রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজারের বগাবিলি রোড সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও গিফট আইটেম বিক্রি করা হতো। ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত রফিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী রফিক জানান, অগ্নিকাণ্ডে কাপড়, ক্রোকারিজ, লেপ-তোশক ও মুদি দোকানসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একজন দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১টি দোকানের ৯ জন মালিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
রফিক বলেন, আগুনে তার নিজের দোকানের প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার থেকেও কোনো মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যবসায়ীর ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন—রফিক, রাশেদ, শফি, জাকের, ইয়াছিন আরাফাত, একরাম, মহিউদ্দিন, নান্টু ডাক্তারসহ আরও একজন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পরে ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। তিনি জানান, পাশের রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসার খবর পাওয়ার পর তারা ফিরে যান।
কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আরমান উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকানে আগুন দেখতে পান এবং ওই তিনটি দোকানের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, ওই তিনটি দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে শুধু ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান ও একটি দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে দাবি তাদের।
