গ্যাস্টিক নাকি হার্টের ব্যথা—পার্থক্য বুঝতে যা জানালেন ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল
বুকের ব্যথা নিয়ে অনেক সময় মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। গ্যাস্টিকের সমস্যাকে অনেকেই হার্টের ব্যথা মনে করেন, আবার কখনো হার্টের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্টিক ভেবে অবহেলাও করেন। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেছেন রাঙ্গুনিয়া হেলথকেয়ার হসপিটালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বাত ব্যথা, মেডিসিন, ডায়াবেটিস, চর্ম ও যৌন, লিভার জনিত সমস্যা ও শিশু চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথার পার্থক্য এবং এর বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে কথা বলেন।
ডা. রুবেল জানান, গ্যাস্টিক ও হার্টের ব্যথা—দুটিই সাধারণত বুকের মাঝামাঝি স্থানে অনুভূত হয়। তবে কিছু উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস্টিকের সমস্যা যেকোনো বয়সে হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণত ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হার্টজনিত ব্যথার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়, যদিও কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।
তিনি বলেন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে গ্যাস্টিকের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, জন্মগত হৃদরোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে হার্টের ব্যথা হতে পারে।
ভিডিওতে তিনি আরও জানান, গ্যাস্টিকের ব্যথার সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া, ঢেকুর, অস্বস্তি, বুক ভারী লাগা কিংবা টাইটনেসের মতো উপসর্গ থাকতে পারে। অনেক সময় গ্যাস্টিকের ওষুধ সেবনে সাময়িক স্বস্তিও পাওয়া যায়।
অন্যদিকে হার্টের ব্যথা হলে তা ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং কখনো থুতনি, হাত বা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের ব্যথায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানান তিনি।
ডা. শহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, বুকের ব্যথাকে অবহেলা না করে লক্ষণ বুঝে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
ডা. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রুবেল এমবিবিএস, ডিএ (সি) অ্যানেসথেসিয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ; সিএমইউ, ডিএমইউ (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) এবং ডিভাইস খৎনা ফেলোশিপ (তুর্কি) সম্পন্ন করেছেন।
বিঃদ্রঃ প্রকাশিত বক্তব্য চিকিৎসকের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
