ফটিকছড়িতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় জমিতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পানিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরাচান গ্রামের ফটিকছড়ি বিলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মো. হাসেম (৪৫) ও মো. ইউনুস (৩৫)। তারা দুজনই দৈনিক মজুরিভিত্তিক কৃষিশ্রমিক ছিলেন। হাসেম উত্তর ভূজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে এবং ইউনুস একই এলাকার মাহবুবুল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ফটিকছড়ি বিলে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন হাসেম ও ইউনুস। এ সময় বিলের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের একটি খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার জমির পানিতে পড়ে ছিল। কাজ করার একপর্যায়ে তারা বিদ্যুৎবাহী পানির সংস্পর্শে এলে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্বের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। পরে স্থানীয় লোকজনই দুই কৃষিশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহীম বলেন, ঘটনাস্থলেই দুই কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের মৃত্যুর ১১ দিনের মাথায় না ফেরার দেশে মা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: ওমানে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসী মো. জামালের (৩৯) মৃত্যুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় ইন্তেকাল করেছেন তাঁর মা।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জামালের মা আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে ওমানে কর্মরত ছেলের দুর্ঘটনার খবর, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

শনিবার দুপুরের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থতা অনুভব করলে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমান। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় নিচে পড়ে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন।

চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ৭ জুলাই নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে আসে আরেকটি শোক। অল্প সময়ের ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা সহজলভ্য করতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য করা।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কার্ডও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

প্রবাসী কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে:
প্রবাসী কার্ডধারীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট (Meet & Greet) সুবিধা।

বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।

দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা।

সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়।

কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা।

প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।

জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার।

রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ লেনদেনের সুযোগ।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার।

পর্যায়ক্রমে বিতরণ:
বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট ৬ ইঞ্চি খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু

কাপ্তাই (রাঙামাটি) : কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ছিল ১০৪ দশমিক ০৮ এমএসএল (মিন সি লেভেল)। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় পানির স্তর আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জলকপাট খোলা হয়েছে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, “হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে। ইনফ্লো আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়েও নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

এদিকে স্পিলওয়ে খুলে দেওয়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ইসলামী ফ্রন্ট, নগদ সহায়তা বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় অতিবৃষ্টিজনিত পাহাড়ধসে নিহত এক পরিবারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকটি পরিবারের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে সাবেক মোমবাতি প্রতীকের পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট এম. ইকবাল হাছান।

এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি করিম উদ্দিন হাছান, সহসভাপতি আখতার হোসেন, পৌরসভা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুর রহিম, উপজেলা নেতা মীর মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সহসভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন, প্রবাসী গাউছিয়া কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, ওয়ার্ড সভাপতি তৌলত হোসেনসহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এর সহযোগী সংগঠন এবং প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সাধ্যমতো সহায়তা প্রদান করে যাবে।

লালানগরে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াতের খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মিনহাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা শওকত হোসেন, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি মহিউদ্দিন বাবু, লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শরীফ চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিশান, মুমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। দুর্যোগের এ সময়ে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

 

হালদায় ভাসছে মৃত গরু, দূষণের শঙ্কা

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মৃত প্রাণী ফেলার ঘটনায় পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ নদীর মাঝস্রোতে একটি মৃত গরু ভাসতে দেখা যাওয়ায় পানির গুণগত মান এবং নদীর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ চৌমুহনী এলাকায় স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান মৃত গরুটি দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড় আকৃতির গরুটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবে কে বা কারা এবং কোন এলাকা থেকে মৃত প্রাণীটি নদীতে ফেলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু অসচেতন ব্যক্তি নিয়মিত নদীতে মৃত প্রাণী ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলায় হালদার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাদের মতে, এভাবে মৃত প্রাণী নিক্ষেপের ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও মাছের স্বাভাবিক প্রজননও ব্যাহত হতে পারে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও হালদা গবেষক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হালদা নদী রুইজাতীয় মাছের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। নদীতে মৃত প্রাণী বা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, যা মাছের বিচরণ, প্রজনন এবং পুরো নদীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর দুটি টিম ঘটনাস্থল শনাক্তের চেষ্টা করছে। মৃত গরুটির অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত উদ্ধার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিএনপি জনগণের সরকার, আমরা মানুষের পাশেই আছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চকরিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “বিএনপি জনগণের সরকার। তাই জনগণের দুর্দিনে সরকার সবসময় মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ও বরইতলী ইউনিয়ন, চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোচপাড়া মজিদিয়া মাদ্রাসা এলাকাসহ মাতামুহুরী নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারি, বেসরকারি ও দলীয়ভাবে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি যেসব পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সরকারি জরিপ চলমান রয়েছে। রাস্তা-ঘাট, বেড়িবাঁধ, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গবাদিপশু, কৃষিজমি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে রান্না করা খাবারের প্রয়োজন ছিল সেখানে তা সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে শুকনো খাবার, খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও সরকারি, বেসরকারি এবং দলীয় উদ্যোগে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে সকালে সড়কপথে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, চকরিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুদ্দীন ফরায়েজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম, সাজ্জাদুল কবির চৌধুরী, সাবেক প্যানেল মেয়র শহিদুল ইসলাম ফোরকান, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কুতুবউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহেদুল মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুল কবির চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) তিনি নির্বাচনী এলাকার অপর অংশ পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন।

কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন চার কোটি কৃষক

পটিয়া (চট্টগ্রাম): কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের মধ্যম কচুয়াই ব্লকে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন। কৃষক কার্ড চালু হলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষি খাতে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পাবেন।

তিনি জানান, কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে জমির মালিকানার ভিত্তিতে কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে প্রি-পাইলটিং, দ্বিতীয় ধাপে পাইলটিং এবং সর্বশেষ পর্যায়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে সারাদেশে কৃষক কার্ডের জন্য ৪৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রকৃত কৃষকদের কাছে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে সর্বোচ্চ নির্ভুলতা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রহিম, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকেরা।

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শনিবার কাপ্তাই বাঁধে স্পিলওয়ে খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি, সতর্ক থাকার আহ্বান

কাপ্তাই (রাঙামাটি): কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ১৮ জুলাই (শনিবার) বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।

বৃহস্পতিবার কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্পিলওয়ে খোলার সময় পরিবর্তন হতে পারে। পাশাপাশি উজান থেকে পানির প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেটের উচ্চতা বাড়িয়ে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হবে।

বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য পানি ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দা, জেলে এবং নৌযান চলাচলকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

 

হাসিমুখে মানবতার সেবা: দীঘিনালায় বন্যাকবলিত পাঁচ শতাধিক মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : বন্যার দুর্যোগে যখন দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যাকবলিত পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দ্য বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকায় দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা দেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন। তিনি প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যার পর শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিয়েছে। জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীঘিনালা জোন পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

 

খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী, বললেন—‘প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, আপনারা কেমন আছেন’

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে প্রতিমন্ত্রী খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা এবং দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় আপনারা অনেক কষ্টের সময় পার করেছেন। বন্যার প্রথম দিন থেকেই জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আপনাদের পাশে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে চান আপনারা কেমন আছেন। তাই আমাকে আপনাদের খোঁজখবর নিতে পাঠিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা কখনো নিজেদের একা ভাববেন না বা দুর্বল মনে করবেন না। আপনারা যাকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছেন, সেই সরকার সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।”

পরিদর্শনকালে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

জাতীয় মঞ্চের পথে রাঙ্গুনিয়ার পায়েল, উৎসাহ যোগালেন এমপি হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উদীয়মান সাঁতারু পায়েল নাথ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ে সাঁতারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবে সে।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পায়েল নাথ। এ সময় এমপি তার সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় আসরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রাঙ্গুনিয়ার মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।

এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “তরুণ প্রজন্মের খেলাধুলা ও মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে সফল হয়ে রাঙ্গুনিয়ার জন্য গৌরব বয়ে আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

রাঙ্গুনিয়ার মতো একটি উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে একজন সাঁতারুর উঠে আসাকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।

পায়েলের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রম পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সাঁতার ইভেন্টের প্রধান সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব বলেন, “উপজেলা পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পায়েলের সাফল্যের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ, প্রশিক্ষকদের নিবিড় পরিশ্রম, অভিভাবকদের উৎসাহ এবং আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পায়েল জাতীয় মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।”

পায়েলের ক্রীড়া শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রত্যাশা, জাতীয় প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে পায়েল নাথ শুধু একটি পদকের জন্যই লড়বে না; বরং পুরো রাঙ্গুনিয়ার স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করবে। তার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।”

এখন রাঙ্গুনিয়াবাসীর দৃষ্টি ২৫ জুলাইয়ের জাতীয় প্রতিযোগিতার দিকে। সবার প্রত্যাশা, নিজের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় মঞ্চেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে পায়েল নাথ এবং রাঙ্গুনিয়ার জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবে।

 

জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে রাঙ্গুনিয়ায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাঙ্গুনিয়া গড়ে উঠবে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে জুলাই শহিদ দিবস পালন করা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাদের তালিকা পাওয়া গেলে স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে একটি স্মারক প্রাঙ্গণ গড়ে তোলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শহিদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

‘রাঙ্গুনিয়ার মানুষই রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি, আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি’ — হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি উপজেলার পদুয়া, কোদালা, শীলক ও সরফভাটা ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্ট, যা পরে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও শেয়ার করা হয়, সেখানে তিনি এসব তথ্য জানান। পোস্টের সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের একটি ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।

পোস্টে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা কাছ থেকে শুনেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এই দুর্যোগের ক্ষতি একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা যত দ্রুত একসঙ্গে কাজ করব, তত দ্রুত রাঙ্গুনিয়া আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

দুর্যোগ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিএনপির নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সর্বোপরি রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ সামনে দিনগুলোতেও থাকব। রাঙ্গুনিয়ার মানুষই রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিওতে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শনের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়।

 

পটিয়ার আশিয়ায় বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিএনপির খাদ্য সহায়তা

চট্টগ্রাম : সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত ও অসহায় এক হাজার পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে আশিয়া বায়তুন্নুর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে আশিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন মানিক বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। আশিয়াসহ পটিয়ার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুল আলিম মেম্বার বলেন, বন্যার কারণে অনেক পরিবারের ঘরে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এই সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি এনে দেবে। তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সহায়তা পাওয়া আশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, বন্যার পানিতে ঘরের চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। এই ১০ কেজি চাল কয়েকদিনের খাবারের চিন্তা দূর করবে। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার, আশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমেদ, বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর, ফারুক খন্দকার, আকতার কামাল, মঈনুদ্দিন চৌধুরী, সোলেমান চৌধুরী, ইমন চৌধুরী, যুবদল নেতা আবছার, হেলাল মেম্বার, আবদুল হান্নান, সাজ্জাদ হোসেন, সাহাব উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোবিনুল হক, পারভেজ মেম্বার, শাহাদাত, মিন্টু, আব্দুর রহিম, নেজাম উদ্দিন চৌধুরী, এনাম, ছাত্রদল নেতা আসিফ, আরমান হোসেন চৌধুরী, কামাল উদ্দিন, ইমনসহ আশিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

শিক্ষা ও সবুজের বার্তা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় এমপি হুমাম কাদেরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাঙ্গুনিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়ার বিআইজেডএইচ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব। ভবিষ্যতের মন্ত্রী-এমপি হয়তো আজ এখানেই বসে আছে। তাই এখন থেকেই বেশি করে পড়ালেখা করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল গফুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ।

সংসদ সদস্য বলেন, রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় একটি ভালো টিম নিয়ে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুশিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে দক্ষ পেশাজীবী, সফল উদ্যোক্তা কিংবা যোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী।

এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিহত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ হাসান মুরাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মোহাম্মদ শওকত হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আগে উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সরোয়ার হোসেন।

বক্তারা সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কর্ণফুলীতে ড্রেজার দেখে ক্ষুব্ধ এমপি, ড্রেজার জব্দসহ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও নদীর তীরে বালুর স্তুপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ড্রেজারটি জব্দের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার আজিজনগর এলাকায় পাহাড়ধস ও ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। পথে সরফভাটা গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন ভূমিরখীল এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে বালুর স্তুপ এবং নদীতে একটি ড্রেজার তাঁর নজরে আসে।

পরে তিনি গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁর নির্দেশে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবহৃত ড্রেজারটি জব্দের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।

এরপর সংসদ সদস্য বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরফভাটা ও শিলক ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা গত কয়েকদিন ধরে পরিদর্শন করছেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

হাঁটুসমান কাদা ও নৌপথ পেরিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে ৭ বিজিবি

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাঁটুসমান কাদা ও নৌপথ পেরিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ৭ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। খাদ্য ও চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত পাহাড়ি পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেছেন বাহিনীটির সদস্যরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজের নেতৃত্বে একটি দল দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের দুর্গম লক্ষিকার্বারী পাড়ার পাকুইজ্জাছড়া এলাকায় পৌঁছে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। একই সঙ্গে ছোট মেরুং এলাকার চিটাইংগা পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়।

ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাটালিয়নের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন এম. আবদুল্লাহ আল-মামুন (এএমসি) অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেন।

ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলাকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজ বলেন, “বিজিবি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনে সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় দুর্গম এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় আমরা মাঠপর্যায়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এরই অংশ হিসেবে খাদ্য ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা জ্ঞানো চাকমা বলেন, “প্রতিবছর বন্যা হয়, কিন্তু আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না। এবার বিজিবি এসে আমাদের খাদ্যসহায়তা, চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছে। এজন্য আমরা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞ।”

৭০ বছর বয়সী লক্ষী চাকমা বলেন, “আমার পায়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘা। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। বিজিবি এসে ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছে। এতে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।”

এ সময় বাবুছড়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (পিবিজিএমএস) মোহাম্মদ ইমরান হোসেনসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিডিপি সদস্যরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

দুর্গম পাকুইজ্জাছড়ার বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে যখন ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে যায়, তখন তাদের মুখের হাসিই প্রমাণ করে—দুর্যোগের সময়ে সামান্য মানবিক সহায়তাও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে কতটা মূল্যবান।

 

বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরেও বাঁচতে পারেননি সোলেমান, দুই দিন পর মিলল মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া মো. সোলেমানের (২০) মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোলেমান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হালিম বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে যায়। আমি জানতাম, আমার ভাই সাঁতার জানে না। তাই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু নৌকাটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

সোলেমান নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে কর্ণফুলী নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে সোমবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হলে সেটি সোলেমানের বলে শনাক্ত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু নদীর স্রোত বেশি থাকায় সেদিন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাই। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

দুর্যোগেও থেমে নেই সওজ, সচল রাখা হচ্ছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় যখন চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ আশপাশের এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত, তখনও চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভারী যানবাহনসহ সব ধরনের যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা দ্রুত ইট, খোয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব গর্ত চালকদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মাইক্রোবাস মালিক জিয়াবুল হক বলেন, “টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার মধ্যেও সড়ক বিভাগের লোকজন মাঠে নেমে কাজ করছেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”

ট্রাকচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, “মহাসড়কে গর্ত থাকলে ভারী যানবাহন চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দ্রুত মেরামতের কারণে এখন চলাচল অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা বর্ষণে মহাসড়কের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক সচল রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের এ সময়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সড়ক দিয়েই ত্রাণবাহী যানবাহন, জরুরি চিকিৎসাসেবার গাড়ি, উদ্ধারকারী দল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ফলে দ্রুত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ শুধু জনদুর্ভোগ কমাচ্ছে না, ত্রাণ ও জরুরি সেবাও নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের দক্ষিণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জারটেক থেকে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত একাধিক স্থানে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যান চলাচল ব্যাহত না হওয়া এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করছি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরও টেকসই সংস্কারকাজ করা হবে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও মহাসড়ক সচল রাখতে আমাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে যুবদলের ত্রাণ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরীর উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যুবদলের রাজনীতির অন্যতম অঙ্গ। মানবিক, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউসুফ কামাল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরী, হোছনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাছের টিপু, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার হোসেন, হোসেন মেম্বার, মির্জা মহিউদ্দিন, মো. নুরুন্নবী, মো. খোরশেদ, জসিম উদ্দীন, নাজিম উদ্দীন ও মো. রাশেদ।

এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বিএনপির সদস্যরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

আয়োজকরা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় শৌচাগারের পানি নিয়ে বিরোধ, মারধরে যুবকের মৃত্যু; আটক ২

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে শৌচাগারের পানি উঠান দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে মো. ওবায়দুল (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া ব্রিজঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠান দিয়ে শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওবায়দুলকে তাঁর চাচা ও চাচাতো ভাইরা কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন।

নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “চাচাদের বাড়ির শৌচাগারের ময়লা ও বৃষ্টির পানি ছাড়াকে কেন্দ্র করে আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তারা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। কাঠের বাটামের আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। বাথরুমের পানি উঠান দিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়রা জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।”

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের পাশে যুব ফোরাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গ্রামে পাহাড়ধসে নিহত এক নারীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরাম। একই সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

পরে ইছাখালী আদর্শ গ্রাম ও আশপাশের এলাকার প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে চাল, ডালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ডা. এ টি এম রেজাউল করিম, সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে পাহাড়ধসে নিহত নারীর মাগফিরাত কামনা এবং টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় একটি সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে। এতে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে সেতুটি ধসে পড়ে। সেতুর একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সড়কের দুই প্রান্তে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে ওই এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ছিল। পানির প্রবল চাপে প্রথমে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। পরে গভীর রাতে পানির তোড়ে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে।

যদিও সেতুটির অবস্থান রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়, তবে এটি বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন সেতু ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বান্দরবান থেকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে তলিয়ে থাকায় তাদের দল এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে দ্রুত একটি বেইলি সেতু স্থাপনের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

 

বড় ভাইকে আঁকড়ে ধরেও শেষ রক্ষা হলো না সোলেমানের, কর্ণফুলীতে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে ভাসমান লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিঙ্গি নৌকা ডুবে মো. সোলেমান (২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা দ্রুত আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান।

উদ্ধার হওয়া আব্দুল হালিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। হঠাৎ নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেলে আমি দ্রুত লাফ দিয়ে নৌকায় ওঠার চেষ্টা করি, কারণ জানতাম আমার ভাই সাঁতার জানে না। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটি ধরতে পারলে হয়তো ভাইকেও বাঁচানো যেত। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

নিখোঁজ সোলেমান ও উদ্ধার হওয়া আব্দুল হালিম উপজেলার পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে বিশেষ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানো হলেও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে প্রবল স্রোতে সোলেমানকে অনেক দূরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খবর দেওয়া হয়েছে। কোথাও তার সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি বাঁশখালী, সাতকানিয়া এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই তিনি বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় যান। সেখানে বন্যার্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নেন। এ সময় তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাঁশখালী সফর শেষে তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা এবং পরে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওসহ জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শনকালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপিসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

দীঘিনালায় বন্যার তৃতীয় দিনেও পানিবন্দি প্রায় ৫ হাজার মানুষ, লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার তৃতীয় দিনেও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, দুই দিন পর দীঘিনালা-সাজেক সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়ক এখনো পানির নিচে থাকায় রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে সড়কের পানি কমে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সকালে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ জন পর্যটককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে ১০১টি যানবাহনে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়ক এখনো পানির নিচে থাকায় লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকবে।”