সমাজ উন্নয়নে ভিডিপি সদস্যদের অবদান প্রশংসনীয়

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১০ দিনব্যাপী গ্রামভিত্তিক ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, “ভিডিপি সদস্যরা গ্রাম পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও মাদক প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা যেন বাস্তব জীবনে এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুমন শর্মা, উপজেলা মহিলা প্রশিক্ষিকা নাদিরা পারভীন, সাংবাদিক ইসমাঈল হোসেন নয়ন, কোম্পানি কমান্ডার মো. শহীদউল্লাহ এবং ভিডিপি লালানগর ইউনিয়নের দলনেতা কাজী সিরাজুল হক।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী ১০০ জন ভিডিপি সদস্যের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভিডিপি সদস্যরা যেমন নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি ভবিষ্যতে গ্রামীণ সমাজে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাদের ভূমিকা আরও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে একদিনের শিক্ষক ইউএনও

একদিনের শিক্ষক ইউএনও মো. কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের ক্লাসে

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দুপুরের নীরবতা ভাঙতেই উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নেমে আসে অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবাক চোখে দেখল—আজ তাদের ক্লাস নিচ্ছেন কেউ ভিন্ন মানুষ। সাদা বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক নন, উপস্থিত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে ইউএনও আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে নেমে পড়েন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি পাঠদানে। হাতে বই নিয়ে প্রশ্ন করেন, মনোযোগ দিয়ে উত্তর শোনেন, এবং পড়াশোনায় আগ্রহী হওয়ার পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু পাঠ্যবই নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা অর্জন করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”

পরিদর্শনের সময় তিনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা ও পাঠদানের মানও ঘুরে ঘুরে দেখেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা ইউএনওর এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন শর্মা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশীদসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

শিক্ষকেরা জানান, ইউএনওর সরাসরি অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মনে নতুন অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা বলছে, একদিনের জন্য হলেও ইউএনওকে শিক্ষক রূপে পাওয়া তাদের কাছে হয়ে রইল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

এসবি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার সিরাজুম মুনিরা লাজুকের ইন্তেকালে বাংলাদেশ পুলিশের শোক

ডেস্ক: পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার সিরাজুম মুনিরা লাজুক বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানায়, সিরাজুম মুনিরা লাজুক ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার চরহোগলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালে ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন এই কর্মকর্তা।

এসবি ঢাকার অধীনে তিনি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ উইং, স্কুল অব ইন্টেলিজেন্স, কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স উইং এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি এসবি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স উইং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। তিনি স্বামী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সিরাজুম মুনিরা লাজুকের মৃত্যুতে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ডিসি সড়কের বেহাল দশা: সংস্কারের দাবিতে আবেদন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পারুয়া ডিসি সড়কের বেহাল দশায় দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক কলেজ শিক্ষক।

আবেদনকারী এম আনোয়ার হোসেন একজন মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট। তিনি উপজেলার ঘাটচেক থেকে রানীরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।

এম আনোয়ার হোসেন বলেন, “এটি উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম মঙ্গলবার জানান, তারা আবেদনটি পেয়েছেন।
রেজাউল করিম বলেন, “ইতোমধ্যে আরটিআইপি-২ প্রজেক্টে সড়কটির তথ্য পাঠানো হয়েছে। প্রজেক্ট অনুমোদিত হলে পুরো রাস্তাটিই মেরামত করা হবে। তবে সাময়িক দুর্ভোগ কমাতে খানাখন্দগুলো সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর ধানক্ষেতে মিলল যুবকের লাশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নয়ন আচার্য (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

নিহত নয়ন আচার্য উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত ননী গোপাল আচার্যের ছেলে। তিনি একটি কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাইকেলযোগে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন নয়ন। দীর্ঘ সময়েও বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয়রা রোয়াজারহাট-রানীরহাট ডিসি সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী লাশ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “পরিবারের বরাতে জানা গেছে নয়ন দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ রোগের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি।”

৩৪ বছরের সেবা শেষে বিদায় নিলেন অতিরিক্ত আইজি তমিজউদ্দীন

ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ, বিপিএম, ৩৪ বছরের দীর্ঘ সেবাজীবনের পর অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর বিদায় উপলক্ষে আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাহারুল আলম, বিপিএম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে অতিরিক্ত আইজিগণ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান এবং হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদায়ী কর্মকর্তার পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনের নানা দিক নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা স্মৃতিচারণ করেন। আইজিপি তার সততা ও সুনামের প্রশংসা করেন এবং সুস্থ জীবন কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের সাথে যুক্ত হন সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ। তিনি ঝালকাঠি ও মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার এবং পরে রেলওয়ে পুলিশের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদায়ী কর্মকর্তা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

সূত্র: বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

রাঙ্গুনিয়ায় তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে গ্রাহক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসা শাখায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

“এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই”—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শাখার ব্যবস্থাপক মো. জাসেদ মিয়া তরুণদের উদ্দেশে সঞ্চয়ী হিসাব ও ঋণ সঠিকভাবে পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিভিন্ন হ্যাকার গ্রুপের বিষয়েও তিনি গ্রাহকদের সতর্ক করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শাখার কর্মকর্তা সুপন তালুকদার, সুজন দাশ, তৌহিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন ও ইমরান হোসেন।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব সৃষ্টি ও নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের উপহার ও লিফলেট বিতরণ


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও লিফলেট বিতরণ করেছে কলেজ ছাত্রদল।

সোমবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে এ কার্যক্রম আয়োজন করে নবগঠিত উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল।

এ সময় লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এস.এইচ. সুমনসহ কলেজ ছাত্রদলের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি সংবলিত লিফলেট ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি সাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক।

৩১ দফা বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে — হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক:

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনগণকে কাজে লাগাতে হবে—নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা নয়, জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাই আসল।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শিলক ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “দেশ মেরামতে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে আমরা যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি তারা একটাও কাজে দিবেনা; কাজে লাগাতে হবে জনগণকে। আপনাদের মতামত, আপনারা যে পরিশ্রম করবেন আর আপনারা যে দোয়া করবেন—এসব যদি আমাদের সাথে না থাকে তাহলে ৩১ দফা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।”

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মধ্যে বিভাজনের কথা বারবার বলা হয়; তবে তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, “রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। যারা বেগম খালেদা জিয়াকে, যারা তারেক রহমানকে, যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসে তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য।”

আলোচনা শেষে তিনি নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে বলেন, “হয়তো দলের উন্নতি বা কোনো পদবি পাওয়ার জন্য সকলের পরিশ্রম থাকবে; তবে যখন নির্বাচনের সময় চলে আসবে এবং প্রার্থী ঘোষণা হবে—তখন সকলেই দলীয় মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করবে। যার মনোনয়ন হবে, আমি প্রতিজ্ঞা করছি সবাই তার জন্য কাজ করবে।”

নিজের পারিবারিক সূত্র টেনে তিনি জানান—রাউজান না রাঙ্গুনিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাঁর বাবার (মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) সিদ্ধান্ত ছিল ‘রাঙ্গুনিয়া’। সেই কারণে তিনি নিজেও রাঙ্গুনিয়াকেই ভিত্তি করে চলেন। উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ—যারা এসেছেন সবাই আমার পরিবার।”

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকবির দেওয়ার কারণে অনেকে তাঁকে মৌলবাদী বলে আখ্যায়িত করে—এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন, “এই তাকবির আমি সকলের জন্যই দিই; এর মাধ্যমে জানাতে চাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে, ফজলুল কাদের চৌধুরীর নাতির ঈমান শক্ত। যদি ঈমান শক্ত না হত, তাহলে আজ আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারতাম না।”

 

চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫: জেলা প্রশাসকের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নির্দেশনা

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় নিরাপত্তা ও বিসর্জনের নির্দেশনা গৃহীত। ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম: আজ রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় দুর্গাপূজার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থায়ী আনসার বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি টহলের ব্যবস্থা থাকবে। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডকে বিশেষ সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় জানানো হয়, প্রতিমা বিসর্জন কেবল জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে দিতে হবে এবং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। বিজয়া দশমীর দিনে বিসর্জন ঘিরে দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি বিসর্জন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত সড়ক বাতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আজকের সভায়।

সভায় পূজামণ্ডপে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়; ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ যেকোনো অপরাধ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এছাড়া, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রতিমা আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার ও মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। আলোচনায় আজ আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: কামরুজ্জামান।

 

ভিপি জিতু, জিএস মাজহারুল; জাকসুতে ২৫ পদে প্রাধান্য শিবিরের

ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল পৌনে ৬টায় আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার।ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশীদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক পদে (জিএস) পদে ৩ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের (এজিএস) দুটি পদেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ২৩৫৮ ভোট এবং আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ৩৪০২ জয় পেয়েছেন।

১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টি জিতেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। বাকি চারটি পদের মধ্যে ভিপিসহ তিনটি পদে স্বতন্ত্র এবং একটিতে বাগছাস প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

কার্যকরী সদস্যের ছয় পদের পাঁচটি জিতেছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা, একটিতে বাগছাসের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সবমিলিয়ে ২৫টি পদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির ২০টি, স্বতন্ত্ররা তিনটি এবং বাগছাস দুটি পদে জয় পেয়েছে।

অন্যান্য পদে জয় পেয়েছেন
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক- আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক- মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক- মো. জাহিদুল ইসলাম বাপ্পী (শিবির প্যানেল),
সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র), সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক- মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল), নাট্য সম্পাদক- মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), ক্রীড়া সম্পাদক- মাহমুদুল হাসান কিরণ (স্বতন্ত্র), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী)- ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ)- মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল), তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক- মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল), সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক- আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী)- নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ)- মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল), স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক- হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল), পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক- মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল),

কার্যকরী সদস্য
মো. তরিকুল ইসলাম (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মো. আবু তালহা (পুরুষ, শিবির প্যানেল), মোহাম্মদ আলী চিশতি (পুরুষ, বাগছাস), নাবিলা বিনতে হারুণ (নারী, শিবির প্যানেল), ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (নারী, শিবির প্যানেল), নুসরাত জাহান ইমা (নারী, শিবির প্যানেল)।

এবারের জাকসু নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৫৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে মোট আটটি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল।

তবে ভোট গ্রহণ শুরুর পর কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জনকারীদের মধ্যে রয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, এবং স্বতন্ত্রদের ‘অঙ্গীকার পরিষদ’।

 

তরুণদের নেতৃত্বে আলোকিত রাঙ্গুনিয়া গড়ার আহ্বান — এস এ মুরাদ চৌধুরী

এস এ মুরাদ চৌধুরী (ছবি: সংগৃহীত)

প্রিয় রাঙ্গুনিয়ার ছাত্র সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম, আপনাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা রইলো। আপনিই আমাদের ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। শুধু আগামী দিনের নেতা নন, আজকেই আপনি পরিবর্তনের মূল চালক। আমি বিশ্বাস করি, রাঙ্গুনিয়াকে একটি শিক্ষিত, আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনার হাতে।

বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ার সন্তানরা আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি চাই, এই গৌরব এবং আলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিক রাঙ্গুনিয়ার সন্তানরা।

আমি আপনার কাছে এসেছি একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও সেবক হিসেবে, দলমত, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে। আপনার স্বপ্ন, আপনার সমস্যা, আপনার চাওয়া-পাওয়া সবকিছু আমার কাছে অমূল্য।

আপনাদের কাছে আহ্বান, হোয়াটসঅ্যাপ-এ সরাসরি পরামর্শ দিন: ০১৮১৪৩৪০৫২৬। আপনারা আমাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন, যেমন:

  • রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় ঘাটতি চিহ্নিত করা।
    কিভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়।
  • মাদক, সন্ত্রাস ও বেকারত্ব থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত রাখা।
  • খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি নির্ভর একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা।
  • বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
  • নাগরিক অধিকার নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

আপনার চিন্তাভাবনা, শক্তি ও একাত্মতা দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে পারি একটি আলোকিত, সাম্যনিষ্ঠ ও মানবিক রাঙ্গুনিয়া—যেখানে জ্ঞানের আলো, কর্মের সুযোগ এবং সহমর্মিতার চেতনা থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত।

আমি আপনার সহযোগিতা, সমর্থন এবং দোয়ায় এগিয়ে যেতে চাই। ভুল-ত্রুটি থাকলে আমাকে সংশোধন করুন। চলুন, তরুণদের নেতৃত্বে মুরুব্বিদের আশীর্বাদ নিয়ে রাঙ্গুনিয়াকে একটি পজিটিভ স্বপ্নের জনপদে পরিণত করি।

— এস এ মুরাদ চৌধুরী (সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদল), মোবাইল: ০১৮১৪৩৪০৫২৬
হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৮১৪৩৪০৫২৬।

গণছুটিতে থাকা বিদ্যুতকর্মীদের প্রত্যাবর্তনে রাঙ্গুনিয়ায় স্বস্তি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গণছুটিতে থাকা ৭৩ জন বিদ্যুতের কর্মী পুনরায় কর্মস্থলে ফিরেছেন। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২ রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ ফয়সাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যুতের রাঙ্গুনিয়া কার্যালয়ের ১০৩ জন কর্মীর মধ্যে ৩৭ জন লাইনম্যান, মিটার রিডার ও অন্যান্য কর্মী সহ মোট ৭৩ জন কর্মী গণছুটিতে যান।

গণছুটির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। গৃহস্থালি, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। কিছু এলাকায় দিনে ৮–১০ বার বিদ্যুৎ আসে বা কোথাও ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিজিএম মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, “উল্লেখিত সমস্যা এখন স্বাভাবিক হয়েছে। গণছুটিতে যাওয়া কর্মীরা এবার কর্মস্থলে ফিরে এসেছে। আজ সকাল থেকেই রাঙ্গুনিয়ায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গণছুটির সময় দুর্ভোগ কমাতে রাউজান থেকে ঠিকাদারের লোক এনে বিকল্পভাবে কাজ চালানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে ইউনিসেফের চার পরামর্শ

ডেস্ক:
বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চারটি পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের দেওয়া পরামর্শগুলো হলো—

  • শিশুকে কখনো একা ফেলে রাখা যাবে না, সবসময় দায়িত্বশীল কারও সাথে থাকতে হবে।
  • শিশুদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
  • খোলা পানির উৎস চিহ্নিত করে তার চারপাশে বাধা বা বেড়া স্থাপন করতে হবে।
  • উদ্ধার ও সুরক্ষাকৌশল সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা প্রচার করতে হবে।

সংস্থাটি জানায়, এসব করণীয় মেনে চললে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ)

কক্সবাজারে ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবলে তুলকালাম, ইউএনওসহ আহত অন্তত ২০

কক্সবাজার: কক্সবাজারে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ডিসি (জেলা প্রশাসক) গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গ্যালারি পূর্ণ হওয়ায় মাঠে প্রবেশে বাধা দেয়ায় ক্ষুব্ধ দর্শকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ছোটাছুটিতে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রামু ও টেকনাফ উপজেলা একাদশের মধ্যে বেলা ৩টায় ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ম্যাচ দেখতে সকাল ৭টা থেকে স্টেডিয়ামে দর্শকরা টিকিট সংগ্রহ শুরু করেন। টিকিটের মূলধন ছিল ৫০ টাকা, কিন্তু দর্শকের উপস্থিতি এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় টিকিটের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।

দর্শকরা অভিযোগ করেছেন, স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজার হলেও প্রায় ৩০ হাজার টিকিট বিক্রি করা হয়। অতিরিক্ত দর্শকরা গ্যালারিতে বসার জায়গা না পাওয়ায় গেট ভেঙে আড়াইটার দিকে পুরো মাঠ দখল করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে লাঠিচার্জের মাধ্যমে দর্শকরা বের করে আনা সম্ভব হয়।

তবে এ সময়ে গ্যালারি, মাঠ, প্রেস বক্সসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির কারণে ফাইনাল ম্যাচ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ঢামেকে নুরকে দেখতে গেলেন নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান সদ্য নির্বাচিত ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন এস এম ফরহাদ, মুহাম্মাদ মহিউদ্দিনসহ অন্য নেতারা। তারা নুরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং সমবেদনা জানান।

গণ-অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সমন্বয়ক শাকিল উজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত ভিপি-জিএসসহ নেতাকর্মীরা নূরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হন নুর। ওই রাতেই তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

 

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— সমান গুরুত্বে দেখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

দুই ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং এ সংক্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিশন সদস্যরা জানান, খুব শিগগিরই কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেবে।

এই বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিতে আগামী রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারো বৈঠক করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রস্তাবনাগুলোও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম তিনটি মেন্ডেটের অন‍্যতম হচ্ছে সংস্কার। তাই নির্বাচন ও বিচারের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদের বিষটিকে দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচনই নয়, এটি হচ্ছে একটি ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা।”

তিনি বলেন, “তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদেরকে অবশ্যই মৌলিক সংস্কারগুলো চুড়ান্ত করে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।”

কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল: যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার দেশে রূপান্তরিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোডাউন চত্বরে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুরাদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার সময়ে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “সেই মহান নেতা জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের সুযোগ্য সন্তান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি দেশনেতা তারেক রহমান বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। জনগণের সম্পৃক্ততায় তিনি গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে দেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।”

নিজের প্রসঙ্গ টেনে যুবদল নেতা বলেন, “আমার জন্ম, শিক্ষা-দীক্ষা সবকিছুই রাঙ্গুনিয়াকে কেন্দ্র করে। আপনাদের ভালোবাসা, স্নেহ আর সহযোগিতাতেই আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরেছি। এ অর্জন শুধু আমার নয়, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষেরই অর্জন। আমৃত্যু আমি রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন আবুধাবি বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, “দলের ক্রান্তিলগ্নে যারা পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারাই দলের প্রকৃত সম্পদ। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।”

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহসিন ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদলের সদস্য সচিব খালেদ হোসেন চৌধুরী রাসেলের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন সাময়িক বরখাস্ত

ডেস্ক: সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়া কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। একই দিন প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে সুলতানা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি পুকুর নিজের নামে নামকরণ করেন ডিসি সুলতানা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় ওই বছরের ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। চোখ বেঁধে তুলে এনে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ডিসি অফিসে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালান তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।

পরে আরিফুলের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। কারামুক্ত হয়ে আরিফুল ইসলাম রিগান এ ঘটনায় মামলা করেন, যা পাঁচ বছর ধরে চলমান। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এবার বরখাস্ত হলেন সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন।

রাঙ্গুনিয়ায় ভুয়া পরিচয়ে অর্থ দাবির চেষ্টা, ওসির সতর্কবার্তা

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার।

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ফোন করে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বুধবার জানান, উপজেলার মরিয়ম নগর এলাকার এক ব্যক্তি, কোদালা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং সরফভাটার এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের কাছে ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে টাকা দাবি করার প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

তিনি বলেন, “বিষয়টি জানার পর ঐ নাম্বারগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় পাওয়া গেছে। উপজেলায় কারো কাছে এ ধরনের ফোন এলে তারা যেন সঙ্গে সঙ্গে থানাকে অবহিত করেন। আর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানায় জানান।”

তিনি আরও বলেন, “যে বা যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

চান্দগাঁওয়ে পুলিশ অভিযানে ছিনতাইকৃত সাড়ে ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকৃত মোট ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল ও টিপছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন জান আলী রেলস্টেশন এলাকায় রফিক স্টোর নামের একটি গোডাউনের সামনে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রথমে অভিযান চালিয়ে দুই আসামি— মো. সুমন (৩০) ও মো. আলী (৪৫) কে গ্রেফতার করে। তাদের হেফাজত থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি টিপছোরা এবং ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশের পৃথক অভিযানে লক্ষীপুরের চৌধুরীঘাট এলাকা থেকে আরো তিনজনকে— মো. রাকিব (৩২), মো. ফয়সাল (১৯) ও মোছা: কাজল আক্তার (২১)— গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা।

মোট উদ্ধার হওয়া টাকা ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

চান্দগাঁও থানার ওসি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ডাকসু নির্বাচন: ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ

সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ (ছবি: সংগৃগীত)।

ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েম নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের এস এম ফরহাদ।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।
জিএস পদে এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানবীর বারী হামিম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন খান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট।

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা যায়।এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন এবং ১৩টি ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার ছিলেন।

কেন্দ্রীয় সংসদে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া, ১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৩৪টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে চট্টগ্রাম ডিসির অভিনব গণশুনানি

ছবি: সংগৃহীত।

ডেস্ক: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রান্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলো গণশুনানি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নাগরিক সেবা বিষয়ক এ গণশুনানি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সাদি উর রহিম জাদিদ। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে কুসুমপুরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এসময় উত্থাপিত ২১টি বিষয়ের মধ্যে ২০টির নিষ্পত্তিকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসক। ভিক্ষুক ও গৃহহীন পুনর্বাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, সড়ক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হুইলচেয়ার প্রদান, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা – প্রধানত এসকল বিষয় উঠে আসে আজকের এই গণশুনানিতে। জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। তবে কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের এই অভিনব উদ্যোগ।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “টাইম-কস্ট-ভিজিট—জনগণের ভোগান্তি লাঘবে এই তিনটি বিষয় সহজীকরণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানির এই উদ্যোগ। মানুষকে সেবা পেতে দৌড়াতে হবে না, প্রশাসন তাদের দোরগোড়ায় যাবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।”

“স্থানীয়রা বলেন, জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ অভাবনীয়। মাঠপর্যায়ে এরকম গণশুনানি চলমান থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।”

মাদক-বান্ধব পুলিশকে ছাড় নয়: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার)। তিনি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রমাণসহ তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “পুলিশই যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের মতো মাদকের সঙ্গে ন্যুনতম সংশ্লেষ থাকা পুলিশের স্থান নরসিংদীর মাটিতে হবে না।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো পুলিশ অফিসার বা সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকলে ছোট্ট একটি ভিডিও বা অডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমি পক্ষপাতিত্বের লোক নই, আমি ন্যায়বিচারের লোক।”

তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে কোনো পুলিশ সদস্য বা তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মামলা, জিডি, তদন্ত, মোবাইল উদ্ধার, বিরোধ মীমাংসা বা ভিকটিম উদ্ধারের নামে টাকা দাবি করে, তবে তার প্রমাণ সংগ্রহ করে জানাতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “অল্প কিছু বিপদগামী পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনী কলঙ্কিত হয়। আপনারা যদি এসব অপরাধে চুপ থাকেন আর পরে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পুলিশ ঘুষ নেয়’ বলে পোস্ট দেন, তাহলে নীতিবান পুলিশ সদস্যরা কষ্ট পান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার নামে কেউ টাকা, মাসোহারা বা অন্য কোনো সুবিধা চাইলে প্রমাণ সংগ্রহ করে তার হাত-পা বেঁধে খবর দিবেন। সে পুলিশ, পাবলিক, সরকারি বা বেসরকারি লোক যে-ই হোক না কেন।”

জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তার সরকারি মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ): ০১৩২০০৯১৩৪৫।

শেষে এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, “আমরা সবাই মিলে যুগযুগের পচা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনব, ইনশাআল্লাহ।”

অর্থ নয়, প্লাস্টিক বর্জ্যেই মিলছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র নিজেই রোগী দেখেন এবং বিদ্যানন্দের চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, বিদ্যানন্দের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, এর আগে সংগঠনটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ করলেও এবারই প্রথম স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলো। তিনি বলেন, “কসমোপলিটন এলাকায় চালু হওয়া এ হাসপাতালটিতে গাইনি, চক্ষু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। থাকবে ল্যাব সুবিধা ও ফার্মেসি। চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধ ও পরীক্ষা দরকার হবে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়েই পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে এটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু হলেও সাড়া পেলে ধীরে ধীরে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিদ্যানন্দ জানায়, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পে তারা ২০০ মেট্রিকটন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইক্লিং করেছে।

 

আজ রাতের আকাশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: রক্তিম চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শনি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: আজ (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর) রাতেই ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ উপভোগ করবে এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে পেনুমব্রাল গ্রহণ। রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এবং স্থায়ী হবে রাত ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় চাঁদ রক্তিম আভায় রূপ নেবে, যা “Blood Moon” নামে পরিচিত। পূর্ণগ্রাস অংশ স্থায়ী হবে প্রায় ৮২ মিনিট। পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে। অর্থাৎ পেনুমব্রাল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ চলবে মোট প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চলাকালে আকাশে চাঁদের কাছেই দেখা যাবে সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শনি (Saturn)। এটি খালি চোখে উজ্জ্বল হলুদাভ বিন্দুর মতো দেখা যাবে। টেলিস্কোপ বা উন্নত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে শনির বলয় আংশিকভাবে দেখা সম্ভব।

অন্যদিকে, গ্রহ নেপচুন (Neptune) তখন আকাশে অবস্থান করলেও এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে হালকা নীলাভ একটি ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বহু দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে। সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে ইন্দোনেশিয়ার হিলা দ্বীপ থেকে শুরু করে আফ্রিকার কেনিয়ার মোম্বাসা উপকূল পর্যন্ত এলাকায়।

আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। তবে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে চাইলে বাইনোকুলার, ছোট টেলিস্কোপ কিংবা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আজ রাতের এই মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে পূর্ণিমা, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, রক্তিম চাঁদ ও শনির সৌন্দর্য উপহার দেবে। বিরল এ দৃশ্য উপভোগে তাই বিশ্ববাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।

সূত্র: NASA, BBC Sky at Night Magazine

চট্টগ্রামে জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস র‌্যালীতে পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— সাইফুল ইসলাম (১৩) ও আইয়ুব আলী (৬০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যালি চলাকালে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘুরে পড়ে যান তারা। এ সময় পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার সকালে চট্টগ্রামে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে ঐতিহাসিক জশনে জুলুছ শুরু হয়। ষোলশহরের আলমগীর খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ এর নেতৃত্বে হাজারও মানুষ এতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি নগরীর বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট ও জিইসি মোড় হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দানে গিয়ে মাহফিল ও জোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা ৫৪তম জশনে জুলুস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা’ দরুদ পাঠ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন মুরাদপুর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সকাল ৯টায় আলমগীর খানকাহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ ও সৈয়্যদ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ্ ।

শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শরিয়তসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে ড্রাম সেট বাজানো, নারীর অংশগ্রহণ এবং খাবার নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

টাইফয়েড টিকা: সুরক্ষার এক অনন্য হাতিয়ার

ডা. এম এ মোরশেদ (ছবি: সংগৃহীত)

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে টাইফয়েড টিকা দেওয়া শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক কিংবা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—“এই টিকা কেন দিতে হবে? কোনো ক্ষতি হবে না তো?”

আর এসব বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক নিজের ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তোলে ধরেন ডা. এম এ মোরশেদ।

“সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেন। তার পোস্ট থেকে নেওয়া মূল অংশগুলো নিচে প্রকাশ করা হলো।”

তিনি জানান, টাইফয়েড টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া হয় টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করার জন্য।
টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত, পানি ও খাদ্যবাহিত সংক্রমণ, যেটি Salmonella Typhi জীবাণুর কারণে হয়।

কেন টিকা জরুরি?
রোগ প্রতিরোধ: টিকা শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, ফলে জীবাণু প্রবেশ করলেও গুরুতর সংক্রমণ হয় না।

জটিলতা থেকে সুরক্ষা: টাইফয়েড হলে অন্ত্রের আলসার, রক্তক্ষরণ, এমনকি অন্ত্র ফেটে গিয়ে জীবনহানির ঝুঁকি থাকে। কিছু শিশুর মস্তিষ্কেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স রোধ: বর্তমানে অনেক টাইফয়েড জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে গেছে। এতে চিকিৎসা কঠিন হচ্ছে। টিকা এ ঝুঁকি কমায়।

প্রাদুর্ভাব:
বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে পানি ও খাদ্য দূষণের কারণে টাইফয়েড একটি সাধারণ রোগ।

ভ্রমণকারীদের সুরক্ষা: যেসব দেশে টাইফয়েড বেশি হয়, সেখানে ভ্রমণের আগে টিকা নেওয়া জরুরি।

কে টিকা নেবে?
ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাসকারী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকেই টিকা দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশে শিশুদের জন্য সরকারিভাবে এটি চালু হতে যাচ্ছে।

কিভাবে দেয়া হয়?
ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা দেয়া হয়। একবার নিলে কয়েক বছরের জন্য সুরক্ষা পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য ২–৩ বছর পর পর পুনরায় নিতে হয়।

বাংলাদেশে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই শিশুদের সরকারি ভাবে টাইফয়েড এর টিকা দেওয়া হবে, এই সুবিধা গ্রহণ করার আহবান জানান তিনি। এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে টিকা গ্রহণের দিন বাচ্চা অসুস্থ থাকলে ঐদিন টিকাদান বিরত রাখতে হবে।

ডা. এম এ মোরশেদ
সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ।

“ঢাবি এজিএস প্রার্থী আশরেফার জীবনের দুঃখের গল্প”

“আশরেফা খাতুনের ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ছবি”

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আশরেফা খাতুন একজন এজিএস প্রার্থী। তার ব্যালট নং – ৫। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি হঠাৎ তার জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তার রিকশাওয়ালা পিতাকে স্মরণ করেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন, যা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো।”

আমরা যখন অনেকটা ছোট তখন আব্বুর অনেক বড় লস হয়। টাকাপয়সার প্রচন্ড টানাটানি। ঢাকায় থাকতাম তখন। আপু স্কুলে যায়। আমি তখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করি নাই। তিনটা ছেলেমেয়ের খরচ চালানো, পড়াশোনার পরিবেশ রাখার জন্য আমার আব্বু এই ঢাকা শহরে রিকশা চালানো শুরু করে। আম্মু গার্মেন্টসে চাকরি করেছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টেষ্ট পর্যন্ত। তারপরও খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে যেতো বলে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আব্বু-আম্মু ঢাকায় থাকতো। আম্মুকে কখনো কাছে পাই নাই। নানু যতদিন বেঁচে ছিল তার কাছেই বড় হয়েছি। আপু পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের দেখতো। আম্মু সাথে না থাকার কারণে কত মানুষের কত কটু কথা যে শুনেছি! এমনও হয়েছে যে বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলাম আমি আর আপু। এখনো গ্রামে গেলে পুরোনো অভ্যাসবশত ঘর থেকে বের হতে মনে চায় না। আপু বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে চলে গেল খুলনায়। আমি তখন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। রান্নাবান্না করে রেখে পরীক্ষা দিতে যেতাম। কলেজে ভর্তি হলাম যখন তখন ঘরের কাজ, চারটা ব্যাচ টিউশন, নিজের কলেজ, ধানের মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই-সিদ্ধ সব করতাম আব্বুর সাথে মিলে। সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতাম। উঠেই টিউশনে যেতাম। রাইস কুকারে আব্বু ভর্তা-ভাত তুলে দিতো। কিন্তু আমি আর খাওয়ার সময় পেতাম না। তাড়াহুড়ো করে নিজে যেতাম স্যারের কাছে পড়তে। কলেজে ক্লাস করে দুইটার মধ্যে বাড়ি ফিরতাম। এসেই রান্নার প্রস্তুতি। এরমধ্যে স্কুলের টিফিন টাইমে আরেকটা ব্যাচ আসতো পড়তে। তাদের পড়ানো শেষে রান্না করতাম। স্কুল ছুটি হতে হতে আরেকটা ব্যাচ আসতো। কতদিন এমন হয়েছে যে তরকারি চুলায়, স্টুডেন্টরা চলে আসছে। আব্বু দোকান বন্ধ করে এসে তরকারি নামাতো। আমি ব্যাচ শেষ করেই আরেকটা টিউশনে যেতাম। দুপুরেও খাওয়া হতো না। একদম সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গোসল, খাওয়াদাওয়া করতাম। আমার ওজন কমে ৪০-৪২ কেজি হয়ে গিয়েছিল। এডমিশন পর্যন্ত এভাবেই চলেছে। পানি আনতে কতদূর যাওয়া লাগতো। কলসটা কোমরে করে আনতেও মনে হতো পাহাড়সম ওজন।

আম্মু বাড়িতে আসার পরে একটু রান্না করা খাবার, একটু যত্ন পেয়েই মারাত্মক জ্বর এসে পড়লো একদিন। যত্ন পেয়ে অভ্যাস ছিল না। তখন বারবার কমলা খেতে চাইতাম। কিন্তু কমলা কিনে আনার মতোও সামর্থ্য ছিল না আমাদের। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমাকে আর একটা ঈদে জামা কিনে দিলো না আম্মু। খুব কেঁদেছিলাম সেইবার। আমি পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি প্রতিটা পরীক্ষায় সরকারি বৃত্তি পেয়েছি। ওই টাকায় পরেরবার থেকে ঈদের ড্রেস বানাতাম। স্কুল ড্রেস ছিঁড়ে গেলেও বলতাম না, সেলাই করে পরতাম। সেল্ফ এমপাওয়ার্ড হওয়া শুরু আমার তখন থেকে। এডমিশনের সময় পড়া, ঢাকা আসা, ফর্ম তোলা সব আমার টিউশনের টাকায় করেছি। ভর্তির সময় অবশ্য দুইজন বড় ভাই হেল্প করেছেন। তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ আমি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম, কিন্তু আব্বু ভর্তি হতে দিতে রাজি না। কারণ খরচ দিতে পারবে না। আমি জিদ করলাম। গ্রামে থাকতেই ঢাকায় টিউশন ম্যানেজ করে এসেছিলাম। ৩৫০০ টাকা, সপ্তাহে ৪ দিন, সব সাবজেক্ট। আমার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি। ওই টাকা দিয়ে নিজে চলতাম। বাড়িতে টিউশনের টাকা পাঠাতাম। সেই যে শুরু, এখনো চলছে। বাড়িতে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে না পারলে মন খচখচ করে এখনো। আপু সরকারি চাকরি করে এখন। তাও আমি সংসারের সিংহভাগ খরচ চালানোর চেষ্টা করি এখনো। আব্বু-আম্মু যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন ইনশাল্লাহ আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো।

এতখানি বলার কারণ হলো এটা বোঝানো যে আমি মোটামুটি বুঝতে শেখার পর থেকেই স্বাধীনচেতা। ডিপেন্ডেন্ট না থাকার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমি ভাবতাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হবে আত্মমর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু বাধ সাধলো ভর্তির অল্প কয়েকদিনের মাথায়। দেখলাম আমার এক বন্ধুর পায়ে ঘায়ের মতো হয়ে গিয়েছে ছারপোকার কামড়ে। জিজ্ঞেস করলাম এত বাজে অবস্থা হওয়ার কারণ। বলল, ৬ জনের রুমে ৪২ জন থাকে। এটাকে গণরুম বলে। দেখতাম ওরা ক্লাস শেষেই হলে ফিরতো। বলতাম আড্ডা দিতে। কিন্তু ওরা না কি রাতে ঘুমাতে পারে না, দিনের বেলা রুমে একটু জায়গা পাওয়া যায় ঘুমানোর। রাত হলেই বড় ভাইরা ওদেরকে রুম থেকে বের করে দিতো। ওদের বলতো হাতিরঝিল,শহীদ মিনারে ঘুরে বেড়াতে। ওদেরকে গেস্টরুমে গালিগালাজ করতো। আমার বন্ধু ইফাজ একদিন বলেছিল, ওর মৃত বাপকে নিয়েও গালি দেয় গেস্টরুমে।
আমার মতো স্বাধীনচেতা,প্রায় মুক্ত মানুষের জন্য এটা ছিল স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার মতো। সেদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম-গেস্টরুম সহ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু। আস্তে আস্তে দেখলাম আমার মতো আরো মানুষ আছে। আখতার ভাই ছিলেন আমার জন্য অনুপ্রেরণা। ওনাকে আমি প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই। সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিল আন্দোলনে যখন ভাইয়ের উপর ছাত্রলীগ হামলা করে তখনো ওনাকে বাঁচাতে আমরা ছয়টা মেয়ে ছুটে গিয়েছিলাম। যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আখতার হোসেনদের মাইর খাওয়া লাগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেমের বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছি। এখনো বলছি, ভবিষ্যতেও বলবো ইনশাল্লাহ। আমার রিকশাচালক বাবা আমাকে বলেছে, ‘পেটে ভাত না থাকলেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়’

এখনো মাথা উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা চলমান। দোয়া রাইখেন সবাই।

আশরেফা খাতুন
এজিএস পদপ্রার্থী
ব্যালট নং ০৫
ডাকসু নির্বাচন-২০২৫