রাঙ্গুনিয়ায় ঐক্যের মঞ্চ: বিএনপি নেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে শক্ত বার্তা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। দলের মনোনয়ন ঘোষণার পর দুজনকে একই মঞ্চে দেখা যাওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,“গত দেড় বছর ধরে শুনে আসছি—যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, বিএনপি কলাগাছকেও দাঁড় করালে জিতে আসবে; আর সেই মৌসুমের ‘কলাগাছ’ আমি। মনোনয়ন পাওয়ার পর আনন্দপ্রকাশ না করার কারণ ছিল—রাঙ্গুনিয়ার একটি অংশ কষ্ট পাবে। দলকে এক করতে না পারলে নির্বাচনের ফল তো আগেই বোঝা যেত। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গত আন্দোলনে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন, কারও পরিবারের সদস্য মারা গেলেও জানাজায় থাকতে পারেননি। তখন যারা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহারের প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। দলের কর্মীদের মূল্যায়নের দায়িত্ব আমি নিলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘হাইব্রিড’ প্রসঙ্গে বলেন, “বিএনপি দুই ভাগ থাকার সুযোগে অনেক হাইব্রিড বালু চুরি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে যুক্ত হয়ে সুবিধা নিয়েছে। আজ চাচা–ভাতিজা মিলে তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি—তাদের সময় শেষ।”

মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে যারা দলের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, তাদের ত্যাগ–সংগ্রামের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আর সেন্টার কমিটিও হবে সবার মতামত নিয়ে—এটা ব্যক্তিগত কমিটি নয়, তারেক রহমানের কমিটি, দলের কমিটি। এটার হকদার আমি একা নই, সবাই।” সভায় তিনি নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে আছি। ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে এখনো বিএনপির দায়িত্ব পালন করছি। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই আমরা কাজ করব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর যেসব ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি পরিবারে কোনো গ্রুপিং নেই। ধানের শীষের স্বার্থেই সবাই ঐক্যবদ্ধ। পাড়া–মহল্লায়, ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইতে হবে।”

“দুর্নীতি-সন্ত্রাস নির্মূলেই উন্নয়নের বাধা কাটবে” — রাঙ্গুনিয়ায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী

রাঙ্গুনিয়া : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ইছাখালী এলাকায় নুরজাহান ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এই নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. এটিএম রেজাউল করিম রাঙ্গুনিয়াকে চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় রয়েছে বহু মিল-কারখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গুমাই বিল। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের সংযোগস্থল হওয়ায় ভৌগোলিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “আমি রাঙ্গুনিয়ার সন্তান। রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সেবা করার সুযোগ চাই। রাঙ্গুনিয়াকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন ও দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার করতে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস সমূলে উৎখাত করা গেলে উন্নয়নে আর কোনো বাধা থাকবে না।”

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আরও দুইটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছি। ইনশাআল্লাহ, এটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদী।” এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সরু ও বেহাল সড়ক প্রশস্ত করে চলাচল উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দাবি করে ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার আনাচে-কানাচে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ারই আগামী দিনে রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন ঘিরে রেড-ইয়েলো-গ্রিন জোন চিহ্নিত করা হবে: সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি একেবারে নিখুঁত না হলেও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি জানান, নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোন চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ, আনসার, বিজিবি-সহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন জাতিকে একটি নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়ে তাদের অঙ্গীকার পূরণ করবে।

চিকিৎসায় ব্যস্ত পরিবারের ঘরে চুরি, সাংবাদিকের ল্যাপটপ গায়েব

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দিনে-দুপুরে এক সংবাদকর্মীর ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. মতিন রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের মুন্সি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে এম. মতিনের বড় মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়। রাতেও স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন তিনি। সকালে পরীক্ষা থাকায় মেঝ ছেলে মাদ্রাসায় যায় এবং এম. মতিন সকাল ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনাস্থ রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান।

এসময় মেঝ ছেলে পরীক্ষা শেষে ফিরে ঘরের সামনে ছিটকিনি লাগিয়ে চাচার বাড়িতে যায়। পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগে কোনো একসময় চোরেরা ঘরে ঢুকে চুরি করে। বিকাল ৪টার দিকে এম. মতিন বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজা খোলা এবং টেবিলের ওপর থাকা ল্যাপটপটি উধাও।

সাংবাদিক এম. মতিন বলেন, “মেয়ের অসুস্থতার কারণে গতকাল থেকে হাসপাতালে ছুটোছুটি করছি। আজ সকালে মেঝ ছেলেকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে হাসপাতালে গেলে তখনো ল্যাপটপটি টেবিলেই ছিল। বিকেলে ফিরে দেখি কি-বোর্ড আর মাউস আছে, ল্যাপটপ নেই। অনেক খুঁজেও পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবারের লেখাপড়া ও চিকিৎসা খরচ চালাতে এমনিতেই চলছে আর্থিক টানাপোড়েন। তার ওপর নিত্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরি হয়ে গেল—এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। যারা এটা করেছে তারা আমার প্রতি জুলুম করেছে। হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ করতে দেরি হচ্ছে।”

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “এ ঘটনায় এখনো আমাদের জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বাঁশখালীতে নিখোঁজের তিন দিন পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আশরাফ মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে কালীপুর ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশরাফ মিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফরিদের ছেলে।

এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, তিন দিন ধরে আশরাফ মিয়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। সকালে তার বাড়ির উঠানের দক্ষিণ পাশের ঝোপঝাড়ে সদ্য খোঁড়া মাটির স্তূপ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহটির মাথা ও শরীরে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাচা–ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ইফতেখার রাহাত (৩০) ও আবিদুল হাসান (৩৫) প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের লালিয়ারহাট এলাকার মিস্ত্রি ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাহাত হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুর এলাকার চাঁনগাজী চৌধুরী বাড়ির সাবেক স্কুল শিক্ষিক মো. ইউছুপের পুত্র। আর আবিদুল হাসান একই বাড়ির প্রয়াত নুর আহমদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে আবিদুল হাসান অসুস্থ হয়ে পড়লে রাহাত তাকে দ্রুত হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে লালিয়ারহাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহাতের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবিদুল হাসানকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। একই অটোরিকশায় থাকা রাশেদ চৌধুরী গুরুতর আহত অবস্থায় চমেকে ভর্তি আছেন।

রাউজান হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদে সেবা মান উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা

চট্টগ্রাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে এবং জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে আজ শনিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অর্ধ-বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম মোঃ শরীফ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আগত সেবাপ্রত্যাশীরা যেন ভালো আচরণ ও প্রয়োজনীয় সেবা পান তা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী, মানবিক ও সেবামুখী হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ছোট ছোট বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি না হলে জনগণকে বারবার বিভিন্ন অফিস-আদালতে ঘুরতে হয়। এ কষ্ট লাঘব করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে।”
সেবা প্রদানে আন্তরিকতা, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ফরিদুল আলম।

সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার মোঃ শরীফ উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মাঠপর্যায়ে সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিষ্ঠান। জনগণের সেবা গ্রহণের পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রদত্ত আইনগত ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এতে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৯১টি ইউনিয়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলাম, ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আবছার ও লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আসলাম।

সভায় চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

একদিকে বাবার সঙ্গে কথা, অন্যদিকে খোঁড়া হচ্ছিল দুইটি কবর — স্মরণ সভায় ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী

চট্টগ্রাম: “একদিকে বাবার সঙ্গে কথা বলছি—সুস্থ, জীবিত একজন মানুষ। আর অন্যদিকে তাঁর জন্য খোঁড়া হচ্ছিল দুইটি কবর।”—সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার কাদের নগরে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায়  এমনই স্মৃতিচারণ করেন তার বড় ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী।

তিনি বলেন, “ফাঁসির দুই ঘণ্টা আগে আমরা বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখনই কবর দুটি খোঁড়া হচ্ছিল। সবাই জানতেন—ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে হিসেবে বাবাকে রাউজানেই দাফন করা হবে। কিন্তু বাবা চেয়েছিলেন রাঙ্গুনিয়ার মাটিতেই থাকতে। সেই অধিকার থেকেও বাবাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

ফাইয়াজ কাদের অভিযোগ করে বলেন, “বাবাকে বাঁচাতে বহুজনের কাছে গিয়েছি, সবাইকে বলেছি তিনি নির্দোষ। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের কারণে কেউ কিছু করতে পারেনি। শেষের দিকে ভাবলাম—বাবাকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না, অন্তত তাঁর সম্মানটা কীভাবে রক্ষা করা যায় সেটাই চিন্তা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাবা একফোঁটা চোখের পানি ফেলেননি, কিন্তু তাঁর চোখ লাল ছিল। আমাকে বলেছিলেন—‘বাবা, ইজ্জতের মালিক আল্লাহ।’ আজ ১০ বছর পর সেই কথার সত্যতা দেখতে পাচ্ছি। নতুন প্রজন্ম সত্যকে চিনেছে।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাবার নির্বাচনে পরিবারের সবাই থাকতেন। কিন্তু হুম্মামের নির্বাচনে পরিবারের প্রয়োজন পড়বে না—কারণ রাঙ্গুনিয়ায় তাঁদের হাজারো ভাই-বোন ও মুরুব্বি আছেন, যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

একই স্মরণ সভায় চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “সাধারণত বক্তব্য শেষে তাকবির দিই, কিন্তু আজ ভাইয়ের কথা শুনে মনটা ভারী হয়ে গিয়েছিল—তাই শুরুতেই তাকবির দিয়ে মনটা শান্ত করেছি।”

বাবাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “শেষবার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—মানুষ জানতে চাইছে, তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি না? বাবার উত্তর ছিল—‘চট্টগ্রামের মানুষ আমাকে ৪০ বছর যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, যদি পারতাম আমার কলিজাটা তাদের দিয়ে দিতাম।’”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা পরবর্তীতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন—আমার স্বামী যদি পারতেন তাঁর কলিজা চট্টগ্রামের মানুষকে দিয়ে দিতেন। আজ আপনাদের সামনে বলতে চাই—আমার মায়ের স্বামী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাঁর কলিজার অংশ হিসেবে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে আপনাদের কাছে দিয়ে গেছেন।”

এছাড়াও সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

অবশেষে মাদক ছাড়লেন রাঙ্গুনিয়ার জলইক্যা, মসজিদে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ঘাগড়াকুল এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আজিজুল হক (৬৫) ওরফে ‘জলইক্যা’ দীর্ঘ পাঁচ দশকের মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদে মুসল্লীদের সামনে তিনি প্রকাশ্যে তওবা করেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো মাদক ব্যবসায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

জানা যায়, স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আজিজুল হক মসজিদে উপস্থিত সবার সামনে অতীতের অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। মসজিদের ইমাম এইচ এম তারেক হোসাইন তাকে তওবা পাঠ করান ও সৎপথে ফেরার নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে হালাল ব্যবসার মাধ্যমে জীবন-জীবিকা চালাবেন।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর এলাকাবাসী আজিজুল হকের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি পালিয়ে যান। তিন দিন পরে তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘাগড়াকুল বাইতুল ইকরাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক ইউছুপ কামাল তালুকদার বলেন, “জলইক্যা যদি তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়ান, তবে এলাকাবাসী তাকে আর ছাড় দেবে না।”

তওবার সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী শফিউল আহমদ, রাজানগর আর এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউছুপ কামাল তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, ইসলামপুর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব কুসুম, সাবেক ছাত্রনেতা খোরশেদ আলম, বাবর হোসাইনসহ স্থানীয় মুসল্লী ও নেতৃবৃন্দ।

রাঙ্গুনিয়ায় তিন অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চিমনি–কিলন

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুন্নাহার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)–এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করায় তিনটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো হলো— উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকার মেসার্স খাজা ম্যানু রিসোর্স ব্রিকস (KMR), যার চিমনি ও কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই ইউনিয়নের মেসার্স কেবিএম ব্রিকস (KBM)-এর চিমনি ও কিলনও উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদপুর সোনারগাঁও এলাকার মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (SAB) ইটভাটার চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গুনিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা, র‍্যাব-০৭ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তর এবং রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা। সার্বিক সহায়তায় ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের সদস্যরা।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাঙ্গুনিয়ায় প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী ২৬ নভেম্বর, সেরাদের জন্য থাকছে পুরস্কার

রাঙ্গুনিয়া: “দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” স্লোগানকে সামনে রেখে “জাতীয় প্রাণীসম্পদ সাপ্তাহ – ২০২৫” উপলক্ষে আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী “প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী”।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে খামারী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন স্টল। প্রাণিসম্পদ বিষয়ে পরামর্শ সেবা এবং বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা প্রদর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য—প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সৃষ্টি, ক্ষুদ্র খামারী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলায় সক্ষমতা সৃষ্টি, বিজ্ঞানভিত্তিক লালন-পালন কৌশল অবিহিত করা, উন্নত জাতের পশুপাখি পালনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান এবং জনসাধারণের জন্য নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ নিশ্চিত করা।

যেসব স্টল থাকবে
প্রদর্শনীতে দেখা যাবে—উন্নত জাতের গাভী, বাছুর, ষাঁড়
উন্নত জাতের মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের পোষা পাখি, বিভিন্ন পোষা প্রাণী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্য (মিষ্টি, দই, ঘি, মাখন, ছানা ইত্যাদি), মাংস প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঔষধ কোম্পানি, প্রাণিখাদ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম প্রদর্শনী।

স্টল বুকিং
মোবাইল: ০১৩২৪-২৯০৯৫৯

প্রদর্শনী-সংক্রান্ত সব তথ্য গণমাধ্যমকে সরবরাহ করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমীন আক্তার।

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে পুড়েছে বসতঘর, প্রশাসনের সহায়তা পৌঁছাল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আগুনে পুড়ে গেছে একটি বসতঘর। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা শান্তিরহাট সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রুমি আক্তার ও তার স্বামী রহিমের আধাপাকা বাড়ির কাঁচা বেড়ার রান্নাঘরে জ্বালানো লাকড়ির আগুন অসতর্কতার কারণে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার জাহেদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রান্নার চুলার আগুন থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান পোমরা ইউনিয়নের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেব্রবত দাশ। তার পক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারটির হাতে তাৎক্ষণিক শীতবস্ত্র ও একটি বস্তা চাল পৌঁছে দেন।

প্রশাসক দেব্রবত দাশ জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আমরা আছি। পরবর্তী সরকারি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।” তিনি একই সঙ্গে এলাকার সচ্ছল ব্যক্তিদেরও দুর্যোগে পড়া এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তারেক রহমানের গভীর শ্রদ্ধা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৬ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভাসানীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বার্তায় তারেক রহমান বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রবাদপ্রতিম নেতা মওলানা ভাসানী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মওলানা ভাসানী ছিলেন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। শোষণের বিরুদ্ধে এবং শোষিতের পক্ষে তাঁর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিল।

তারেক রহমান বলেন, জাতির ভয়াবহ দুর্দিনগুলোতে মওলানা ভাসানী জনস্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর নির্ভীক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অত্যাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলেছিল।

তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে মওলানা ভাসানী সবসময় প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। তাঁর দেশপ্রেম ও মানবতার আদর্শ অনুসরণ করতে পারলেই জাতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

লকডাউনের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

রাঙ্গুনিয়া: আওয়ামী লীগ ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচির প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউনের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে এবং বিভিন্নভাবে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে। শান্ত বাংলাদেশকে অশান্ত করতে এসব করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা বলেন, এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

অন্যদিকে, গতকাল রাতে লকডাউনের প্রতিবাদে একটি মশাল মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের মোগলেরহাট বাজার এলাকায় এ মশাল মিছিলটি বের করে হোসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

ছোট্ট আরাফের বিজয়ের সিগন্যাল থেমে গেছে চিরতরে

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় কাজী তাইমিম মুহাম্মদ আরাফ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নেজামশাহ পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফ ওই এলাকার কাজী মুহাম্মদ এসকান্দরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল আরাফ। এসময় বিয়েবাড়িতে আসা একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছবিতে সানগ্লাস পরা ছোট্ট আরাফের আঙুলে তোলা “বিজয়ের সিগন্যাল” যেন এখন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। মাত্র সাত বছরের প্রাণচঞ্চল এই শিশুটি আর কোনোদিন সেই হাসি, সেই সিগন্যাল তুলবে না—থেমে গেছে তার শৈশবের সব খেলা, সব উচ্ছ্বাস। তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

চট্টগ্রামে আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের ১০০ কোটি টাকার সহায়তার ঘোষণা

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখন চট্টগ্রামে নিরাশ্রয় ও অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি লন্ডনের চট্টগ্রাম সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে মেয়র এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বহু স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনা থাকলেও প্রবীণদের জন্য নিবেদিত কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা ডেডিকেটেড হেলথ কেয়ার সেন্টার এখনো গড়ে ওঠেনি।

মেয়রের এই মানবিক আহ্বানে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ হয় এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ প্রেক্ষিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ৪০ শতক জমি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের যৌথ উদ্যোগে একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম ও হেলথ কেয়ার সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার ফান্ড রেইজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি চট্টগ্রামের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে একটি যুগান্তকারী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মেয়র মন্তব্য করেছেন।

মেয়র আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের এই উদ্যোগ শুধু প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীরই নয়, বরং সমগ্র চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি গৌরবের বিষয় হয়ে উঠবে।

সূত্র: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ
প্রকাশের তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৫

 

রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, সেবার জন্য: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “রাজনীতি নাম বড় করার জন্য নয়, এলাকার মানুষের খেদমতের জন্য রাজনীতি। যেটা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী করেছেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি রাস্তা, ব্রিজ ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য, কখনো নিজের নাম প্রচারের জন্য এসব করেননি।”

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার পারুয়া জিয়াউল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আজকে পারুয়ায় আসার পথে মনে কষ্ট লাগলো, এখনো এমন এলাকা আছে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, রাস্তা এত ভাঙা যে গাড়ি চলাচলই সম্ভব নয়। ২০২৫ সালে এসেও এই বাস্তবতা কল্পনাতীত। তাই আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম দুই প্রতিশ্রুতি হবে— বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও রাস্তা মেরামত করা। এই দুটি কাজ হয়ে গেলে আমি বিশ্বাস করি, পারুয়ায় এমন কোনো মানুষ থাকবে না যে ধানের শীষে ভোট দেবে না।”

হুমাম কাদের আরও বলেন, “আমার বাবা বলতেন, নির্বাচন এলেই অনেকে লম্বা লিস্টে ইশতেহার দেয়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, পারুয়া এলাকার এই রাস্তার কাজ ইনশাআল্লাহ আমি করে দেব। এটা রাজনৈতিক কারণে নয়, মনে হয় এই কাজটি করলে আমার বাবার আত্মাও শান্তি পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগের মতো নোংরা রাজনীতি ও কাদা ছোড়াছুড়ির দিন শেষ। এ নির্বাচন হবে একটি পরিবর্তনের নির্বাচন— চোর-ডাকাতের রাজনীতির অবসান ঘটাবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তিনি অসুস্থ হয়েও তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন শুধুমাত্র নেতাকর্মীদের সাহস দিতে এবং দেশবাসীকে জানাতে যে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য লড়বেন।”

নিজের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে হুমাম কাদের বলেন, “বাবাকে হারানোর পর সবাই বলেছিল রাজনীতি ছেড়ে বিদেশ চলে যেতে। কিন্তু আমি ভেবেছি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লাখো ভাই-বোনদের আমি একা ফেলে যেতে পারি না। ওমরাহ থেকে দেশে ফিরে আমি গুম হয়েছি, সাত মাস আয়না ঘরে ছিলাম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি— তবু রাজনীতি ছাড়িনি। তারেক রহমান আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি রাজনীতি করো বা না করো, আমি তোমার পাশে আছি।’ সেই সাহসেই আজ আবার মাঠে নেমেছি।”

এর আগে তিনি পারুয়া সাহাব্দিনগর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং মধ্যম পারুয়া হযরত নিজাম উদ্দিন শাহ (রহ.) মাজারে জিয়ারত করেন।

এসময় উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তথ্য বিকৃতি, মিসকোটিং-এর মহামারি চলছে: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তথ্য বিকৃতি ও মিসকোটিংয়ের (ভুল উদ্ধৃতি) মহামারি চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে মিসকোট করার প্রবণতা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এমন এক অপরাধ যার কারণে সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রধান এবং এর শীর্ষ সাংবাদিকের একজনকে চাকরি হারাতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমনকি সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় নামগুলিও এই অপরাধে দোষী।

কয়েকদিন আগে, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক এক পাবলিক ইভেন্টে দেওয়া আমার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ মিসকোট করেছে। প্রতিবেদনটি পড়তে গিয়ে আমার মনে হলো, প্রতিবেদক সম্ভবত আমার বক্তব্যের অডিও কোনো এআই ট্রান্সক্রিপশন টুলের মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রকাশ করেছেন। এর ফলে যা বেরিয়েছে তা ছিল একগাদা যান্ত্রিকভাবে লেখা আজগুবি বাক্য। এর কিছু অংশ মজার মনে হলেও সামগ্রিকভাবে ভীষণ হতাশাজনক। যেমন- আমি যখন “Touch” শব্দটি বলছিলাম, সফটওয়্যারটি সম্ভবত শুনেছিল “Kaaz” (কাজ)। ফলে, ওই প্রতিবেদনে ছাপা হয়েছে “কাজ।”

সমস্যাটা এখানেই শেষ হয়নি। ওই প্রতিবেদন কপি-পেস্ট করে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টাল একই ভুল অক্ষরে অক্ষরে পুনরুত্পাদন করেছে। আমার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে। নতুন চাকরির প্রথম কয়েক মাসে আমি সম্পাদক ও প্রতিবেদকদের ফোন করে সংশোধনের দাবি জানাতাম। এখন আর সে চেষ্টা করি না। সত্যি বলতে, আমার সেই সময় নাই।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ফটোকার্ড। প্রতিদিনই সংবাদপত্রগুলো- বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন এবং বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের দ্বারা প্রভাবিত কালের কণ্ঠ, টিভি স্টেশন এবং ওয়েবসাইটগুলো বিতর্কিত বিশ্লেষক বা পাবলিক ফিগারদের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে এই গ্রাফিক স্নিপেট তৈরি করছে।

তারা বক্তব্য থেকে এক-দুই লাইন চেরি পিক করে, তারপর প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে তাদের বেছে নেয়া এক-দুই লাইনকেই চমকপ্রদ শিরোনামে পরিণত করে। সম্প্রতি আমি সিরডাপে ২৭ মিনিটের একটি বক্তৃতা দিয়েছিলাম। সেখান থেকে মাত্র একটি লাইন তুলে নিয়ে তারা প্রতিবেদন বানিয়েছে—যার ফলে আমার বক্তব্যের আসল বার্তাটাই বিকৃত হয়ে গেছে।

টেলিভিশন বিশ্লেষক ও ইউটিউবারদের অবস্থা আরও করুণ। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়েন না, পুরো বক্তব্যও শোনেন না। বরং আগে থেকে তৈরি নিজস্ব ধ্যান-ধারণার সঙ্গে কিছু সত্য আর অসংখ্য মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন। প্রতিদিনই কিছু ইউটিউবার দীর্ঘ মনোলগ আকারে ভুল তথ্যভরা ভিডিও প্রকাশ করছে। তাদের যথাযথ গবেষণা নেই, এমনকি প্রশিক্ষিত ফ্যাক্ট-চেকার বা গবেষকদের সাহায্যও তারা নেন না। এর ফলাফল হলো- অবিরাম মিথ্যা তথ্যের বিস্তার।

তাদের কিছু দাবি আবার আশ্চর্যজনকভাবে সাহসী। এক নারী ইউটিউবার দাবি করেছিলেন, প্রফেসর ইউনুস ও তাঁর কন্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার ছবিটি নাকি “ম্যানিপুলেটেড” (নকল)। অথচ ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল।

তিনি যখন এই দাবি করেছিলেন তখনও আমরা নিউইয়র্কে ছিলাম। তিনি মূলত বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের একটি অফিসিয়াল ছবি বিকৃত করার অভিযোগ এনেছিলেন। কী হাস্যকর! আমি এ বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করলে তাঁর স্বামী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক, তার পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাসিনার আমলে ওর কোনো ছবি নিয়ে এই দম্পতি এমন কিছু করার কথা ভাবতে পারতেন!

কয়েকদিন আগে, নিজেকে “স্পষ্টভাষী” সাংবাদিক বলে পরিচয় দেওয়া আনিস আলমগীর দাবি করেছেন যে জুলাই আন্দোলনের সময় প্রফেসর ইউনুস বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করার জন্য পিআর এজেন্সিগুলোকে “কোটি টাকার”ও বেশি অর্থ দিয়েছেন।

তিনি সম্ভবত দাবি করছেন যে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ইমেইল সাক্ষাৎকারগুলো, যার সত্যতা নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে, স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনপেইড ছিল। একজন গণহত্যাকারী কোনো পিআর প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই এরকম ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার আয়োজন করছে এই দাবি হাস্যকর।

স্পষ্টভাবে বলে রাখি, প্রফেসর ইউনুস কখনো এক পয়সাও কোনো পিআর এজেন্সিতে দিয়ে কোনো ধরনের সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেননি। যদি আনিস আলমগীরের কাছে এই বক্তব্যের কোনো প্রমাণ থাকে, তার উচিত সেটা উপস্থাপন করা। কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি জামায়াত কর্মীও একই অভিযোগ করেছিলেন। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। তিনি রিজয়েন্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা এখনো আসেনি।

আজকের কাগজ থেকে উঠে আসা আনিস আলমগীর, এমন এক প্রজন্মের সাংবাদিকদের অংশ যাদের কখনো যথাযথ সূত্র বা রেফারেন্সের প্রতি বেশি যত্ন ছিল না। তার সবচেয়ে স্মরণীয় কাজ বাগদাদের একটি হোটেল রুম থেকে ইরাক যুদ্ধের “কভার” করা, হোটেল থেকে বের না হয়েই যুদ্ধ নিয়ে রূপকথার গল্প লেখা।

গতকাল বিবিসির শীর্ষ সম্পাদক ও একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য মিসকোট করার জন্য পদত্যাগ করলে এটি বিশ্বব্যাপী শিরোনামে আসে। বাংলাদেশে পাবলিক ফিগারদের মিসকোট করা অথবা প্রেক্ষাপটের বাইরে বক্তব্যের এক-দুই লাইনকে হাইলাইট করা নিত্যদিনের ঘটনা। আর আপনি যদি এর প্রতিবাদ করেন, তাহলে তারা “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার” দোহাই দিয়ে কেটে পড়বে। তারা উল্টো অভিযোগ করবে যে, আপনি তাদের ভয় দেখাচ্ছেন, আপনি অসহিষ্ণু এবং আপনাকে আওয়ামী লীগের রাস্তার গুন্ডাদের সাথে তুলনা করবে।

এই হলো আমাদের গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা—দায়িত্বহীন, জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে এবং সত্য থেকে বহু দূরে।

সূত্র: অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ

লন্ডন সফরের সময় চসিকের প্রশাসনিক তদারকিতে সচিব আশরাফুল আমিন: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

 


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, তাঁর লন্ডন সফরকালীন সময়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন।

 

রোববার লন্ডন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, তাঁর লন্ডন সফরের সম্পূর্ণ খরচ ব্যক্তিগতভাবে বহন করা হচ্ছে। এর আগে কানাডার টরন্টো সফরের খরচও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।

বিবৃতিতে মেয়র স্পষ্ট করেন, সরকার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, কোনো ঠিকাদার বা তৃতীয় পক্ষ এই সফরের অর্থায়ন করছে না।

এছাড়া, মেয়র জানান, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও তিনি প্রায়ই সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে এসব দিনে তিনি চসিকের গাড়ি বা জ্বালানি ব্যবহার করেন না; বরং নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

সুত্র : চসিক ও মেয়রের ফেসবুক।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাস দমনে অভিযান চলবে: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম।

সভায় অক্টোবর ২০২৫ মাসের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া আসন্ন ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, চোরাচালান দমন, অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, চট্টগ্রাম নতুন ব্রিজ এলাকায় যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। দুর্বৃত্তায়ন কিংবা যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো. জুনায়েদ কাউছার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সূত্র: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ফেসবুক থেকে।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের লিচুবাগান এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। ৫ তারিখের পর থেকে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে জড়িত, তারা বিএনপির কেউ নন। বিএনপি সাধারণ মানুষের দল, শান্তিপ্রিয় মানুষের দল। বিএনপি কোনো চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না।”

বক্তারা আরও বলেন, “আজ থেকে চন্দ্রঘোনায় কোনো মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলবে না। কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি বা হস্তক্ষেপ করা হবে না। আমরা সবাই মিলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব।”

তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “চন্দ্রঘোনায় যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনে।”

বক্তারা আরও জানান, “আমাদের নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশ অনুযায়ী চন্দ্রঘোনায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন, বিএনপি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।”

মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন ১০ নভেম্বরের পর গ্রহণ হবে না

ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন আগামী ১০ নভেম্বরের পর গ্রহণ করা হবে না। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এ তথ্য জানায়।

নির্বাচন কমিশনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে ভোটার ঠিকানা স্থানান্তর করতে চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। জেলা ও উপজেলা নিবন্ধন কর্মকর্তারা প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের শুরুতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সম্ভাব্য নির্বাচনের সময় ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোবাইল কোর্ট: পাটজাত বস্তা ব্যবহার না করায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শান্তির হাট বাজারে পাটজাত বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার এবং স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা চাল অন্য জেলার নামে প্যাকেজিং করার দায়ে ৫টি চালের আড়ত ও অটো রাইস মিলকে সর্বমোট ৬৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাট অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক বাবুল চন্দ্র দাস।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে দেখা যায় শান্তির হাট বাজারে বেশ কয়েকটি চালের আড়ত ও মিল পাটজাত বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা চাল বিভিন্ন জেলার (দিনাজপুর, নওগাঁ ইত্যাদি) নাম ব্যবহার করে প্যাকেজিং করা হচ্ছিল। এসব অনিয়মের দায়ে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম প্রশাসনকে সহযোগিতা করে।

রাঙ্গুনিয়ায় জিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে হুম্মামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ার জিয়া নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে  ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারত শেষে কাদের নগরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা ফারহাদ কাদের চৌধুরীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

মাজার জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীরা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আজ রাঙ্গুনিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। রাঙ্গুনিয়ার সকল শ্রেণীর মানুষ আজ এক কাতারে দাঁড়িয়ে বলেছে— তারা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আবার চায়। আমাদের ভাগ্য খারাপ, তিনি আজ এই দিনটি দেখতে পারছেন না। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই— যতদিন বেঁচে আছি, মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দেখানো পথেই আমি ইনশাআল্লাহ চলব।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাতে বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার পক্ষে আমারও নাম এসেছে। আজ থেকে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হলো। আমাদের ঐতিহাসিক রাঙ্গুনিয়ায়, যেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার রয়েছে, সেই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “রাঙ্গুনিয়ায় অনেক নেতা আছেন, আগে আমাদের মধ্যে কিছু মতভেদ ছিল। তবে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশে এখন আর কোনো গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই ধানের শীষের পক্ষে এক হয়ে কাজ করব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ভেবেছিলাম তারেক রহমানের সঙ্গে সংসদে যাব, কিন্তু আল্লাহর লিখন ভিন্ন ছিল। আজ আমার সৌভাগ্য হবে— রাঙ্গুনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাহেবের পাশাপাশি সংসদে বসার।”

হুম্মাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, আপনাদের কাছে একটা দায়িত্ব দিলাম রাঙ্গুনিয়ার যতগুলো মানুষ আছে তাদের কাছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ হতে, তারেক রহমানের পক্ষ হতে সালাম পৌঁছে দিবেন।

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি, জনমনে সম্প্রীতির প্রত্যাশা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের খণ্ডলিয়াপাড়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় বিএনপি নেতা ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতি জনমনে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে ভিন্ন সময়ে সভায় যোগ দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

বিকেলে স্থানীয় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি (হুম্মাম কাদের চৌধুরী) মাদ্রাসার সভায় অংশ নেন এবং বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা—দোয়া করবেন যেন ঈমানের সঙ্গে বাঁচতে ও মৃত্যু বরণ করতে পারি। আমার বাবা আপনাদের মাঝে নিয়মিত আসতেন, দোয়া চাইতেন। আশা করছি, সেই দোয়া ও ভালোবাসা আমিও পাব।”

তিনি আরও বলেন, “সামনে নির্বাচন আছে, কী হবে জানি না, তবে চেষ্টা করব আপনাদের পাশে থাকতে। আপনাদের দোয়া নিয়েই যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে।”

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম সভায় বক্তব্যে বলেন, “এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ অনেক আলেম-ওলামা দেশে-বিদেশে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন। কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদান পায় না, তবুও ইসলামী শিক্ষার মূল শক্তি তৈরি করছে।”

তিনি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আবদুল গণি    ও বর্তমান পরিচালক মাওলানা সুলতান আহমেদ-এর জন্য দোয়া করেন এবং বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানসহ দেশের হাজারো মাদ্রাসা মানুষের দান ও অনুদানে চলছে। আমাদের সবার উচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানো।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জাগদল নেতা, বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী এমএন আলম। তিনিও মাদ্রাসার সাফল্য কামনা করেন।

সভা শেষে মাদ্রাসা মিলনায়তনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কৌশল বিনিময় হয় বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, দুই দিনব্যাপী এই বার্ষিক সভার সমাপ্তি হচ্ছে আজ শনিবার। গতকাল থেকে শুরু হওয়া সভায় বিভিন্ন অঞ্চলের খ্যাতনামা আলেম-ওলামারা ইসলামী আলোচনা করেন।

রাঙ্গুনিয়ায় পুকুরে ডুবে এক সপ্তাহে ৫ শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পুকুরে ডুবে একের পর এক শিশু মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে গেছে পানিতে। সর্বশেষ বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের মহাজন বাড়ি এলাকায় পুকুরে ডুবে মারা গেছে সম্পূর্না সাহা মিমি (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী।

নিহত মিমি স্থানীয় দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুশীল ডাক্তার বাড়ির লিটন সাহার মেয়ে। কয়েকদিন আগে সে তার স্কুলশিক্ষিকা মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বুধবার সকালে মিমির মা স্কুলে গেলে সে একাই গোসল করতে নামে। ধারণা করা হচ্ছে, পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় এবং ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর এক পথচারী পুকুরে ভাসমান অবস্থায় মিমির মরদেহ দেখতে পান। পরে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে মিমি ছিল ছোট।

এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে রাঙ্গুনিয়ায় পুকুরে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো। এর আগে ২৪ অক্টোবর পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় একসঙ্গে তিন শিশু—সুমাইয়া আক্তার (১১), রুবিনা পারভীন হাবিবা (৭) ও জান্নাত আক্তার (১০)—ডুবে মারা যায়। এরপর ২৬ অক্টোবর চন্দ্রঘোনা এলাকায় মো. ইয়াছিন (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

৩১ দফা লিফলেট হাতে রাঙ্গুনিয়ার মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ৩১ দফা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও হাটবাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও হাটবাজারে দিন-রাত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এই ৩১ দফা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন এলাকাতেও তাকে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

এ সময় তিনি স্থানীয়দের ও পথচারীদের হাতে ৩১ দফা-সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সালাম জানান। পাশাপাশি তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এই যুবদল নেতা এস. এ. মুরাদ চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

সেখানে তিনি বলেন, “আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্যও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে, বাংলাদেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে উত্তর চট্টলার সাতটি আসনে যাকে তারেক রহমান মনোনয়ন দেবেন, আমরা সবাই ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এক হয়ে কাজ করব—এই প্রত্যাশা রাখি।”

মুরাদ চৌধুরী আরও বলেন, “ধানের শীষের বিজয়ের জন্য আমাদের গ্রামগঞ্জে গিয়ে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হবে। এই সমর্থন আদায়ের জন্য সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে। মানুষের আশা-প্রত্যাশা বুঝতে হবে।”

সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনগণের পাশে দাঁড়ান, তাদের কল্যাণে কাজ করুন। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে ভালোবাসা ও জনগণের আস্থার মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে সংসদে যেতে পারেন এবং বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।”

রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে জামায়াতের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার রাণীরহাট বাজারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত জনসংযোগ ও গণসমাবেশে অংশ নেন দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এ সময় তিনি রাণীরহাটসহ আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাজার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, “রাণীরহাট, ইসলামপুর, রাজানগর ও বাগাবিলি এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অসুস্থ রোগীদের চট্টগ্রাম বা রাঙ্গামাটি নিয়ে যেতে হয়, যা দীর্ঘ পথের কারণে অনেক সময় জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভঙ্গুর। রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি ইছামতী নদীর ভাঙন থেকে রাণীরহাট বাজারকে রক্ষা করে এটিকে আধুনিক বাজারে রূপ দেওয়া হবে।”

গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দাবি তুলে ধরেন তিনি। এর আগে রাণীরহাট বাজারের প্রতিটি গলি ও দোকানে ঘুরে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ডা. রেজাউল করিম।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গামাটি জেলা আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি মনসুরুল হক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, ইসলামপুর ও রাজানগর ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আহমদ নবী, সদস্য সচিব নুরুল আবছার মেম্বার প্রমুখ।

গণসংযোগকালে রাণীরহাট বাজার সমিতি, বণিক সমিতি, চাল ব্যবসায়ী সমিতি, মামরা সম্প্রদায় গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

তরুণদের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতা, যিনি তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন— এমন মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে ছাত্রসমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা এ কথা বলেন।

আয়োজনটি করে রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, “বিএনপি উদার মনের একটি রাজনৈতিক দল, এটি ছাত্রবান্ধব ও গণতন্ত্রের রক্ষক। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল স্বনির্ভর, দেশপ্রেমিক ও জনমুখী বাংলাদেশ গড়া। তারেক রহমান সেই আদর্শের আলোকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলম।
সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এস শোয়াইব কাদের এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী ফরহাদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন রুবেল, মো. ইয়াছিন, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাস্টার ইমরান, ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ সায়মন, রাজানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা।

আগামীর নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ: রাঙ্গুনিয়ায় এলডিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নুরুল আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় র‍্যালি ও পথসভা করেছে দলটি।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রধান র‍্যালিতে যোগ দেন। র‍্যালিটি চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা সদরের ইছাখালী এলাকায় পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি এলডিপির প্রার্থী ছিলাম না, ছিলাম জোটের প্রার্থী। সামনে যে নির্বাচন আসছে তা হবে একটি অভিনব, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—যেখানে কোনো জালিয়াতি থাকবে না। আমি চাই, সেই নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়াবাসীর রায়ে আমার নাম ও এলডিপির সম্পৃক্ততা থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ দীর্ঘদিনের নীরবতা, বিচ্ছিন্নতা ও দ্বিধা–দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে রাঙ্গুনিয়াবাসীকে জানিয়ে দিচ্ছি—আমরা আছি, আমরা থাকব, আমরা রাজনীতি করছি এবং আগামীতেও নির্বাচনে অংশ নেব।”

নুরুল আলম জানান, এলডিপি এখনো জোটে রয়েছে এবং দলীয় মনোনয়নও পেয়েছে। অচিরেই জোটের প্রার্থীতা ঘোষণা হবে।
“আজকের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এতদিন আমাদের মধ্যে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা ছিল, এখন আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। আজকের এই র‍্যালি ও পথসভায় আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রতিটি কর্মসূচিতেও একইভাবে অংশগ্রহণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন—এই প্রত্যাশা করছি। এই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”