মায়ের জন্য পাওয়া ভালোবাসা ছড়িয়ে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের মাঝে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মায়ের কঠিন অসুস্থতা, পরিবারের আর্থিক সংকট আর সেই দুঃসময়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা—জীবনের এমন এক কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেই মানবসেবার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান তরুণ সমাজসেবক আলভী জিগার। সেই অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে গড়ে তোলেন ‘রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন’। এক বছরের পথচলায় সংগঠনটি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুধাগাজী পাড়ার সন্তান আলভী জিগার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি এক বছর পূর্ণ করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।

আলভী জিগারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তাঁর মায়ের দুটি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। মায়ের গুরুতর অসুস্থতায় আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে তাঁর পরিবার। সেই কঠিন সময়ে বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের পাশে দাঁড়ান। সবার সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দোয়ায় মহান আল্লাহর রহমতে তাঁর মা সুস্থতা ফিরে পান বলে জানান তিনি।

জীবনের সেই সংকটময় অভিজ্ঞতা আলভী জিগারকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন, যাঁরা অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিপদের সময় অনেকের পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজন বা সহযোগীও থাকেন না। এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন’।

এক বছরে শতাধিক মানবিক উদ্যোগ

প্রতিষ্ঠার পর গত এক বছরে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তদান ও রক্তের ব্যবস্থা, অসচ্ছল ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

সংগঠনটির এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। বিশেষ করে চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে অর্থসংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সংগঠনটি।

মানবিক কাজের পরিধি বাড়ানোর প্রত্যয়

এক বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চায় রাঙ্গুনিয়া মানবসেবা ফাউন্ডেশন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিতে রূপান্তর করার এই উদ্যোগ তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, মানবসেবা কেবল আর্থিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনের মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই মানবিকতার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।

মায়ের অসুস্থতার সময় পাওয়া মানুষের সহযোগিতা থেকে যে মানবিক পথচলার সূচনা, সেই পথচলাকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এখন আলভী জিগার ও তাঁর সংগঠনের লক্ষ্য।

সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন

রাঙ্গুনিয়া টুডে অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে চার ঘণ্টারও কম সময়ে ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পরিদর্শন শুরু করে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন স্থানের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন।

পরে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন। অন্যদিকে, আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের একপর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকের কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

আকস্মিক এসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গ্রাম্য চিকিৎসায় মেলেনি সুফল, হাসপাতালের বারান্দায় চলছে বাছুরের চিকিৎসা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক বছর বয়সী একটি বাছুরের চিকিৎসা চলছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। প্রায় ১৫ দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাছুরটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন কৃষক আবদুল সাত্তার। বর্তমানে বাছুরটিকে স্যালাইন দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

‎সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বারান্দায় স্যালাইন চলা অবস্থায় বাছুরটিকে দেখা যায়। এ সময় বাছুরটির পাশে বসে ছিলেন কৃষক আবদুল সাত্তার। তিনি উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম ভূমির খীল এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎আবদুল সাত্তার জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে বাছুরটির ডায়রিয়া শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং দিন দিন অবনতি হতে থাকে। পরে রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বাছুরটির চিকিৎসা শুরু হয়।
‎
‎তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বাছুরটিকে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন। বর্তমানে স্যালাইন চলছে। বাছুরটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই বাছুরটির স্ট্রং ডায়রিয়া হয়েছে। গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে ১৫ দিন চিকিৎসা করিয়েছেন। এতে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এখানে নিয়ে এসেছেন। ডাক্তাররা দেখছেন এবং ওষুধ দিয়েছেন। এখন স্যালাইন চলছে। আজ একটু উন্নতির দিকে।”
‎
‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের লোকবল কম। পুরো উপজেলা কাভার দিতে পারি না। গ্রাম্য ডাক্তার যারা আছেন, তাঁরা চিকিৎসা করেন, কিন্তু তাঁদের তেমন প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ না থাকায় তাঁদের ভুল হয়। আমরা তাঁদের বলি, তোমাদের হাতে যদি এ ধরনের পেশেন্ট আসে অথবা বুঝতে না পারো, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কিন্তু তাঁরা যোগাযোগ করেন না। যোগাযোগ না করে নিজেদের মতো চিকিৎসা করেন। চিকিৎসায় ভুল করেন। অনেক সময় রোগ দীর্ঘায়িত হয়। সময়ক্ষেপণ করায় দেখা যায়, যে প্রাণীটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেটি মৃতপ্রায় হয়ে যায়। আমাদের হাসপাতালে আসেন শেষ সময়ে। অনেক সময় তখন বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “এসব ক্ষেত্রে গ্রাম্য ডাক্তারদের সামাজিকভাবে সতর্ক করা দরকার এবং জনগণকেও সচেতন হওয়া দরকার। কারণ, তাঁদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। এখন তো মানুষ জানে কোথায় চিকিৎসা পাওয়া যায়, কোথায় হাসপাতাল আছে। আগের মতো তো নেই, এখন যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো। আমরা চাই, জনগণ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক। আমাদের ডাকলেই পাবে।”
‎
‎বাছুরের ডায়রিয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সাধারণত বাসি খাবার খাওয়ানোর কারণেই হয়ে থাকে। চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরি করা খাবার দিলে সেই খাবার খেয়ে হজমে সমস্যা হয়, ফুড পয়জনিং হয়। এতে প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিষ্কার খাবার ও পানি নিশ্চিত করতে হবে। এতেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন খামারি, কৃষক ও ছোট উদ্যোক্তারা।”
‎
‎গবাদিপশু অসুস্থ হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
‎

শিশুদের নিরাপদ সড়কের পাঠ দিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন—সচেতনতায় এগিয়ে আসুক আগামীর প্রজন্ম’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিশুদের নিরাপদ সড়ক চলাচল, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএমের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), টিআই (প্রশাসন), হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি জোনে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাস্তা পারাপারের সঠিক নিয়ম, ফুটপাত ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারসহ সড়কে চলাচলের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চলাচলের বিভিন্ন নিয়ম তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। নিজেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের মানুষকেও সচেতন করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়।

সড়ক নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া, শিক্ষক ও বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়িয়ে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সময় দেওয়ার বিষয়েও তাদের উৎসাহিত করা হয়।

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়। শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও পুলিশের এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদারে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বর্ণিল আয়োজনে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির আত্মপ্রকাশ

চট্টগ্রাম : ‘ক্রীড়াই মানসিকতা এবং শারীরিক বিকাশের অন্যতম নিয়ামক’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমি। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি বর্ণিল আয়োজনে একাডেমিটির উদ্বোধন করা হয়।

কিষোয়ান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম শহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ও প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনতে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

অনুষ্ঠানে বনফুল-কিষোয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একাডেমির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি বলেন, “তরুণদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার পরিধি বাড়াতে হবে। বনফুল-কিষোয়ান পরিবার সবসময় ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রমের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু ও সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম. ওয়াহিদ দুলাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস কাউন্সিলর কাজী জসিম উদ্দিন, বনফুল কোম্পানির জিএম আমান উল আলম, বনফুল লিমিটেডের জিএম শাহ কামাল মুস্তফা, বনফুল লিমিটেডের (মার্কেটিং) জিএম কামাল হোসেন, বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির ডিজিএম আরিফুর রহমানসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে এই একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার উঠে আসবে। তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের সুনাম বয়ে আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং এর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৯ জন জনবল পদায়নের সিদ্ধান্ত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রয়োজন অনুযায়ী ৯ জন জনবল পদায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসেছি। হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ জন জনবল পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের যেসব হাসপাতাল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে উন্নতমানের প্যাথলজি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য ১০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে পটিয়া হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে প্রতিদিন ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং ভর্তি রোগীদের খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। ভর্তি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা হাসপাতাল থেকেই করার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতার বিষয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে গাইনি, সার্জারি, চক্ষু ও অ্যানেস্থেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগে ৯ জন জনবল পদায়নের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে রেডিওগ্রাফার, ল্যাব টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ ও বাবুর্চি পদও রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পটিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন এবং ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি হন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলার পাচুরিয়াস্থ একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

বিশ্ব হার্ট দিবসে পার্কভিউ হাসপাতালে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

চট্টগ্রাম : বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি এবং জরুরি সময়ে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘Don’t Miss A Beat’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচির প্রথম দিন ২৯ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঙ্গণে বেলুন ওড়ানো ও কেক কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি মির্জাপুল এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ৩০ সেপ্টেম্বর পার্কভিউ হসপিটালের ১২ তলা কনফারেন্স হলে ‘Scientific Seminar on World Heart Day & Celebrating 500 Primary PCIs in Parkview Cathlab’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, প্রাইমারি পিসিআই (PCI) এবং অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ডা. হাফেজ মো. মুজিবুল হক।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে ‘Don’t Miss A Beat’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আ ই ম ন জাহাঙ্গীর সেলিম। তিনি হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত লক্ষণ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং রোগীর জীবন রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

‘Primary PCI in Parkview Cathlab’ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ। তিনি প্রাইমারি পিসিআইয়ের মাধ্যমে জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারের প্রধান অতিথি কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল পিএলসির সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কার্ডিওলজি ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান ‘Management of AMI – Bangladesh Perspective’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (AMI) ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. শেখ মো. হাসান মামুন, ডা. নুর উদ্দিন তারেক ও ডা. আনিসুল আওয়াল।

সেমিনারে পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্নের মাইলফলক উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. এম. এম. আলম সাদী বলেন, “হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং দ্রুততম সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসক দলের সমন্বয়ে পার্কভিউ হাসপাতাল হৃদরোগীদের মানসম্মত ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।”

সভাপতির বক্তব্যে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. টি. এম. রেজাউল করিম বলেন, “পার্কভিউ ক্যাথল্যাবে ৫০০টি প্রাইমারি পিসিআই সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতেও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং চট্টগ্রামের মানুষের জন্য উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হৃদরোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে হৃদরোগ চিকিৎসার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পার্কভিউ হাসপাতালের মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন মার্কেটিং টিম।

দুর্গম ফ্রেশবাজারে সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন তিন শতাধিক

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবি টাইগার্স’ দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় উপজেলার দীঘিনালা ইউনিয়নের ফ্রেশবাজার এলাকায় দিনব্যাপী এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এ সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।

দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মুহাম্মদ শায়খউদ্দীন সাকলাইন। তিনি রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করেন।

এ সময় দীঘিনালা জোনের আওতায় ধাত্রীবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেডিকেল টিমকে সহযোগিতা করেন।

চিকিৎসা কার্যক্রমে শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থীসহ পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আরএমও মুহাম্মদ শায়খউদ্দীন সাকলাইন বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী অনেক মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের কথা বিবেচনা করে জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় তিন শতাধিক মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীঘিনালা জোন শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ উদ্যোগের জন্য এলাকাবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা দীঘিনালা জোনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডেঙ্গু দমনে সীতাকুণ্ডে বিশেষ অভিযান, নজরদারিতে ৭ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চিহ্নিত সাতটি হটস্পট নির্মূলে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, “সাত দিন পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর কোনো হটস্পট থাকবে না—সেখানেই আমাদের অভিযান সফল হবে। আক্রান্তের সংখ্যা না কমলে এই অভিযানকে সফল বলা যাবে না।”

শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌরসভা চত্বরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসক নিজে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন অভিযানে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে জানানো হয়, সীতাকুণ্ডে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সাত দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি এলাকা—ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, জেলেপাড়া, বাড়বকুণ্ড, ফুলতলা, বার আউলিয়া ও কলেজ রোডকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৬টি নতুন ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ ও ড্রেনে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। বিশেষ করে জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার স্ক্র্যাপ ধাতুতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

ডেস্ক: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়তে প্রশাসন-স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং আল হাইথাম কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন যুব, সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীরা দলবদ্ধভাবে সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং সেগুলো নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। উদ্বোধনের পর তিনি নিজেও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করা সম্ভব।”

অভিযানে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা আরও বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি হবে এবং নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার আহ্বান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রম সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।

এর আগে সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে বিডি ক্লিনের প্রায় ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সচেতন সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গুনিয়ায় চলমান খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের কাজ পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

খাসজমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সরকারি সম্পত্তি যথাযথভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার বিষয়ে সংসদ সদস্য জানান, দেশের অন্যান্য ৫০ শয্যার হাসপাতালের মতো এটিকেও ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

‘নোংরা খাল রেখে পর্যটক আনা সম্ভব নয়’—কোদাল হাতে হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পর্যটন বিকাশে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোদাল হাতে খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়ার কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, দেশে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা খাল ও জলাশয় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। মানুষকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে হলে খালগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার খালগুলো পরিষ্কার না থাকলে পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, পর্যটনকে আকর্ষণীয় করতে হলে প্রথমেই রাঙ্গুনিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পর্যটক নোংরা পরিবেশের এলাকায় আসতে চাইবেন না। তাই খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে হুমাম কাদের বলেন, বাংলাদেশের সেরা সন্তান বিডি ক্লিনের ছেলেমেয়েরা। তারা কোনো টাকা-পয়সা বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করে নিজের ইচ্ছায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। প্রয়োজন হলে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজও করছে। তাদের প্রতি মন থেকে ভালোবাসা ও সালাম জানান তিনি।

এমপি জানান, শুরুতে ৪০০ থেকে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে খাল পরিষ্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বিডি ক্লিনের কার্যক্রম দেখে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক রাঙ্গুনিয়ায় কাজ করছেন।

স্থানীয়দের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে বিনামূল্যে ডাস্টবিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকে তা ব্যবহার না করে ডাস্টবিনের আশপাশেই ময়লা ফেলেছেন।

‘আমরা বিডি ক্লিনকে এখানে নিয়ে এসেছি, কারণ আমাদের জনগণকে আরও একটু সচেতন করতে হবে। তারা যখন দেখবে তাদের এলাকার ময়লা বাইরের মানুষ এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছে, তখন হয়তো তাদের মনে একটা ডাক আসবে—এখন থেকে আমরা আর আমাদের এলাকাকে ময়লা করে রাখব না,’ বলেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের বলেন, খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুটি খালের খননকাজ সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বান্দরবান ও কাপ্তাই অঞ্চলের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ থাকায় এ উপজেলায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

নিজের দায়িত্বকালের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে হুমাম কাদের বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কিছু ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের মাত্র ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছয় মাস অনেক কম সময়। ছয় মাসের মধ্যে একটা সরকারের সাকসেস অথবা ফেইলিয়র বুঝতে পারবেন না। একটু সময় দেন আমাদের। ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কী করতে পারে।’

বিডি ক্লিনের এক প্রতিনিধি জানান, সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের ৫৭টি জেলা ও ১৬৫টি উপজেলায় তাদের টিম রয়েছে।

তিনি জানান, হুমাম কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণীর সঙ্গে যোগাযোগের পর রাঙ্গুনিয়ায় এ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে একটি টিম এসে এলাকা পরিদর্শন করে। পরে সাড়ে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কুলকুরমাই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ থেকে ছয়টি জেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দিনব্যাপী খাল পরিষ্কারের কাজ চলবে এবং এর মাধ্যমে খালের পানির প্রবাহমান স্রোত দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধি।

বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসেবায় পার্কভিউ হসপিটালের সঙ্গে সমঝোতা

চট্টগ্রাম: বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জন্য উন্নত, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড ও বিএসআরএমের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে বিএসআরএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেট সার্ভিস প্রধান মো. ইসমাঈল, এডমিন ম্যানেজার মো. নুরুউদ্দিন তালুকদার এবং এক্সিকিউটিভ রাজিব দাশসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ, ম্যানেজার (মার্কেটিং ও ব্র্যান্ড) মো. জাহেদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন, এক্সিকিউটিভ মশিউর রহমান শরীফ এবং কর্পোরেট অফিসার হেলাল পারভেজসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড ও বিএসআরএমের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বিশেষ সুবিধায় পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের আধুনিক, বিশেষায়িত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিএসআরএমের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছাড়াতে গেলে তদবিরকারীর বিরুদ্ধেও একই মামলা: এমপি  হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ র‍্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই সবাই জানতেন মাদকবিরোধী একটি র‍্যালি ও সমাবেশ হবে। আমার ধারণা ছিল, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাহেব আসবেন বলে অনেক যুবক এখানে উপস্থিত হবেন। কিন্তু কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিতে বেশিরভাগ উপস্থিত হয়েছেন ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ। তরুণদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।”

তিনি বলেন, “এর পেছনেও একটি কারণ আছে। অনেক তরুণই জানে তাদের আশপাশে কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাই হয়তো তারা এসব বক্তব্য শুনতে এসে অস্বস্তি বোধ করে। যেহেতু এখানে মুরব্বিদের বেশি পেয়েছি, তাই তাদের বলছি—এখন দায়িত্ব আপনাদেরও।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “প্রায়ই থানা থেকে আমাকে জানানো হয়, কিছু যুবককে ইয়াবা, গাঁজা বা মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু একই সময়ে দেখা যায়, পরিচিত অনেকেই তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন। এটাই বাস্তবতা। আজ আমি যদি এটা স্বীকার না করি, কাল আপনারাই আমাকে সমালোচনা করবেন।”

তিনি বলেন, “আজ আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই। থানায় এখন স্ট্যান্ডিং অর্ডার হচ্ছে —মাদক নিয়ে কেউ ধরা পড়লে এবং তাকে ছাড়ানোর জন্য কেউ তদবির করতে গেলে, তার বিরুদ্ধেও একই মামলা দায়ের করা হবে।”

বালু উত্তোলনের বিষয় উল্লেখ করে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “গতকাল একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলেন, তিনি ছয়-সাত মাস আগে বালুর ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেই বালু জব্দ রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন ব্যবস্থা করে দিই, যাতে বালু বিক্রি করে তিনি তার টাকা ফেরত পান। তিনি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং হয়তো ভাবলেন, একটু অনুরোধ করলে বালু ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “চেহারাটা নরম, কিন্তু যেদিন বাবাকে দাফন করেছি সেদিন থেকে কলিজাটা শক্ত হয়ে গেছে। এখন আর এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

মাদকের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার যতই কাছের মানুষ হোক না কেন, যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার প্রতি কোনো ধরনের দয়া বা ছাড় থাকবে না।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে সব উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি, সমাবেশ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাই জানার পরও অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবী ও বহনকারীদের ধরা গেলেও মাদকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে যারা এসব সরবরাহ করছে, তারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাই মাদকের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে কি না, সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে আমরা অনেক সময় খোঁজ রাখি না। একইভাবে প্রতিবেশী হিসেবে সামাজিক দায়িত্বও পালন করি না। ফলে মাদক সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি মাদককে ‘সব অপরাধের মা’ আখ্যায়িত করে বলেন, “মাদক থেকেই খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্ম হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে মাদকের কারণে সন্তান নিজের মা-বাবাকেও হত্যা করতে পারে, সেই মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় নিজের পরিবারও নিরাপদ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

র‍্যালি ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফারজান নাজনীন সেতু জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বাসি খাবার পুনরায় বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুটি খাবার হোটেলকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা এবং একটি খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি মামলায় এ অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানে মোট তিনজন অভিযুক্তকে দণ্ডিত করা হলেও কোনো কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

চোখ বন্ধ রাখলে কাল আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হবে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে এএসপি

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‍্যালি ও সমাবেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের ধরছি এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে শুধু গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার থেকেই শুরু করব। প্রতিটি পরিবার যদি মাদকমুক্ত থাকে, তাহলে পাড়া-মহল্লা মাদকমুক্ত হবে। এভাবে ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসময় পুরো দেশকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

পোমরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, পোমরাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মাদক নির্মূলে বড় ধরনের সফলতা আসবে।

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণ প্রজন্ম যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করে এএসপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ছাড়িয়ে নিতে কোনো পর্যায়ের কেউ তদবির করেননি। এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক বিষয়। আমরা আশা করি, অভিযান চলাকালে কেউ কোনো মাদকসেবী বা মাদক কারবারির পক্ষে থানায় কিংবা অন্য কোথাও অবৈধ তদবির করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হয়তো আপনার পরিবার মাদকে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু আপনার পাশের একজন আক্রান্ত হয়েছে। আপনি যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত থাকুন—কাল আপনার সন্তান বা আপনার পরিবারও মাদকে আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিজের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গোচরা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ডায়াপারে নতুন তারিখ, জরিমানা ২ লাখ ৫০ হাজার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপারের গায়ে পুরোনো মেয়াদ মুছে নতুন তারিখ বসিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগে হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত এবং পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করায় আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া ও হালিম খাঁর চর এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এবং পটিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।

অভিযানে পাচুরিয়া-হালিম খাঁর চর এলাকায় অবস্থিত হাক্কানিয়া পেপার অ্যান্ড পাল্প মিলে তল্লাশি চালানো হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা বেবি ডায়াপারের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার পর পুরোনো মেয়াদের তথ্য মুছে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ও ডিসেম্বর ২০২৮ সালের নতুন মেয়াদ বসিয়ে সেগুলো বাজারজাত করে আসছিল।

এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির মজুত থেকে প্রায় ২০ হাজার পিস মেয়াদোত্তীর্ণ বেবি ডায়াপার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ডায়াপারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ টাকা।

এদিকে, হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া মোড় এলাকার খাজা হোটেলকে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য রান্না ও প্রস্তুতের অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার ক্যাফে ফুলবনকে উৎপাদিত পণ্যের মেয়াদ যথাযথভাবে উল্লেখ না করা এবং অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ ও সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান।

অভিযান বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের জন্য প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা দিলেন রাঙ্গুনিয়ার ওসি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজিত সমাবেশে মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন মাদক ও ইভটিজিংয়ে জড়িতদের সতর্ক করে বলেন, “যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, এটিই তাদের জন্য প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা।”

তিনি বলেন, “মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই, মাদক বিক্রেতার কোনো স্থান নেই, ইভটিজারের কোনো স্থান নেই। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে সমাজে কোনো অপরাধী মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

ইভটিজিং প্রতিরোধে স্থানীয়দের আরও সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, “স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ হয়রানি করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানেই ইভটিজিং হবে, সেখানেই আপনাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।”

সমাবেশে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক মুবিনুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম সাজু, জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহনিয়াজ মোরশেদ তোহা, উপজেলা জিসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সোহেল, নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জনসচেতনতামূলক এ র‍্যালি ও সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজনের প্রস্তুতি সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ আয়োজন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।

সভায় প্রতিযোগিতা দুটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, খেলার মাঠ প্রস্তুত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয় এবং প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া থেকে বিশ্বদৃষ্টি: আস্থার এক বছর পূর্ণ করল রাঙ্গুনিয়া টুডে

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করা অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাঙ্গুনিয়া টুডে যাত্রার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ডোমেইন ক্রয়ের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১১ আগস্ট থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ শুরু করে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়া টুডের লক্ষ্য ছিল রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সাধারণ মানুষের সমস্যা-সম্ভাবনা, উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত এক বছরে বন্যা, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। স্থানীয় পর্যায়ের নানা অবহেলিত বিষয়ও পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলিও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে পাঠকের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থেকেছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য ও সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

এই পথচলায় সংবাদদাতা, লেখক, আলোকচিত্রী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য পাঠকের সহযোগিতা, পরামর্শ, গঠনমূলক সমালোচনা ও ভালোবাসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া টুডে পরিবার।

বর্তমানে তথ্য অধিদপ্তরে রাঙ্গুনিয়া টুডের নিবন্ধনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতেও আইন, নীতিমালা ও সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

রাঙ্গুনিয়া টুডের সম্পাদক ও প্রকাশক এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার বলেন, “এই এক বছরে পাঠকের যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পেয়েছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কখনোই বিচ্যুত হতে চাই না। ভবিষ্যতেও রাঙ্গুনিয়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

এক বছর কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি দায়িত্ব, বিশ্বাস ও অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। সেই অঙ্গীকার নিয়েই সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের পক্ষে থেকে আগামী দিনেও পাঠকের আস্থার সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠতে কাজ করে যাবে রাঙ্গুনিয়া টুডে।

— আপনার শহর, আপনার সংবাদ

সাতকানিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হাসপাতাল, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা পেলেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ

চট্টগ্রাম : সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেড।

বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার ৫ নম্বর আমিলাইশ ইউনিয়নের আমিলাইশ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ ক্যাম্পে অর্থোপেডিকস, মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ডায়াবেটিস, নাক-কান-গলা (ইএনটি), গাইনি, শিশু, চক্ষু এবং চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা-পরবর্তী রোগ প্রতিরোধ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসা ক্যাম্প উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. এটিএম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো পার্কভিউ হাসপাতালের সামাজিক ও নৈতিক অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগে আমরা মানুষের পাশে থাকব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমিলাইশ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এস. এম. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “বন্যার মতো দুর্যোগে দ্রুত চিকিৎসাসেবা মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পার্কভিউ হাসপাতালের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।”

দিনব্যাপী এ চিকিৎসা ক্যাম্পে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিজাম উদ্দীন, কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, মশিউর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী বন্যাদুর্গত মানুষ পার্কভিউ হাসপাতালের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে। দুর্যোগকালীন চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা।

রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

হাসিমুখে মানবতার সেবা: দীঘিনালায় বন্যাকবলিত পাঁচ শতাধিক মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : বন্যার দুর্যোগে যখন দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যাকবলিত পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দ্য বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকায় দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা দেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন। তিনি প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যার পর শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিয়েছে। জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীঘিনালা জোন পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

 

জাতীয় মঞ্চের পথে রাঙ্গুনিয়ার পায়েল, উৎসাহ যোগালেন এমপি হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উদীয়মান সাঁতারু পায়েল নাথ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ে সাঁতারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবে সে।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পায়েল নাথ। এ সময় এমপি তার সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় আসরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রাঙ্গুনিয়ার মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।

এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “তরুণ প্রজন্মের খেলাধুলা ও মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে সফল হয়ে রাঙ্গুনিয়ার জন্য গৌরব বয়ে আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

রাঙ্গুনিয়ার মতো একটি উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে একজন সাঁতারুর উঠে আসাকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।

পায়েলের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও ক্রীড়াবান্ধব কার্যক্রম পায়েলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস রাঙ্গুনিয়ার সাঁতার ইভেন্টের প্রধান সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব বলেন, “উপজেলা পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে পায়েলের সাফল্যের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ, প্রশিক্ষকদের নিবিড় পরিশ্রম, অভিভাবকদের উৎসাহ এবং আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পায়েল জাতীয় মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।”

পায়েলের ক্রীড়া শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রত্যাশা, জাতীয় প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে পায়েল নাথ শুধু একটি পদকের জন্যই লড়বে না; বরং পুরো রাঙ্গুনিয়ার স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করবে। তার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ-তরুণীকে খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।”

এখন রাঙ্গুনিয়াবাসীর দৃষ্টি ২৫ জুলাইয়ের জাতীয় প্রতিযোগিতার দিকে। সবার প্রত্যাশা, নিজের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় মঞ্চেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে পায়েল নাথ এবং রাঙ্গুনিয়ার জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবে।

 

প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে রাঙ্গুনিয়ায় পল্লী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী চিকিৎসকদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই শতাধিক পল্লী চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দুর্ঘটনাজনিত জরুরি চিকিৎসাসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এছাড়া হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক করণীয় ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শওকত হোসেন। কর্মশালায় আরও প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের শারীরিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হাসান এবং জ্যেষ্ঠ সেবিকা ওয়াইসিং মরমা ও অনিক সিকদার।

এ সময় অংশগ্রহণকারী পল্লী চিকিৎসকদের বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কেও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পার্কভিউ হাসপাতালের বিপণন ও ব্র্যান্ড বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. জাহেদুর ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মজিবুক হক মানিক।

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে রোগীরা আরও উন্নত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

 

 

শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: শিশুশ্রম বন্ধে রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন ও মানবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কিশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংকটে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলোকে এ সহায়তা শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপরই অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, পরিবারে বড়দের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। সেই পরিবেশ তৈরি না হলে শিশুশ্রম নির্মূল কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু শৈশব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে কয়েকটি খাত থেকে ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাত শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাঙ্গুনিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজম এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার শিশুকে একটি করে লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৫০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৩৬১টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

চা বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা কয়েকজন অসহায় মানুষের আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীও অনলাইনে যুক্ত হয়ে অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার বাবা শাহ আলম একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় পারিবারিক সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শিক্ষার্থী আরও জানান, এর আগেও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থসংকটে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান তিনি।

বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তার উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া পটিয়ার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি চিকিৎসা, জীবিকা ও বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক তাদের আবেদনগুলো শুনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদনও গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

দুর্গম পাহাড়ে বিশুদ্ধ পানির নতুন আশা, পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বাঙ্গালা করুনা পাড়া। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, কাঁচা-পাকা সড়ক, এমনকি নদীপথও। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ছিল সুপেয় পানির সংকট।

প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির সন্ধানে পাহাড়ি নারী-পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। নিরাপদ পানির অভাবে নানা পানিবাহিত রোগে ভুগতেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিল বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হলো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে সৌরশক্তিচালিত সাবমার্সিবল টিউবওয়েল, যা এখন এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ পানির নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়নের এই পাহাড়ি পাড়ায় টিউবওয়েলটির উদ্বোধন করেন ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন এসইউপি, পিএসসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের দুর্ভোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সৌরশক্তিচালিত এই টিউবওয়েলের মাধ্যমে এখন সারা বছর এলাকাবাসী নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারবেন এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরাও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে।

অনুষ্ঠান শেষে জোন অধিনায়ক স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা, যোগাযোগসহ নানা সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি এলাকায় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের কথাও জানান। পরে তিনি বাঙ্গালা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নোবেল চাকমা বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের পাড়ার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়।

বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, দুর্গম এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল মানুষের প্রধান সমস্যা। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ঘুচিয়ে পাহাড়ি এই জনপদে এখন বইছে স্বস্তির স্রোত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।