রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন চার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ছিল সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার মোড়ের তীব্র যানজট। অবৈধ দখল উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সড়কটি দখলমুক্ত ও প্রশস্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদসহ পুলিশের সদস্যরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
অভিযান চলাকালে সরফভাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটসংলগ্ন ক্ষেত্রবাজার মোড়ে সৈয়দ আলী সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে থাকা সড়কটি পুনরায় স্বাভাবিক প্রশস্ততা ফিরে পায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ স্থাপনার পাশাপাশি সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানের কারণে প্রতিদিনই এই মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। এতে শিলক, সরফভাটা, কোদালা ও পদুয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও যানজটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
উচ্ছেদ অভিযানের পর এলাকাবাসী প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে সড়কটি দখলমুক্ত থাকবে এবং যানজটের সমস্যা আর ফিরে আসবে না। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কার্যকর নজরদারি না থাকলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড আবারও গড়ে উঠতে পারে। এ কারণে বাজার কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ বলেন, আগে থেকেই কয়েকজন অবৈধ দখলদারকে নোটিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি খাস জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে সড়কের যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানজট নিরসন এবং সরকারি খাস জায়গা উদ্ধার করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে একইদিন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, “দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার (সরফভাটা, শিলক, কোদালা ও পদুয়া) প্রবেশদ্বার ক্ষেত্রবাজারে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন গাড়ির জ্যামে আটকা পড়তে হয়। আশা করি ভবিষ্যতে এই জনদুর্ভোগের লাঘব ঘটবে। এ মহৎ কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ক্ষেত্রবাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতি এবং সাধারণ দোকানমালিকদের ধন্যবাদ জানাই।”
