অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ দিয়ে ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান এমপি হুমামের

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তরুণদের ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাঙ্গুনিয়া আয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও টেকাব প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র, ভাতা ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে নতুন হওয়ায় শুরুতে অনেক কিছু শেখার প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরে কথা বলার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। “অনেক কিছু বোঝার ও শেখার ছিল বলেই কিছুটা দেরিতে বক্তব্য দিয়েছি,” বলেন তিনি।

ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অতীত স্মরণ করতে গিয়ে মূল বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হারান। “আমরা যদি সবসময় ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকি, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা ও এগোনোর সুযোগ কমে যায়,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস জানা জরুরি, তবে সেটিকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষণকে প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অংশগ্রহণকারীদের আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন সংসদে আসাটাই বড় অর্জন। কিন্তু আমার কাছে কাজ এখনো শুরু মাত্র। চল্লিশ পেরিয়েও প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।”
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে শুধু পথ দেখান, কাজ আমি নিয়ে আসব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মীর মো. নজমুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

এদিকে একই দিনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন হুমাম কাদের চৌধুরী। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তিনি শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি।

নুয়ে পড়েছে ধান, ভাঙেনি মন; রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের ব্যস্ততা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: রাঙ্গুনিয়ার আকাশ এখনো অনিশ্চিত—মেঘ আর রোদের লুকোচুরি। কালবৈশাখীর ভয় কাটেনি পুরোপুরি। তবু কৃষকেরা থেমে নেই। রোদ উঠলেই তারা মাঠে ছুটছেন। কোথাও হেলে পড়া ধান সোজা করছেন, কোথাও পাকা ফসল দ্রুত কেটে ঘরে তুলছেন। এই সংগ্রাম প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়, বাঁচার তাগিদে।

গত ২৮ এপ্রিল থেকে টানা কয়েক দফা কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মতো রাঙ্গুনিয়াও এর বাইরে ছিল না। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ফিরতে সময় লেগেছে প্রায় এক সপ্তাহ। বজ্রপাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ঝড়ের সেই রাতের স্মৃতি এখনো তাজা। দমকা হাওয়া আর ভারী বৃষ্টিতে সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বসতঘর, দোকান, গোয়ালঘর—সবখানেই ক্ষতির চিহ্ন।

তবে মাঠের দৃশ্য পুরোটা হতাশার নয়। বেশিরভাগ জমিতে ধান এখনো ভালো অবস্থায় আছে, সোনালি রং ধরেছে। কৃষকেরা স্বাভাবিকভাবেই ধান কাটায় ব্যস্ত। যদিও কিছু নিচু জমিতে পানি জমে ধান নুয়ে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েসের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে গেছে। প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন তিনি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ফসলেরও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে দৃশ্যমান চিত্র—কৃষকের অদম্য চেষ্টা। সোমবার রোদ উঠতেই দল বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। ক্লান্তি থাকলেও থামার সুযোগ নেই। কারণ এই ফসলই তাদের ভরসা।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি শ্রমিক সহায়তা না থাকলেও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও আবহাওয়ার আপডেট দেওয়া হচ্ছে। ধান কাটার কাজ শেষ হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে।

এদিকে কালবৈশাখীর মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর একের পর এক সতর্কতা জারি করে যাচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে লড়াই করেই ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রাঙ্গুনিয়ার কৃষকেরা।