কর্ণফুলীতে ঝড়ো হাওয়ায় নৌকাডুবি: নববধূ নিখোঁজ, শিশুসহ কয়েকজন হাসপাতালে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দেওয়ানজীর হাট ও কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কনিকা দাশ (২০) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা অপর পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কনিকা দাশ কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ার রুবেল দাশের স্ত্রী এবং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মৃণালপাড়া এলাকার দুলাল দাশের মেয়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে নবদম্পতি কনিকা দাশ ও রুবেল দাশ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নৌকাযোগে চন্দ্রঘোনা কদমতলীর মৃণালপাড়ায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি কর্ণফুলী নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে উল্টে যায়।

নৌকাডুবির পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন— রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫) ও তার স্বামী রুপন ঘোষসহ আরও একজন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শিশু রাজ ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনিশ ঘোষসহ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সন্তানসহ উদ্ধার হওয়া পলি দাশ জানান, নিখোঁজ কনিকা দাশের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে নদীর মাঝখানে পৌঁছালে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় নৌকাটি ডুবে যায়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, নিখোঁজ কনিকা দাশকে উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল আসছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর একটি দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ডুবুরি দল পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ নববধূ কনিকা দাশের সন্ধান মেলেনি।

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে চার পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে দশমাইলমাথা এলাকার সুখবিলাস ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে মো. ইয়াকুব, মো. শাহাদাৎ হোসেন, কোরবান আলী ও নুরুল আলমের বিভিন্ন পরিমাপের একাধিক কক্ষবিশিষ্ট চারটি কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান।