দিয়েছেন। আমরা খুব উপকৃত হলাম।”

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত স্থানীয় চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্যরা সেনাবাহিনীর এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, নিয়মিত এমন কার্যক্রম হলে দুর্ভোগ অনেক কমে যাবে এবং দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হবে না।

সেনাবাহিনীর মানবিক পদক্ষেপে বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ার মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।