সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেকে বদলাতে হবে: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক: সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নারী বন্দিদের এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “একজন বাবা বা মায়ের পরিচয়ই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়েও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”

মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দিদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁর ভাষায়, “কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ভেজাল খাবার।”

এর আগে কারাগারে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পরে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দিদের সেল পরিদর্শন করে তাঁদের নিরাপত্তা, সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরে জেলা প্রশাসক কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

একপর্যায়ে নারী বন্দিদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। এছাড়া বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও বাঁশ-কাঠের নান্দনিক সামগ্রীও পরিদর্শন করেন। এসব প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে বলে মত দেন জেলা প্রশাসক।

তিনি কারাগারের রান্নাঘর ও বন্দিদের জন্য প্রস্তুত খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

পরে পুরুষ বন্দিদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

সবশেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় বন্দিদের কল্যাণ, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক পুনর্বাসনে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ১, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস উদ্ধার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ সময় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হাইচ মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (১১ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মো. ইমরান হোসাইন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ৬নং পোমরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অভিযান পরিচালনা করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একদল ডাকাত অস্ত্র-শস্ত্র ও একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতদলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাহাদাত হোসেন প্রকাশ মানিক (৩২) নামে একজনকে আটক করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা অন্ধকারে পাশ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে থাকা একটি কালো রঙের হাইচ মাইক্রোবাস তল্লাশি করে দুটি ধারালো ছুরি, একটি লোহার কাটার, একটি দা, একটি সাবল ও দুটি কিরিচসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় আটক সাহাদাত হোসেনসহ ৬ জন পলাতক আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, আটক আসামিকে পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সাতকানিয়ায় অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, ৫ বাসে জরিমানা

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কেরাণীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ৫টি বাসে ব্যবহৃত মোট ১০টি অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। পরে পৃথক ৫টি মামলায় সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে মোট ২২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এর মধ্যে ৪টি মামলায় ৫,০০০ টাকা করে এবং ১টি মামলায় ২,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল।

অভিযান চলাকালে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।