রাঙ্গুনিয়ায় ভোরের আগুনে পুড়ল চার দোকান, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট আগুনে চারটি দোকান ও একটি রিকশা গ্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) ভোরে উপজেলার রোয়াজারহাট এলাকার জাকির আলম মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর ৫টা ১২ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সম্পূর্ণ আগুন নির্বাপণ করা হয়। পরে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ইউনিটগুলো স্টেশনে ফিরে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন দুটি সেমিপাকা ভাঙারির দোকান, আরিফুল ইসলামের একটি চায়ের দোকান, অরুণ মন্দিরের একটি রিকশা গ্যারেজ এবং জাকির আলমের একটি কাঁচা দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তবে আগুনে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া উপজেলার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক মো. জামাল (৩৫) বলেন, ভোরে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পরে তিনি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় দোকানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

ধান ঘরে তুলতেই হিমশিম, বর্গা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক কালবৈশাখীর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষকরা। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও সেই ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে অনেক কৃষক এখন হতাশ। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকদের একাংশ।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে।

তবে মৌসুমের মাঝপথেই দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর প্রভাব পড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝড়ে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে যাওয়ায় প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অনেক জমির ফসল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ক্ষতির সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই কৃষকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধান ঘরে তোলার ব্যয়। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক চাওয়া হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৮০০ টাকা। থাকা-খাওয়াসহ একজন শ্রমিকের পেছনে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, এক দিনে একজন শ্রমিকের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা প্রায় ১০ আড়ি ধানের সমান। এ ছাড়া ধান কাটার পর রয়েছে মাড়াই খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাড়িতে নেওয়ার অতিরিক্ত খরচ। সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কৃষক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ধান ঘরে তোলার ব্যয় বাড়তে থাকায় বর্গা চাষি ও জমির মালিক—উভয় পক্ষই লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক নুরুন্নবীর ছেলে সোহেল জানান, এবার কালবৈশাখীতে তাদের কিছু জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে এবং ধান ঘরে তুলতে গিয়ে তারা বড় সমস্যায় পড়েছেন। আড়াই কানি জমির ধান বিল থেকে রাস্তার পাশে আনতে সাতজন শ্রমিক এক দিনে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এরপর মাড়াই ও বাড়িতে আনার খরচ রয়েছে। ধান ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত লাভ থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কায় আছেন।

অন্যদিকে কৃষক আহমদ জানান, তিনি এবার এক কানি জমি বর্গা নিয়েছেন। তার হিসাবে ওই জমিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ আড়ি ধান হতে পারে। তবে সেখান থেকে ২৫ আড়ি জমির মালিককে দিতে হবে। এরপর চাষাবাদ, শ্রমিক, সেচ, মাড়াই ও পরিবহনসহ সব ব্যয় হিসাব করলে নিজের অংশে কতটুকু অবশিষ্ট থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

মাঠপর্যায়ে আরও জানা গেছে, অনেক বর্গা চাষি ধীরে ধীরে কৃষিকাজ ছেড়ে দিনমজুরি, ইজিবাইক চালানো কিংবা সিএনজি চালনার মতো পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। চাষাবাদে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তারা বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের একাংশের দাবি, সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি থাকলেও অনেক ক্ষুদ্র ও হতদরিদ্র কৃষক সেই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, উপজেলার কিছু এলাকায় কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও মাটি অপসারণ, কোথাও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম বাড়ছে। কৃষি থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় কেউ কেউ কৃষিজমি বিক্রি করে প্রবাসমুখী হচ্ছেন, আবার কেউ জমিকে বিকল্প কাজে ব্যবহার করছেন। এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।