জন্মের পর বাবাকে দেখেনি ছেলে, জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জন্মের পর থেকে কখনো বাবার মুখ দেখেনি ছেলে। ফোনে বা দূর থেকে কিছুটা যোগাযোগ থাকলেও বাবার স্নেহ-স্পর্শ তার ভাগ্যে জোটেনি। অবশেষে সেই বাবার জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায় জানাতে হলো সন্তানকে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল গোয়াজর পাড়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম (৪৫) সৌদি আরবে মারা গেছেন। বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় সেখানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রবাসে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে জন্ম নেয় ছেলে মোহাম্মদ সিরাজ (৯)। জন্মের পর থেকে বাবাকে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি তার। বড় ছেলে মোহাম্মদ মিনহাজ (১২) ছোটবেলায় বাবাকে দেখলেও সিরাজ সেই সুযোগ পায়নি।

নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ মামুন জানান, গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তার ভাই অনলাইনে সক্রিয় ছিলেন। পরদিন ৩০ এপ্রিল সকালে সৌদি আরব থেকে খবর আসে, অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের কারণে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তিনি মারা গেছেন। বিষয়টি প্রথমে সেলিমের শ্বশুরের মাধ্যমে পরিবারকে জানানো হয়।

প্রথমে মরদেহ দেশে আনার আলোচনা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

এদিকে একই সময়ে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায়) দেশে তার পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় বাদামতলী জামে মসজিদ মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজায় অংশ নেয় সেলিমের দুই ছেলে মিনহাজ ও সিরাজও।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সেলিম সৌদি আরবে বাগানের কাজ করতেন। দেশে তার পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে মিনহাজ একটি হেফজখানার ছাত্র এবং ইতোমধ্যে ৯ পারা কুরআন মুখস্থ করেছে।

প্রবাসজীবনের দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর শেষ পর্যন্ত বাবার সঙ্গে সন্তানের দেখা হলো না—এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে।

ফটিকছড়িতে সাত তলা থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মো. কারিম (৩) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হাসান টাওয়ার-১’ নামক ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কারিম উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর গোমস্তার বাড়ির সৌদি প্রবাসী মহিনউদ্দিনের দ্বিতীয় ছেলে বলে পরিবার জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কারিম তার ভাইয়ের সঙ্গে ভবনের ছাদে খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে ছাদের কিনারায় গিয়ে রেলিংয়ে উঠে পড়ে সে। পরে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নানা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, “দুপুরে দুই ভাই একসঙ্গে খেলছিল। একসময় সে সবার অজান্তে বাইরে চলে যায়। পরে জানতে পারি, রেলিং টপকে নিচে পড়ে গেছে। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।”

ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুই অভিযানে ১০৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক দুই অভিযানে মোট ১০৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে পৃথক সময়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শান্তিরহাট মাছ বাজার সংলগ্ন সড়কে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সিএনজিতে থাকা তিন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে ১৩টি প্লাস্টিক পলিব্যাগে রাখা মোট ৭৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৯ হাজার টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়।

অপরদিকে, দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. সেকান্দার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, দ্বিতীয় ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। প্রথম ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা-ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলার আসামি মো. শাহাজাহান (২৬), নারী ও শিশু নির্যাতন (ধর্ষণ) মামলার আসামি নুর নবী (৪৬), এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দুটি পৃথক মামলার আসামি মো. নুরউদ্দিন ও সামসু মিয়া।

তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের হওয়া মামলার পরোয়ানা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কারাগারে সোপর্দ করা হবে।

কাজের মান তদারকিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা জরুরি: এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে তাপবিদ্যুৎ এলাকা থেকে গোডাউন পর্যন্ত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে কাজের সূচনা করেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ সময় বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তাপবিদ্যুৎ থেকে গোডাউন পর্যন্ত প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলেও তাদের মূল লক্ষ্য পুরো কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। এ বিষয়ে নিয়মিত নীতিগত আলোচনা ও সভা চলছে বলেও জানান তিনি।

কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত ‘চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট সেতু’ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উপজেলায় একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় খাস জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।

উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এমপি বলেন, ঠিকাদারদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজের গতি ও মান তদারকিতে সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বজায় রাখার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করা সম্ভব।