রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী র্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ র্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই সবাই জানতেন মাদকবিরোধী একটি র্যালি ও সমাবেশ হবে। আমার ধারণা ছিল, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাহেব আসবেন বলে অনেক যুবক এখানে উপস্থিত হবেন। কিন্তু কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, মাদকবিরোধী এ কর্মসূচিতে বেশিরভাগ উপস্থিত হয়েছেন ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ। তরুণদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।”
তিনি বলেন, “এর পেছনেও একটি কারণ আছে। অনেক তরুণই জানে তাদের আশপাশে কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাই হয়তো তারা এসব বক্তব্য শুনতে এসে অস্বস্তি বোধ করে। যেহেতু এখানে মুরব্বিদের বেশি পেয়েছি, তাই তাদের বলছি—এখন দায়িত্ব আপনাদেরও।”
হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “প্রায়ই থানা থেকে আমাকে জানানো হয়, কিছু যুবককে ইয়াবা, গাঁজা বা মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু একই সময়ে দেখা যায়, পরিচিত অনেকেই তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন। এটাই বাস্তবতা। আজ আমি যদি এটা স্বীকার না করি, কাল আপনারাই আমাকে সমালোচনা করবেন।”
তিনি বলেন, “আজ আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই। থানায় এখন স্ট্যান্ডিং অর্ডার হচ্ছে —মাদক নিয়ে কেউ ধরা পড়লে এবং তাকে ছাড়ানোর জন্য কেউ তদবির করতে গেলে, তার বিরুদ্ধেও একই মামলা দায়ের করা হবে।”
বালু উত্তোলনের বিষয় উল্লেখ করে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “গতকাল একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলেন, তিনি ছয়-সাত মাস আগে বালুর ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেই বালু জব্দ রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন ব্যবস্থা করে দিই, যাতে বালু বিক্রি করে তিনি তার টাকা ফেরত পান। তিনি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং হয়তো ভাবলেন, একটু অনুরোধ করলে বালু ছেড়ে দেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “চেহারাটা নরম, কিন্তু যেদিন বাবাকে দাফন করেছি সেদিন থেকে কলিজাটা শক্ত হয়ে গেছে। এখন আর এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”
মাদকের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার যতই কাছের মানুষ হোক না কেন, যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার প্রতি কোনো ধরনের দয়া বা ছাড় থাকবে না।”
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে সব উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী র্যালি, সমাবেশ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “মাদকের কুফল সম্পর্কে সবাই জানার পরও অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবী ও বহনকারীদের ধরা গেলেও মাদকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে যারা এসব সরবরাহ করছে, তারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাই মাদকের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে কি না, সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে আমরা অনেক সময় খোঁজ রাখি না। একইভাবে প্রতিবেশী হিসেবে সামাজিক দায়িত্বও পালন করি না। ফলে মাদক সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
তিনি মাদককে ‘সব অপরাধের মা’ আখ্যায়িত করে বলেন, “মাদক থেকেই খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্ম হয়।”
সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে মাদকের কারণে সন্তান নিজের মা-বাবাকেও হত্যা করতে পারে, সেই মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় নিজের পরিবারও নিরাপদ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।”
র্যালি ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
