নতুন কমিটিতে তদবির নয়, প্রাধান্য পাবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নতুন কমিটি গঠনে তদবির বাণিজ্যের সুযোগ থাকবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপজেলার কাদেরনগর এলাকায় উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি গতকাল প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সংসদে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রথম বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসেই এই নতুন যাত্রা শুরু হওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের সময় সবার মনে একটি কষ্ট ছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল, যখন সবাই সংসদে যাবেন তখন মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হয়তো তাদের সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবুও সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সবাই মিলে গণতন্ত্রের এই নেত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।

ইফতার মাহফিলে বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রমজান মাসে ইফতার ও আজানের আগে যদি সবাই ৫ থেকে ১০ মিনিট একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসে ইবাদত ও দোয়া করা যায়, তবে তা খুবই ভালো হবে। তিনি সবাইকে দেশ, প্রধানমন্ত্রী, রাঙ্গুনিয়াবাসী এবং প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, রোজার মাসে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং সেগুলো নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে তিনি একটি বিষয়ই বলেছেন—এই নির্বাচন তিনি একা করেননি, বরং সবাই মিলে করেছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদে পৌঁছানোর কৃতিত্ব তিনি মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীদের দেন।

তিনি আরও বলেন, দলের নীতি হলো ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীরা নির্বাচনের সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সেই কথার প্রমাণ দিয়েছেন।

দলীয় কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারে আসার পর নেতাকর্মীরা মনে করেন মামলা-মোকদ্দমার চাপ কমে গেছে এবং তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। আবার আগের মতো ঘন ঘন বড় কর্মসূচিও হয় না। ফলে দল অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রতি মাসে একদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যদি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সবাই একত্রিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও যৌথভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমা ও নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কখন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাই নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠনের সময় নেতাকর্মীদের অতীত কর্মকাণ্ড, আচরণ এবং দলের জন্য তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পাবেন তাদের সবাই সমর্থন করবেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই কমিটির জন্য তদবির বাণিজ্য হবে না। যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছে, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”

দলীয় গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বলেন এটি কারও গ্রুপ বা অন্য গ্রুপের। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার কোনো গ্রুপ নেই; তার একমাত্র গ্রুপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এখানে সবাই একই দলের কর্মী এবং তাদের নেতা একজনই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনের সময়ও সেই ঐক্যের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছর রাঙ্গুনিয়ায় দল ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।

মাসিক বৈঠকের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিনিয়র নেতারাই নেবেন। তাদের সুবিধা অনুযায়ী দিন নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে দলের কমিটির প্রধান অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব বৈঠকে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বসে সুখ-দুঃখ, অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সবার পরামর্শ নেওয়া হবে।

শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের সংগ্রামে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল ও হিয়ারিং এইড প্রদান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য হুইলচেয়ার (বড় ও ছোটদের জন্য), ট্রাইসাইকেল ও হিয়ারিং এইড প্রদান করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করা হয়েছে।

ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হবে। কারও পরিচিত কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজন হলে আগামী ১০, ১১ ও ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

আবেদনকারীর ৪R (৪×৬ ইঞ্চি) সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে উপকারভোগীদের মধ্যে উপকরণ বিতরণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

ফটিকছড়িতে বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত অন্তত ১৬

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন কিশোরসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ১৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেলাগাজী দীঘি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ১৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রামের যোগেজ উড়াংয়ের ছেলে উত্তম উড়াং (১৭), রাম উড়াংয়ের ছেলে নয়ন উড়াং (১৭) এবং তপন উড়াংয়ের ছেলে তপু উড়াং (১৭)। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীগামী একটি দূরপাল্লার বাস বেপরোয়া গতিতে ওই এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে বাসের ভেতরে থাকা অন্তত ১৬ জন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হন।

নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, হাসপাতালে আনা আহতদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নির্বাচনের দিন ঝামেলা করলে সরাসরি ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কাউকে আর সতর্ক করা হবে না, সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আজই আমরা শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছি। নির্বাচনের দিন কেউ যদি কোনো কেন্দ্রে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাকে সতর্ক করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। শুধু ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ এবং আনসার ও ভিডিপির পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার এবং কর্ণফুলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র।

জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—“নো ড্রামা, নো লবিং।” নির্বাচনের দিন কেউ ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করলে সে যেই হোক, তাকে আর সতর্ক করার সুযোগ দেওয়া হবে না; সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকার থেকে নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। “আমাকে যেমন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মনিটর করা হচ্ছে, তেমনি আপনাদের প্রতিটি কার্যক্রমও মনিটর করা হচ্ছে। কোনো ধরনের চালাকি বা অসততার আশ্রয় নেবেন না,” বলেন তিনি।
প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে, আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনীর মোবাইলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের বডি-অন ক্যামেরা, সেনাবাহিনী ও বিজিবির উপস্থিতিসহ প্রতিটি কেন্দ্র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাকে কেউ দেখছে না, তাহলে তিনি ভুল করছেন। সবকিছু মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে।
নিজ নিজ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আগামী প্রজন্ম বড় হবে। এখানে কেউ জিতবে, কেউ হারবে; তবে প্রশাসনের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশকে জেতানো।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সপ্তাহের দিন-তারিখ বা সময় না দেখে প্রশাসনের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মনিটরিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো কিছু লুকানোর সুযোগ না থাকে।

জাতির প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কারও দায়িত্বে ব্যত্যয় ঘটলে তার দায় সরকার বা নির্বাচন কমিশন নেবে না।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের সুযোগ নেই। ভালোবাসা থাকতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের গায়ে যে কালিমা লেগেছে, তা মুছে ফেলার এখনই সুযোগ। কোনো সংশয় থাকলে তা ঝেড়ে ফেলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এলাকায় কোনো ভয় বা আতঙ্ক থাকলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার দোহাই দেওয়ার সুযোগ নেই।

শেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমার সন্তান কারও গোলাম হবে না। আমরা সরকারি কর্মচারীরা কারও ব্যক্তিগত গোলাম হব না—আমরা রাষ্ট্রের গোলাম হতে চাই।” তিনি সবাইকে বিবেকবান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন এবং তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল। তিনি দাবী করেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মানুষ ও আমার পরিবারের সদস্যরা আবারও প্রমাণ করেছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আজও মানুষের হৃদয়ে জীবিত আছেন।”

তিনি বলেন, বাবার নাম উচ্চারণ করলে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মুখে হাসি নিয়ে বলুন—সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন, তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার ও নিরাপদ জীবনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এই সময়ে অনেকেই জীবন দিয়েছেন, যাদের তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ১২ তারিখের ভোটকে সামনে রেখে আরও কিছুদিন মাঠে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আজকের এই জনসভা ও গণমিছিল প্রমাণ করেছে, রাঙ্গুনিয়ায় ইনশাআল্লাহ বিএনপির জয় হবেই।”

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তিনি দেখেছেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা রাঙ্গুনিয়ায় পৌঁছেনি। তিনি বলেন, “উন্নয়নের কথা পদ্মা সেতু পর্যন্ত এলেও রাঙ্গুনিয়ায় আসেনি।” গত দুই সপ্তাহের প্রচারণায় ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। মরিয়মনগর থেকে রানীরহাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর আগে এই সড়ক প্রশস্ত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে একফুটও চওড়া হয়নি, বরং আরও সংকুচিত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে এই সড়ক প্রশস্ত করা।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ এখনো তার বাবার সময়ে নির্মিত রাস্তা ব্যবহার করছে, কিন্তু দীর্ঘদিন তা সংস্কার হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলেও দলের সিনিয়র নেতারা নিজ উদ্যোগে বালু ও ইট দিয়ে কিছু রাস্তা সংস্কার করেছেন বলেও তিনি জানান।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে হুমাম বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, এসব হাসপাতাল সংস্কারের দায়িত্ব বিএনপি নেবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। অদক্ষ বৈদ্যুতিক সংযোগের ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ইলেক্ট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রবাসী পরিবারগুলোর প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেক মানুষ। তিনি বলেন, চুক্তি ও সরকারি সনদ অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, তার বাবা-দাদারা দীর্ঘদিন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সঙ্গে এক পরিবারের মতো বসবাস করেছেন। নিজের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমি সংগ্রাম করেছি। এই কম বয়সে রাঙ্গুনিয়া নিরাপদ থাকবে কিনা, তার জবাব আপনারা ভোটের মাধ্যমে দেবেন।”

জনসভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে থেকে সৎ রাজনীতির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নই বিএনপির রাজনীতির মূলনীতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনসভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে যোগ দেন।

আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এসেছি: অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ইসলামি ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তিনি মরিয়মনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। এ সময় এক পথসভায় বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান বলেন, রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতীক, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রতীক, রিকশাচালক ও ব্যবসায়ীদের প্রতীক, পেশাজীবী, মা-বোনসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলমান—চার লাখ রাঙ্গুনিয়াবাসীর জনপ্রিয় প্রতীক মোমবাতি। এই প্রতীকে দোয়া ও ভোট চান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রত্যেক দল-মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও বালুদস্যুমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা হবে। একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও ঐক্যবদ্ধ রাঙ্গুনিয়া প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান আরও বলেন, তারা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সার্বিক উন্নয়নে ১৩ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়াকে দেশের একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে সংসদে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের অধিকার জোরালোভাবে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন এই প্রার্থী। তিনি এ সময় ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সবাইকে রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

লুটতরাজ বন্ধে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লুটতরাজ ও দখলবাজির রাজনীতি বন্ধে দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন নির্বাচনী অফিসে এক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর বিজয় মানেই সন্ত্রাসমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তোলা, দখলবাজির রাজনীতির অবসান এবং অন্যায়-অবিচার রোধ করা। তারা অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর যারা ব্যাংক লুটপাট করে ব্যাংক ও বীমা খাত শূন্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

বক্তারা বলেন, দেশের চলমান লুটতরাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনার বিকল্প নেই।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খাজা গিয়াস উদ্দিন শাহজাহান। এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মান্নান, কাজী মুফিজুর রহমান, মুহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ার আনাচে-কানাচে নারী-পুরুষ সকল ভোটারকে বোঝাতে হবে যে ভোট দিতে কোনো ভয় নেই। নির্বাচন হবে ভয়বিহীন, অবাধ ও সুষ্ঠু। কোনো ধরনের গোজামিলের সুযোগ থাকবে না বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যোগাযোগ, চিকিৎসা ও কৃষিতে উন্নয়নের অঙ্গীকার ডা. রেজাউলের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি উপজেলার ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের মধ্যম পারুয়া হয়ে ১৪ নম্বর দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাট টেকে এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন।

পথসভায় ডা. রেজাউল করিম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেমন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাঙ্গুনিয়ার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রধান সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী। শুষ্ক মৌসুমে যেসব রাস্তায় কষ্ট করে চলাচল করা যায়, বর্ষা মৌসুমে সেগুলো একেবারেই অচল হয়ে পড়ে।

নিজেকে রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ও ভূমিপুত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ শুরু করবেন এবং রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।

চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ মানের হাসপাতাল নেই। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের দূর-দূরান্তে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলার বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে একটি কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য রাঙ্গুনিয়ায় একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে।

পথসভায় তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট কামনা করে বলেন, রাঙ্গুনিয়াকে একটি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাঙ্গুনিয়া গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনারা ভোট দিতে যাবেন পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে” — হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি উপজেলার ১৫ নম্বর লালানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল বাদামতলী এলাকায় এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।

পথসভায় হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাকে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। ভোট দেওয়ার সময় শুধু ব্যক্তিকে নয়, দল ও প্রতীকের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানেই দলের সঙ্গে থাকা সকল মানুষকে সংসদে পাঠানো।

তিনি আরও বলেন, পথসভায় উপস্থিত সিনিয়র নেতারা তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। তাদের কাছ থেকেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। নেতাকর্মীদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় তাকে একজন পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।

মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট গত ১৭ বছরের ভোটের মতো নয়। সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে হবে। ভেবে-চিন্তে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, অনেকেই চায় এই নির্বাচন যেন না হয় এবং বিএনপিকে দুর্বল করা যায়। তবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ফজরের নামাজের পরপরই সবাই যেন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।

পথসভায় তিনি আরও বলেন, তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দীর্ঘ ৩৫ বছর রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে ছিলেন। মৃত্যুর আগে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের পাশে থাকার দায়িত্ব তাকে দিয়ে গেছেন। সেই দায়িত্ব পালন করতেই তিনি জনগণের কাছে ভোট ও দোয়া কামনা করেন।
এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের বার্তা পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে, রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনের প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদারদের মাধ্যমে গণভোটের বার্তা প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ‘Uno Rangunia’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এই কার্যক্রমের কথা জানানো হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “গণভোটের প্রচারণা। গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা।”

প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নারী ও পুরুষ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে গণভোট সংক্রান্ত লিফলেট তুলে দিচ্ছেন ইউএনও নাজমুল হাসান। এ সময় তারা লিফলেটগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

এদিকে ইউএনওর ওই পোস্টের নিচে এমডি আশেক এলাহী নামের এক ব্যক্তির মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ৯০ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে বাড়িতে গণভোটের লিফলেট পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাঙ্গুনিয়া ক্যাম্প ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ জানান, অভিযানে আমির হোসেন, শামশু উদ্দিন ও সাহাব উদ্দিব নামে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন ধারায় মোট এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা এবং পাহাড় কাটা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে: চট্টগ্রামে সেনাপ্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বৃহস্পতিবার একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।

মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান চট্টগ্রামের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

এছাড়াও সভায় তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া’ গড়ার ডাক হুমাম কাদের চৌধুরীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে রাঙ্গুনিয়াবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।

“পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া, গড়বো এবার আমরা” এই প্রতিপাদ্যে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তার স্ত্রী সামানজার খানের উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়াকে পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর সমাজের মাদকসহ নানা সমস্যা সমাধানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে মাদকের সমস্যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে ঘরে এই সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে তারা ভূমিকা রাখতে চান।

চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ষাট বছর ধরে তার দাদা ও বাবার পাশে রাঙ্গুনিয়াবাসী ছিলেন। এই আত্মার ও রক্তের সম্পর্ক ধরে রাখতে তিনি রাঙ্গুনিয়াবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার রোয়াজারহাট বাজারের রাঙ্গুনিয়া ক্লাব মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচ্ছন্নতা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক সাংবাদিক এম. মতিন। রোয়াজারহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি গাজী জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান। এতে আরও বক্তব্য দেন একেএস খান হেলথকেয়ার লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক নোমানুর রশিদ।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় ভবন গড়ে উঠছে, কিন্তু পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদেশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিদেশ যদি পরিচ্ছন্ন হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না। সেই চিন্তা থেকেই ঘর থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে ২০০টি ময়লার বিন স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও দেড়শোটি বিন বিভিন্ন স্থানে বসানো হবে। ছোট বিন থেকে বড় বিনে ময়লা স্থানান্তরের জন্য ২০টি বড় ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। ময়লা সংগ্রহে ১০টি নিজস্ব ভ্যানের ব্যবস্থা রয়েছে। এ কার্যক্রমে ৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৬ জন ভ্যানচালক, ১০ জন সুপারভাইজার এবং ২ জন প্রকল্প প্রধান দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বাবার স্বপ্ন পূরণের পরই ক্যানসার, হাসপাতালে লড়ছে বারো বছরের হাফেজ হাসান

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এক অসহায় পরিবারের ১২ বছর বয়সী কিশোর সন্তান মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে টানা প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। কিশোরটির নাম মুহাম্মদ হাসান। সে একজন কুরআনের হাফেজ।

মুহাম্মদ হাসান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিপুরা সুন্দরী এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর মো. বাচা মিয়ার ছেলে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কিশোরের পিতা বাচা মিয়া জানান, তিনি পেশায় কৃষি কাজে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। সংসারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার পরিবারের প্রথম দুই কন্যাসন্তান জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই মারা যায়। এরপর জন্ম নেয় একটি ছেলে, যার বয়স এখন ১৫ বছর। পরিবারের অভাবের কারণে সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে গ্যারেজে কাজ করছে।

বাচা মিয়া বলেন, তার মেজো ছেলে মুহাম্মদ হাসান সম্প্রতি স্থানীয় একটি হেফজখানা থেকে কুরআনের হাফেজ হয়েছে। বড় আশা-স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে হাফেজ পড়িয়েছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে ছেলের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রায় তিন মাস আগে তার তলপেটে টিউমার ক্যান্সার ধরা পড়ে।

বর্তমানে ক্যান্সারের জটিলতায় কিশোর হাসানের পায়ুপথে নিয়মিত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ফলে সপ্তাহে একাধিকবার তাকে রক্ত দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত কেমোথেরাপিও দেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

বাচা মিয়া আরও জানান, অনেকেই সহায়তার আশ্বাস দেন। কেউ কেউ সহযোগিতাও করেছেন। তবে কখনো কখনো প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সেই সহায়তাও হারাতে হয়েছে। তার পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী আরও একটি শিশুকে তিনি হাফেজ বানানোর স্বপ্নে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছেন।

এ অবস্থায় ক্যান্সার আক্রান্ত কুরআনের হাফেজ কিশোরকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন অসহায় এই পিতা।

সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম: ০১৮৯১-৯৪৮৫৭৫ (বিকাশ পার্সোনাল)।

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ও টপসয়েল কাটার অভিযোগে লাখ টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড় ও কৃষিজমির টপসয়েল কাটার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে কৃষিজমির টপসয়েল কাটার অভিযোগে ইউনুস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইসলামপুর ক্যাম্পের সহযোগিতায় তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে গোপনে পাহাড় কাটার অভিযোগে মো. মানিক নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতে এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মানিককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেল ও চাঁদের গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় মোটরসাইকেল ও চাঁদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে শাকিল (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে নানুপুর-খিরাম সড়কের লম্বা টিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল খিরাম ইউনিয়নের মগকাটা এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল কাদেরের ছেলে। আহত ব্যক্তি আলাউদ্দিন তালুকদার (৩৮), তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শাকিল ও তার বন্ধু আলাউদ্দিন মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম শহর থেকে নিজ গ্রাম খিরামের মগকটা এলাকায় ফিরছিলেন। পথে লম্বা টিলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি চাঁদের গাড়ির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আলাউদ্দিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সারগোধা জেলার খুশাব শহরের কাছে দরবার পাঞ্জপির মানাওয়ান এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু এবং পাঁচজন নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনায় সব নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

ট্রাকটি খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা থেকে খুশাবের দিকে যাচ্ছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চালক দৃষ্টিসীমা হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের খুশাব শাখার কর্মকর্তা হাফিজ আবদুল রশীদ জানান, রাত ১১টা ২২ মিনিটে তারা জরুরি কল পান। এরপর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়।

আহত ৯ জনের মধ্যে দুজনকে খুশাবের টিএইচকিউ হাসপাতালে এবং সাতজনকে ডিএইচকিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

আহতদের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত ও আহত সবাই শ্রমজীবী মানুষ। কাজের সন্ধানে তারা বান্নু থেকে খুশাব শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ

ডেস্ক রিপোর্ট: আজ শুক্রবার পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই রাত রজব মাসের ২৬ তারিখে পালিত হয়। এ রাতে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) আল্লাহর ইচ্ছায় ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

ইসলামের ইতিহাসে মেরাজের ঘটনা এক অনন্য অধ্যায়। এ রাতের মধ্য দিয়েই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। মহানবী (সা.) এই রাতে দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায়ের বিধান মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করেন।

ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াতের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে এক রাতে তিনি কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে নবীদের জামাতে ইমামতি করেন। কোরআনে বর্ণিত এই ঘটনাকে ‘ইসরা’ বলা হয়।

এরপর তিনি ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে ‘বুরাক’ নামের বিশেষ বাহনে ঊর্ধ্বাকাশে যান, যা ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত। এই সফরে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা, বেহেশতের নিদর্শন এবং ফেরেশতাদের ইবাদতখানা বায়তুল মামুর পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন।

পবিত্র এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত কামনায় মসজিদ, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল নামাজ এবং দোয়ার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন।

কাপ্তাইয়ে পিকআপ খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

কাপ্তাই (রাঙামাটি) : রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার আসামবস্তী সড়কে গাছবোঝাই একটি মিনি পিকআপ খাদে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কের কামিলাছড়ি মগবান এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঢালু পথে গাড়িটি উপরের দিকে উঠছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পিকআপটি পেছনের দিকে গড়িয়ে পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন।

নিহত শ্রমিকরা হলেন মগবান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামিলাছড়ি এলাকার বাসিন্দা সাদেক চাকমা (৩৮) ও মিলন চাকমা (৫০)। আহত শ্রমিক বিনয় চাকমা (৩৫) একই এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বিনয় চাকমা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান জানান, রাতে দুইটি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সড়কটিতে যান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জীবন চলছে জীবনের তাগিদে, ৬৭-এ দাঁড়িয়ে ৬৫ হওয়ার অপেক্ষায় খোকন নাথ

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: পরনে লুঙ্গি আর শার্ট। শুকনো শরীর, হাঁটেন একটু কোমর ঝুঁকিয়ে। বয়স আনুমানিক পঁয়ষট্টির ঘর পেরিয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার চায়ের দোকানপাড়ায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়। কখনো এক কাপ চা হাতে নীরবে বসে থাকেন, কখনো পাশের বেঞ্চে। এতদিন দেখলেও জানার আগ্রহ হয়নি।

সোমবার আবার দেখা। হঠাৎ কৌতূহল জাগে—কে এই মানুষটি, কী তার গল্প?

কথা শুরু হতেই জানা গেল, তার নাম খোকন নাথ। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাথপাড়ার বাসিন্দা। মৃত মহেন্দ্র নাথের ছেলে। প্রকৃত বয়স হিসেবে তিনি ৬৭ বছর পেরিয়েছেন।

জীবনের গল্প বলতে গিয়ে খোকন নাথ জানান, বয়স যখন মাত্র ১৬, তখন বাবাকে হারান। দুই বোন আর চার ভাইয়ের সংসারে তিনি ছিলেন সবার ছোট। হাইস্কুলে পা রাখার সময়েই যুদ্ধ ও দারিদ্র্যের চাপে থেমে যায় পড়াশোনা। পরিবারের হাল ধরতে নেমে পড়তে হয় কাজে।

বিয়ের পর জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রথম সন্তান একটি কন্যাশিশু জন্মের কিছুদিন পরই এক রোগে মারা যায়। পরে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান, সেও টেকেনি। পরপর এই দুই মৃত্যু যেন জীবনের সব আলো নিভিয়ে দেয়। এরপর জন্ম নেয় আরও দুই কন্যা সন্তান। বর্তমানে তাদের বয়স আনুমানিক ৪০ ও ৩০ বছর। দুজনই বিবাহিত।

সংসারের দায় আর জীবিকার তাগিদে একসময় পাড়ি জমান প্রবাসে। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর কাটে বিদেশের মাটিতে। কিন্তু বৈধ কাগজপত্রের অভাবে ভালো কাজ বা স্থায়ী কিছু করতে পারেননি। নানা ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা আর বিপদের মধ্যেই কেটে যায় তার প্রবাস জীবন। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরেন প্রায় শূন্য হাতে।

দেশে ফিরে রঙের কাজ বেছে নেন। প্রবাস জীবনেই এই কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিন্তু বয়স আর শরীর এখন আর আগের মতো সঙ্গ দেয় না।

বর্তমানে তার সংসারে সদস্য মাত্র দুজন—তিনি ও তার ৫৫ বছর বয়সী স্ত্রী। স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। কখনো স্ত্রী অসুস্থ হন, কখনো তিনি নিজেই। ফলে নিয়মিত কাজ করাও সম্ভব হয় না। তবু থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন খোকন নাথ। বলেন, “চালের একটা কার্ড আছে, তাও কিনে খেতে হয়। কয়েক বছর আগে জনপ্রতিনিধির কাছে গিয়েছিলাম। তখন বলা হয়েছিল জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ৬৫ হয়নি, তাই বয়স্ক ভাতা দেওয়া যাবে না।”

বাস্তব বয়স আর কাগজের বয়সের এই ফারাকই এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা। প্রকৃত বয়সে তিনি ৬৭ পেরিয়েছেন, অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স পূরণ না হওয়ায় এখনও বয়স্ক ভাতার অপেক্ষায়। সাম্প্রতিক সময়ে কাগজে-কলমে বয়স ৬৫ ছাড়িয়েছে কি না, সেটাও নিশ্চিত নন তিনি।

“আমি তো দিনমজুর মানুষ। শরীর ভাঙলেও কাজ থামানো যায় না,” বলেন খোকন নাথ। মেয়েরা মাঝেমধ্যে সহযোগিতা করেন ঠিকই, কিন্তু তাদেরও নিজ নিজ সংসার আছে।

অবসরে যাওয়ার খুব ইচ্ছে তার। কিন্তু অবসর মানে যে থেমে যাওয়া, সেই সামর্থ্য তার নেই। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও খোকন নাথকে অপেক্ষা করতে হয়—৬৭ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে কাগজে-কলমে ৬৫ হওয়ার জন্য। এই অপেক্ষাই যেন তার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ আর নির্মম বাস্তবতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাহবুব বলেন, খোকন নাথ খুবই অসহায় একজন মানুষ। তিনি বলেন, “শুনেছি তার স্ত্রীও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আগেও তাকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তখন জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ৬৫ না হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি।” তিনি আরও জানান, খোকন নাথের নামে একটি চালের কার্ড রয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।

জলাতঙ্ক নির্মূলে রাঙ্গুনিয়ায় কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি শুরু ১৪ জানুয়ারি থেকে

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): জলাতঙ্ক নির্মূলে রাঙ্গুনিয়ায় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে এ সভা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাঙ্গুনিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়নাব জমিলা। সভায় প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আকতার, ডা. রাশেদ আলী শাহ, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রাণী গোপ।

সভায় বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী রোগ। মূলত কুকুরের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুর কামড় বা আঁচড় দিলে মানুষের মধ্যে রোগটি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কুকুরকে সময়মতো টিকা দিলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সভায় জানানো হয়, আগামী ১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ফেরার পথেই থেমে গেল প্রবাসী পরিবারের জীবনের গল্প

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) | অতিথি প্রতিনিধি:

প্রবাস জীবনের কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে স্বপরিবারে কয়েক দিনের অবকাশ কাটাতে ওমানের সালালাহ শহরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি পরিবার। পাহাড় আর সাগরের শহর ঘুরে আনন্দমুখর সময় কাটিয়ে মাস্কাটে ফেরার পথেই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তে থামিয়ে দেয় তিনটি প্রাণের জীবনের যাত্রা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে সালালাহ থেকে মাস্কাটগামী সড়কের তামরিথ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমান প্রবাসী মো. শফিউর আলমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার, তাঁদের একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান (সবুজ) এবং বিলকিস আক্তারের মেয়ের জামাই হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুহাম্মদ দিদার।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নিহত সাকিবুল হাসান (সবুজ)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎ একটি উট চলে আসে। আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে সড়ক থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনায় সবুজের স্ত্রী রিতা আকতার, তাঁর সন্তান ও বোন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা স্থানীয় একটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে তারা শঙ্কামুক্ত।

নিহত সাকিবুল হাসান সবুজ তিনদিন আগে তাঁর মা, স্ত্রী, সন্তান ও বোন-জামাইকে নিয়ে মাস্কাট থেকে সালালাহ ভ্রমণে যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে ওমানের হামেরিয়াতে বসবাস করছিলেন।

একসঙ্গে থাকা সবুজের বন্ধু প্রবাসী রবিউল হোসাইন পারভেজ জানান, ফটিকছড়ির এই পরিবারটি ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিচিত ও সম্মানিত ছিল। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ওমানজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের আবহ নেমে আসে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে সালালাহর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, ওমানের দীর্ঘ ও নির্জন মহাসড়কে উটের অবাধ চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিবারটিও সেই কঠিন বাস্তবতার শিকার হলো।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। তবে যে পরিবার একসঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে বেরিয়েছিল, তাদের ঘরে ফিরবে কেবল নিথর দেহ আর অসীম শূন্যতা।

রাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় হামলায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শামসুল আলম (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামসুল আলম মীরেরখীল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ইছু মিয়া।

স্থানীয়রা জানান, খেজুরের রস সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় শামসুল আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ অভিযানে অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার, অস্ত্র-মাদকসহ তিনজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অপহৃত এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপহরণের অভিযোগের ভিত্তিতে রাত ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এ অভিযান চলে।

অভিযানে অপহরণকৃত রুবেল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— পোমরা ইউনিয়নের দানু মেম্বারের ছেলে শাহেদ হাসান (৩৫), আবদুল করিমের ছেলে ওবায়দুল মোস্তফা সৌরভ (৩১) এবং বেতাগী ইউনিয়নের প্রজেক্ট গেইট এলাকার মজু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুস সালাম সাকিব (২২)।

গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮০ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, দা, চাপাতি, রামদা, ছুরি ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৩টি পাসপোর্ট, ৫টি স্মার্টফোন, ৪টি বাটন ফোন এবং নগদ ১ লাখ ৫ হাজার ৮৯০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযানে পুলিশ টিমের সহায়তা চেয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকৃত আলামত বুঝে নেয়। মাদকসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ডিসি পার্কে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসবের উদ্বোধন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসায় জনপ্রশাসন সচিব

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন সলিমপুর মৌজার সাগরপাড়ে অবস্থিত ১৯৪ একর আয়তনের ডিসি পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব “চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬”। বর্ণিল সাজে নতুন রূপে সেজে ওঠা ডিসি পার্কে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সুপরিকল্পিত ও বৃহৎ কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, বরং সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের আয়োজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও ডিসি পার্কে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করবেন। জেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মাসব্যাপী এ ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টি। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেইম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্ণার।

আজ থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী “চট্টগ্রাম ফুল উৎসব–২০২৬” চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব সাধারণ দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

খেলাধুলা সামাজিক ঐক্যের শক্ত ভিত গড়ে তোলে: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : নিয়মিত খেলাধুলা সমাজে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষ খেলাধুলার মাধ্যমে এক কাতারে এসে সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পেশাজীবীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গুনিয়া পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রীতি ম্যাচে লয়ারস ক্লাব ও ডক্টর-ইঞ্জিনিয়ার ক্লাব অংশ নেয়। শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল প্রাণবন্ত ও উত্তেজনায় ভরপুর। নির্ধারিত সময় শেষে ৪–১ গোলে ডক্টর-ইঞ্জিনিয়ার ক্লাবকে পরাজিত করে লয়ারস ক্লাব জয় পায়।

খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিভিন্ন পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী হিরু। পেশাজীবীদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. মহসিন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী, এস ইউ এম নুরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আরিফ হাসান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী ও ডা. তাশদীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ার খেলাধুলার মান উন্নয়নে মাঠ ও ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে রাঙ্গুনিয়ার সন্তানদের প্রতিনিধিত্ব দেখাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আনন্দঘন পরিবেশে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী উভয় দলকে অভিনন্দন জানানো হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. জাহেদ (৩৭)।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

গ্রেপ্তার মো. জাহেদ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পশ্চিম সরফভাটা এলাকার মৃত আবদুস শহিদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাহেদকে আটক করা হয়। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, নয়টি কার্তুজ (শীসা) এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার জাহেদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থলে আরও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ৩

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিম ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ ইকবাল হাছানসহ ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যাচাই কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই বাচাই শেষে বৈধ ঘোষণা দেন।

এ আসন থেকে মনোনয়ন বৈধ হওয়া বাকি ৩ প্রার্থী হলেন-জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল্লাহ আল হারুন ও খেলাফত মসলিসের মো. আবুল কালাম।

জানা যায়, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. আবদুর রহমান। তার মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে পাঁচটি ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যের অভাব, ফরম-২০ ও ২১ দাখিল না করা এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা অনুপস্থিত থাকা।

এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দীনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়া এবং অঙ্গীকারনামা দাখিল না করার কারণে। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরন বড়ুয়ার মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে দলের মনোনয়ন সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাউজানে সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার নারী নিহত

রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম ছেনোয়ারা বেগম (৪৫)।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ছেনোয়ারা বেগম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খণ্ডলিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আমীনুর রহমানের স্ত্রী।

নিহতের ছেলে মো. রাসেল জানান, কয়েকদিন আগে তার বোনকে ডেলিভারিজনিত কারণে রাউজানের নোয়াপাড়া পথেরহাট এলাকার পাইওনিয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন আগে তার বোনের একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এ কারণে তার মা ছেনোয়ারা বেগম মেয়ের সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।

শনিবার সকালে চা-নাস্তা আনতে হাসপাতাল থেকে বের হলে সড়কে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে পাইওনিয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে জানতে চাইলে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।