দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় চারটি চোরাই গরুসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার, পিকআপ জব্দ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আবদুল আজিজ ও তার ভাই হুমায়ন কবিরের মোট চারটি গরু চুরির অভিযোগে মো. শাওন ও মো. মানিক নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, ২৬ অক্টোবর রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে মো. শাওন (৩৫) ও মো. মানিক (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা তিনজন আসামি গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু চুরি করে পিকআপে তুলে নেয়। এ সময় স্থানীয়রা বাদীর সঙ্গে মিলে পুলিশের সহায়তায় নারিশ্চা মগবান্দের ব্রিজ সংলগ্ন নতুনপাড়া মুখী তিন রাস্তার মোড়ে ৪টি গরু ও দুই আসামিকে আটক করে। এ সময় চোরাই কাজে ব্যবহৃত পিকআপও জব্দ করা হয়।

পুলিশ বলেছে, চুরি হওয়া গরুর বাজার মূল্য প্রায় ৩,৩০,০০০ টাকা এবং চোরাই কাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশন বিহীন পিকআপের মূল্য প্রায় ৮,০০,০০০ টাকা। অজ্ঞাতনামা তিন আসামী পালিয়ে গেছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে রবিবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।

রাঙ্গুনিয়ার জন্য সুখবর আসছে, নেতাকর্মীদের অপেক্ষা করতে বললেন বিএনপি নেতা কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রস্তাবিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়ায় মহাসমাবেশ করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান বাসস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক শামশুল আলম কন্ট্রাক্টর। সদস্য সচিব আবদুস সালাম মেম্বার ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোজাফফর চৌধুরী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আজম খাঁন, রাঙ্গুনিয়া পৌর বিএনপির আহবায়ক মো. মাহবুব ছফা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব মিয়া চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক, মুজিবুল আলম মুজিব ও ওসমান গনি প্রমুখ।

সভায় প্রধান বক্তা সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী বলেন, “আজকের এই সভা রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেতাকর্মীরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে কাজ করেন, তাহলে হাইকমান্ড জানবে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি ঐক্যবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবেই করবো। আমাদের শক্তি সাংগঠনিক শক্তি, জনতার শক্তি—এই শক্তিকে কেউ দমাতে পারবে না।”

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে। কেউ যদি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এটি হবে আমাদের প্রথম দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “মরিয়ম নগর থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত ডিসি রোড সম্প্রসারণ, গুমাই প্রকল্পের উন্নয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং প্রবাসে যাওয়ার আগ্রহীদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত রাঙ্গুনিয়ায় একটি বড় পরিসরে এতিমখানা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।”

তিনি জানান, “তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা রাঙ্গুনিয়ার অলিগলিতে মানুষের কথা শুনছি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করা হবে।”

দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন, “গত ১৭ বছর যারা রাজপথে ছিল, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে—আমি সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষের জন্য সুখবর আসছে। একটু ধৈর্য ধরুন, বিজয়ের হাসি রাঙ্গুনিয়াবাসী হাসবে। সেই প্রত্যাশা রেখে ধানের শীষের মার্কা যিনিই নিয়ে আসবেন তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি আবু আহমেদ হাসনাত বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত। তাঁর আদর্শেই আজ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তারেক রহমান বিবিসিতে বাংলাদেশের প্রতিটি নেতাকর্মীর কথা বলেছেন, নিজের নয়। তিনি দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মানুষ সবসময় ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে পাশে থেকেছে। তাই আমরা চাই, রাঙ্গুনিয়ার নেতৃত্ব রাঙ্গুনিয়ার মানুষের হাতেই থাকুক। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই হবে আমাদের চূড়ান্ত নির্দেশ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা বাস্তবায়ন করবো।”

নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম: নোয়াখালীর কাশেম বাজার জামে মসজিদে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে হামলার অভিযোগে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগরের মুরাদপুর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি দুই নম্বর গেটে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ছাত্রশিবির মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মুমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।

সমাবেশে তানজির হোসেন জুয়েল বলেন, “কুরআনের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়। যুগে যুগে ইসলামবিরোধী শক্তি কুরআনের প্রোগ্রামে হামলা চালিয়ে এসেছে। অতীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রমজানে কুরআন তালিম ও ইফতার প্রোগ্রামে হামলা করেছে— এখন নব্য ফ্যাসিবাদিরা সেই পথেই হাঁটছে।”

তিনি আরও বলেন, “মসজিদ কারো বাপের সম্পত্তি নয়। মসজিদে কুরআন ও হাদিসের আলোচনা হবেই। যারা বাধা দেবে, তাদের জবাব দেওয়া হবে— এটি প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, “নোয়াখালীতে ছাত্রদল- বিএনপির সন্ত্রাসীরা পবিত্র কুরআন তালিমে হামলা চালিয়ে আমাদের ভাইদের রক্তাক্ত করেছে। তারা আমাদের মা-বোনদের প্রোগ্রামেও হামলা করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণেই ছাত্র সমাজ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে— যার প্রমাণ ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুতে তাদের শোচনীয় পরাজয়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস যে মোড়কেই আসুক আমরা প্রতিহত করব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমরা ঐক্যবদ্ধ।”

রাঙ্গুনিয়ায় নদী–খাল রক্ষায় এক মঞ্চে বিভিন্ন দল: ঐক্যের বার্তা উন্নয়নের পথে

বিশেষ প্রতিবেদন: কর্ণফুলী নদী, ইছামতী ও শিলক খালসহ উপজেলার জলাশয়গুলো রক্ষায় এক মঞ্চে বসেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। পরিবেশ ও উন্নয়নের স্বার্থে এমন ঐক্য রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ‘রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্র–জনতা’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় নদী–খাল রক্ষা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক। এতে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতিতে এক বিরল ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর আবু শাকের ভুইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মুরাদ, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির, ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সভাপতি আশরাফ গনি চৌধুরী, ইছামতী নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি এ বি এস মোরশেদ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার।

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল করিম টিপু, আদনান রাফি, মো. কলিমুল্লাহ, মো. সাজিদ, সরওয়ার নূর, ওয়াহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, উমর ফারুক, মো. আসলাম হোসেন আসাদ, মো. আসিক, আফিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মো. অপু প্রমুখ।

“কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা”
বক্তারা বলেন, “কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই নদী বাঁচানো মানে রাঙ্গুনিয়া বাঁচানো।”
তাদের মতে, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও নদী–খাল রক্ষার প্রশ্নে সকলের ঐক্য রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দেবে।

চার দফা দাবি:
ছাত্র–জনতা বৈঠকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করে—
১. অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সব ইজারা বাতিল
২. উপজেলা পর্যায়ে নদী রক্ষা কমিটি গঠন
৩. কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত নৌ পুলিশের টহল
৪. বেতাগী এলাকায় নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন

বক্তারা বলেন, এসব দাবিই স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

প্রশাসনের ভূমিকা ও জনআস্থা:
সভায় ইজারাদারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব তোলা হয়।
ইউএনও মো. কামরুল হাসান বলেন, “সবার সমন্বয়ে আমরা যদি নদী রক্ষা করতে পারি, তাহলে রাঙ্গুনিয়া শুধু পরিবেশ নয়—উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের এক নতুন ধারা সূচিত হয়েছে বলে স্থানীয় মহলে মত প্রকাশ পাওয়া গেছে।

“নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, জীবিকা বাঁচবে, রাঙ্গুনিয়া বাঁচবে”
বিভিন্ন দলের নেতা, প্রশাসন ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে দেখা মিলেছে এই বৈঠকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সংহতি এবং টেকসই উন্নয়নের পথ উন্মুক্ত করবে।

রাঙ্গুনিয়ার মানুষ এখন আশাবাদী—
“নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, জীবিকা বাঁচবে, আর রাঙ্গুনিয়া বাঁচবে।”

এই সর্বদলীয় বৈঠক তাই শুধু নদী রক্ষার নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ার ঐক্য, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন ।

রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী–ইছামতী রক্ষায় সর্বদলীয় বৈঠক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলী নদী, ইছামতী ও শিলক খালসহ উপজেলার বিভিন্ন খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ‘রাঙ্গুনিয়ার সচেতন ছাত্র-জনতা’র উদ্যোগে এই বৈঠক হয়।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, “কর্ণফুলী ও ইছামতী রাঙ্গুনিয়ার জীবনরেখা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, পরিবেশের ক্ষতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই নদী বাঁচানো মানে রাঙ্গুনিয়া বাঁচানো। তাই কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ সব জলাশয় রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর আবু শাকের ভুইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মুরাদ, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির, উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙ্গুনিয়া শাখার সভাপতি আশরাফ গনি চৌধুরী, ইছামতী নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি এ বি এস মোরশেদ এবং রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার।

শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল করিম টিপু, আদনান রাফি, মো. কলিমুল্লাহ, মো. সাজিদ, সরওয়ার নূর, ওয়াহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, উমর ফারুক, মো. আসলাম হোসেন আসাদ, মো. আসিক, আফিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মো. অপু প্রমুখ।

বৈঠকে ছাত্র-জনতা চার দফা দাবি উপস্থাপন করে। দাবিগুলো হলো— অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সব ইজারা বাতিল, উপজেলা পর্যায়ে নদী রক্ষা কমিটি গঠন, কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত নৌ পুলিশের টহল এবং বেতাগী এলাকায় নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন।

বক্তারা প্রশাসনের ব্যর্থতা, বালুমহালের অনিয়ম, ট্রাক চলাচল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।

সভায় ইজারাদারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাবও তোলা হয়। এছাড়াও মাদককারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়।

চট্টগ্রামে দায়িত্ব নিলেন নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে বলা হয়, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সাইফুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি উপসচিব হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে এবং ইকোনমিক অ্যানালিস্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসে দায়িত্ব পালন করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও জনসেবায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাছির উদ্দিন রিয়াজ গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তার নাছির উদ্দিন রিয়াজ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শান্তিনিকেতন এলাকার মৃত মঞ্জুর হোসেনের ছেলে।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, শনিবার (১৮ অক্টোবর) সিএমপি চান্দগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা, একটি নরহত্যা, একটি বিস্ফোরক দ্রব্য এবং একটি হত্যা চেষ্টার মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর জানাজা আজ নিজ এলাকায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার পর আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) নিজ নিজ এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা যায়, সন্দ্বীপের সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এনাম নাহার মোড়সংলগ্ন পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নিহত প্রবাসীদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠানের ঘোষণা ছিল। সকাল থেকেই সেখানে হাজারো মানুষ সমবেত হন। তবে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে সেখানে জানাজা না হয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহগুলো জানাজার জন্য নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রবাসী সাহাব উদ্দিনের জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়ি সংলগ্ন সাঈদ মার্কেটের দারুল উলুম মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই স্থানে প্রবাসী বাবলুর জানাজাও সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রবাসী রনির জানাজা দুপুর ১২টায় তালুকদার মার্কেট এলাকায়, প্রবাসী আরজুর জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নিজ এলাকায়, প্রবাসী জুয়েলের জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে মাইটভাঙ্গা কালু সর্দার বাড়ি সংলগ্ন জমার গো স্কুল মাঠে, প্রবাসী রকির জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সাগরিকা বাংলাবাজারে এবং প্রবাসী আরজুর জানাজা সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সারিকাইত ৪ নম্বর ওয়ার্ড খান জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে নিহতদের মরদেহ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহত সাতজন প্রবাসী সাগরে মাছ শিকারের কাজে যুক্ত ছিলেন। তারা হলেন— আমিন মাঝি (৫০), মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮) ও মোশারফ হোসেন রনি (২৬)।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ওমানের ধুকুম প্রদেশের সিদরা এলাকায় ওই সাত প্রবাসী বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, “সাতজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক মৃত্যু সন্দ্বীপবাসীকে শোকাহত করেছে।”

লোহাগড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী যুবক ও কিশোর নিহত

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পুরান বিওসি এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মো. ফারুকের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৬) এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার আ. রহমানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দীক (১৪)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহেল রানা ও আবু বক্কর মোটরসাইকেলে করে লোহাগাড়া বটতলী শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুরান বিওসি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রহুল আমিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। ঘাতক বাসটি শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে থাকতে চান জামায়াত প্রার্থী ডা. রেজাউল

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মরিয়মনগর জামায়াতের উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেন, “আমি কোনো একক দলের প্রার্থী নই। আমি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাঙ্গুনিয়ার সকল জনগণের প্রতিনিধি হতে চাই। আমি এই মাটির সন্তান, এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার।”

সভায় তিনি তার ২০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ, মরিয়মনগর-রাণীরহাট ডিসি রোড প্রশস্তকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, গুমাইবিল সংরক্ষণ ও কর্ণফুলী নদীর দুষণ রোধ, প্রবাসীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নারীদের জন্য হাইজিন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

তিনি বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়তে চাই। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি নেওয়া একজন মাঠ পর্যায়ের কর্মী হিসেবে আমি এই এলাকার মানুষের সমস্যা ও চাহিদা সম্পর্কে অবগত।”

ডা. এটিএম রেজাউল করিম তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব বীর শহিদদের, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে, জনগণ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং গণতন্ত্রের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রদ্ধা জানাই সেই সকল আহত ও পঙ্গু আন্দোলনকারীদের প্রতি, যাঁরা ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে দেশব্যাপী গণআন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।”

ডা. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা সমস্যার নিকটতম প্রত্যক্ষদর্শী, তাই আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ আমার জন্য অমূল্য।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও রাঙ্গুনিয়া এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। এই অবস্থা পাল্টাতেই আমি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”

অনুষ্ঠান শেষে ডা. রেজাউল করিম উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনে তাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামী প্রথমে এই আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি সরে দাঁড়ালে তার ভাগিনা ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএসসি পরীক্ষায় সেনা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সেনাবাহিনীর অধীনে পরিচালিত ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮ হাজার ৭১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮২৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা জাতীয় পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৭টি বাংলা মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ হাজার ১৫৬ জন, ১২টি ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৭১ জন এবং ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজসমূহে বিদ্যমান শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবিড় পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়কে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সেনাসদরের দিকনির্দেশনা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত তদারকি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষবৃন্দের কার্যকর নেতৃত্ব, অনুষদ সদস্য ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতাও এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।  সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এবছর সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে নিজেদের মতো করে ফল প্রকাশ করেছে।

গত ২৬ জুন শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। চলতি বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন, যা গত বছরের চেয়ে ৭২ হাজার ৮৮৩ জন কম। ৪ হাজার ৮০৮টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১৬০৫টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ১০২ জন, যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৯৭৪ জন কম। ২ হাজার ৬৮২টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৫৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৭ হাজার ২৫ জন কম। ১ হাজার ৮২৪টি প্রতিষ্ঠানের এসব পরীক্ষার্থী ৭৩৩টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় বসেন। গত ১৯ অগাস্ট এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। ২১ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এবার চাকমা পাড়ায় ধানের শীষে ভোট চাইলেন অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত ৩১ দফা লিফলেট হাতে নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) উপজেলার চন্দ্রঘোনা জোমপাড়া ও চাকমা পাড়ায় প্রচারণা চালান বিএনপির এই নেতা।

৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগকালে অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার বলেন,“আজ রাঙ্গুনিয়া থানার অন্তর্গত ১১ নম্বর কদমতলী ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী হোছনাবাদ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোমপাড়া ও চাকমা পাড়ায় আমরা গণসংযোগ করেছি। এলাকার চাকমা, মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলে তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপরেখা ব্যাখ্যা করেছি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আমরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “৩১ দফার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ গড়া, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘হেলথ কার্ড’, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন তারেক রহমান। এই কর্মসূচি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি এবং মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।”

অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার আরও বলেন, “মানুষের সমস্যা ও চাহিদাগুলো আমরা নোট করছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে যেমন তাদের পাশে থেকেছি, তেমনি দল ক্ষমতায় এলে ইনশাআল্লাহ আরও বড় পরিসরে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

এ সময় তিনি উপস্থিতদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সেনাবাহিনীতে নবীন সৈনিকদের যোগদান: আর্মি সার্ভিস ও মেডিকেল কোরের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোর ও আর্মি মেডিকেল কোরের রিক্রুট ব্যাচ-২০২৫ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর ২০২৫) জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ আর্মি সার্ভিস কোর সেন্টার এন্ড স্কুল (এএসসিসিএন্ডএস) এবং শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসস্থ আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুল (এএমসিসিএন্ডএস)-এ এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান দু’টিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যথাক্রমে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার যশোর এরিয়া এবং মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার ঘাটাইল এরিয়া। তারা কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও নবীন সৈনিকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

নান্দনিক ও চৌকষ এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে আর্মি সার্ভিস কোর ও আর্মি মেডিকেল কোরের সৈনিকবৃন্দ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নবীন সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় আর্মি সার্ভিস কোর ও আর্মি মেডিকেল কোরের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা নবীন সৈনিকদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও, অন্যান্য পদবীর সৈনিকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী রিক্রুটদের পরিবারের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের মহড়া

রাঙ্গুনিয়া: ‘সমন্বিত উদ্যোগ, প্রতিরোধ করি দুর্যোগ’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাঙ্গুনিয়াতেও সোমবার নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস।

গতকাল সোমবার সকালে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দুর্যোগ মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক করণীয় ও উদ্ধার কার্যক্রমের মহড়া প্রদর্শন করেন। আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশলসহ বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতির অনুশীলনও অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া কর্মসূচিতে আলোচনা ও র‌্যালিও আয়োজন করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পন দেওয়ান, মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী। মহড়া পরিচালনা করেন ফায়ার সার্ভিস রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের লিডার মো. জাহেদুর রহমান।

দেশজুড়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ায়ও উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি শিশু ও কিশোর বিনামূল্যে এই টিকা পাবেন। জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। কর্মসূচি মাসব্যাপী চলবে এবং ১৩ নভেম্বর শেষ হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শিশু মেলা মডেল স্কুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ‘জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শরমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসনদবিহীন শিশুরাও টিকার আওতায় থাকবেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এই টিকাটি আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকার পেয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো দেশে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় টিকা পাবেন। এরপর ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী অন্যান্য শিশুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। শহরের পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও।

সরকারের লক্ষ্য—এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু নিবন্ধন করেছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জন্মসনদ না থাকলেও নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় নিবন্ধন করা যাবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে, যা শিশুদের ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।

প্রথম ১০ কর্মদিবসে বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান চলবে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-মাদ্রাসায় টার্গেট ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং কমিউনিটি টার্গেট ৩৩ হাজার ৭২৩ জন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২০টি স্কুল-মাদ্রাসায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতের প্রার্থী পরিবর্তন: স্থলাভিষিক্ত প্রার্থী শ্রদ্ধাভরে কাঁদলেন সাবেক প্রার্থীর জন্য

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম–৭) আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান নিজেই নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে প্রার্থী ঘোষণার পর উপজেলার পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর এক দায়িত্বশীল সমাবেশে স্থলাভিষিক্ত এই প্রার্থী শ্রদ্ধাভরে কেঁদে ওঠেন সাবেক প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আমিরুজ্জামানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডা. রেজাউল করিম বলেন,“আমি অতি নগণ্য, আমার কোনো যোগ্যতা নেই। আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান সাহেবই ছিলেন মনোনীত প্রার্থী—উনার সামনে আমি কিছুই নই। কেমন করে কী হলো, আমি কিছুই জানি না। তবে সংগঠন যেহেতু আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তা মেনে নিতে হবে। আমি প্রার্থী হলেও, সকল সিদ্ধান্ত আমাদের শ্রদ্ধাভাজন মুরুব্বি আমিরুজ্জামান সাহেব ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের পরামর্শে নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রাঙ্গুনিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর ডা. রেজাউল করিম বলেন, “দল যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে, সেভাবে কাজ করে যাব। দলের আনুগত্যই আমাদের সাংগঠনিক মূল ভিত্তি।”

রাঙ্গুনিয়া থেকে ধানের শীষে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক জাগদল ও বিএনপি নেতা কাজী আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক জাগদল ও বিএনপি নেতা কাজী এম. এন. আলম।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ঠান্ডাছড়ি চা বাগানে নিজ বাংলোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

কাজী এম. এন. আলম বলেন, “স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন জাতীয় নেতৃত্বে আসেন, তখন থেকেই আমি তাঁর চিন্তাধারা ও কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হই। বৃহত্তর রাজানগরের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আমি তাঁর প্রতিটি ভাষণ শুনে অভিনন্দন বার্তা পাঠাতাম। পরবর্তীতে তিনি যখন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তখন আমি আন্তরিকভাবে এতে যুক্ত হই।”

তিনি জানান, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম আসেন, আমরা তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছি। সেই অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়াবাসীর পক্ষ থেকে আমি মানপত্র পাঠ করি। এরপর তিনি আমাকে ডেকে প্রশংসা করেন এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেখা করার আহ্বান জানান। সেখানে জিয়াউর রহমান নিজে বলেন, ‘আমরা চাই নতুন তরুণ ও উদীয়মান নেতৃত্ব নিয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো গড়তে।’ সেই প্রেক্ষিতেই জাগদল গঠিত হয়।”

কাজী আলম আরও জানান, “তখন বৃহত্তর চট্টগ্রামের জাগদলের কনভেনিং কমিটি করা হয়। ফটিকছড়ির ডা. মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা ও আমি প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রাউজানের ডা. নুরুল আলম চৌধুরী দ্বিতীয় যুগ্ম  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে জাগদল বিএনপিতে রূপান্তরিত হলে আমরা দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই।”

তিনি বলেন, “১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। তখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নির্বাচনে তিনি জয়ী হলেও আমি দলের কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাই।”

রাজনীতিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কাজী এম. এন. আলম বলেন, “আমি অনুপস্থিত ছিলাম না, পর্যবেক্ষক ছিলাম। দলের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। এখন মনে করছি, দলের স্বার্থে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার সময় এসেছে।”

আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। তবে দল যদি মনোনয়ন না দেয়, আমি কখনো দলের বিপক্ষে গিয়ে নির্বাচন করব না। এই দল তো আমি নিজ হাতে গঠন করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন ভক্ত ও সহকর্মী হিসেবে দলের স্বার্থেই কাজ করে যাব।”

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কাজী এম. এন. আলম জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) ও বিএনপির বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, রাঙ্গুনিয়ার প্রথম আহ্বায়ক এবং বিএনপির বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রথম নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া তিনি ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মনোনীত রাঙ্গুনিয়া আসনের বিএনপি প্রার্থী, প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বৃহত্তর রাজানগরের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

এছাড়াও রাজানগর-লালানগর সীমান্তে অবস্থিত হযরত শাহসূফী কাজী সালেহ্ আহমদ ইবতিদায়ী মাদরাসাসহ বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখা, চট্টগ্রাম-এর আজীবন সদস্য ও কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০১০-১৪) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট-এর আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য, ন্যাশনাল এন্টি টিউবারকিউলোসিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নাটাব চট্টগ্রাম-এর আজীবন সদস্য ও ঢাকাস্থ রাঙ্গুনিয়া সমিতির আজীবন সদস্য পদ লাভ করে মানব কল্যাণ ও জনহিতকর কর্মে অবদান রেখে আসছেন। তিনি ২০০৯ সালে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন বলেও জানান কাজী এম এন আলম।

“শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল জুলুমের শিকার হয়েছে” — হুম্মাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “জুলুম শুধু বিএনপির ওপরেই হয়নি, সকল বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও একই রকম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।”

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাট বাজার মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুম্মাম কাদের বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—নির্বাচনের আগে কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে বা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে। রাঙ্গুনিয়ার পক্ষ থেকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, এখানে এমন কিছু ঘটবে না। যারা নিজেদের ‘জিয়ার সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন, তারা সবাই দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।”

হুম্মাম কাদের আরও বলেন, “আমরা শুধু নির্বাচনের জন্য এখানে আসিনি—দেখাতে এসেছি যে বিএনপি এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আজকের জনসভায় যারা উপস্থিত হয়েছেন, তারা সবাই দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সক্রিয় সদস্য। দলের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে চলি, আমরাও চাই আপনারাও তা মেনে চলুন—এই অঙ্গীকার আমরা আজ একসঙ্গে করেছি।”

চট্টগ্রাম শহর থেকে রাঙ্গুনিয়ায় আসার পথে বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাস্তায় হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার দেখা গেছে। এরা কেউই আমাদের বাইরে নয়। গত ১৭ বছর ধরে তারা আন্দোলনে আমাদের পাশে ছিল। আমরা কাউকে ছোট চোখে দেখি না—যে সম্মান তারা আমাদের দিয়েছে, আমরাও তা ফিরিয়ে দেবো।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির মতো অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর ওপরও একই ধরনের জুলুম-নির্যাতন হয়েছে। এখন সময় এসেছে দেশকে গুছিয়ে নেওয়ার। তারেক রহমান চেষ্টা করছেন সব দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে—আমাদেরও সেই চেষ্টায় অংশ নিতে হবে।”

ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “যদি জোট না হয় বা অন্য দলগুলো নিজেদের ব্যানারে নির্বাচন করতে চায়, তাহলেও রাঙ্গুনিয়ার জনগণ দেখিয়ে দেবে কিভাবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করা যায়।”

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের কিছু দোসর এখনো এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

রাঙ্গুনিয়ায় মরিয়মনগর–গাবতল ডিসি সড়ক সম্প্রসারণের দাবিতে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর–গাবতল ডিসি সড়ক সম্প্রসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোগলেরহাট বাজার ও আলমশাহপাড়া এলাকায় সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে পৃথক দুটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ।

সকালে মোগলেরহাট বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মো. সাদ্দাম হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. বখতিয়ার। এ সময় বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আমিরুজ্জামান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, সড়ক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. শরীফ, উত্তর রাঙ্গুনিয়া সড়ক আন্দোলনের সভাপতি নুরুল আলম সওদাগর, মো. ইলিয়াস, বক্কর মেম্বার এবং খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মরিয়মনগর–গাবতল ডিসি সড়কটি রাঙ্গুনিয়ার ৭ ইউনিয়নের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি, সড়কটি অন্তত ৩০ ফুট প্রশস্ত করে আধুনিক মানে নির্মাণ করা হোক।”

তারা আরও বলেন, “সড়কটি প্রশস্ত করা গেলে শুধু যান চলাচল স্বাভাবিক হবে না, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন গতিশীলতা আসবে। উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে পুরো অঞ্চলে।”

অন্যদিকে, আলমশাহপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. মনজুরুল ইসলাম ও ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁরাও একই দাবিতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্দ্বীপের সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট: ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই ওমানে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতদের সবাই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে পাঁচজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বাবলু, সাহাবুদ্দিন, আমিন সাওদাগর, আরজু ও রকি।

স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বাকিরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

একই এলাকার সাতজন প্রবাসীর একসঙ্গে মৃত্যুতে সারিকাইতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যা এই শোককে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।

ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদারকি করছে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট দিয়েও করা যাবে হজের নিবন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের হজে গমনেচ্ছুদের সুবিধার্থে পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণের শর্ত শিথিল করেছে। এখন মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট দিয়েও হজের নিবন্ধন করা যাবে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) হজ-১ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, হজের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট ব্যবহার করা সম্ভব হলেও, হজযাত্রী বা হজ এজেন্সিকে ভিসা ইস্যুর সময় অবশ্যই পাসপোর্ট সিস্টেমে মেয়াদ আপডেট করতে হবে। হালনাগাদ না করলে ভিসা ইস্যু হবে না।

উল্লেখ্য, সৌদি সরকারের ঘোষিত হজের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আসন্ন ২০২৬ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শেষ হবে।

বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগে প্রথমবারের মতো চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) রিয়াদে এই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সৌদি আরবের পক্ষে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথম সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি।

১৯৭৬ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হিসেবে কাজ করছে, তবে এতদিন পর্যন্ত সাধারণ কর্মী নিয়োগে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল না। এর আগে ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ এবং ২০২২ সালে দক্ষতা যাচাই সংক্রান্ত দুটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার ও স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। এটি ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সৌদি মন্ত্রী ও ড. আসিফ নজরুলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সৌদি আরবে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, ইকামা নবায়নের দায়িত্ব যেন নিয়োগকর্তারা পালন করে এবং দেশে ফেরার ইচ্ছুক কর্মীরা যেন দ্রুত এক্সিট ভিসা পান।

সৌদি মন্ত্রী এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এ সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন, মিশনের উপপ্রধান এস এম নাজমুল হাসান, শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মাদ রেজায়ে রাব্বীসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ।

শিগগিরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

ঢাকা: খুব শিগগিরই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জুলাই সনদের বিষয়বস্তু ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব ও এবিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন সকল রাজনৈতিক দল থেকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া, গণমাধ্যমগুলো ঐকমত্য কমিশনকে অকল্পনীয় সমর্থন দিয়েছে।

কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সকল সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। কমিশনের কাজের চুড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আজকের বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দেবেন নিরাপদে: চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

চট্টগ্রাম: “থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিবেন নিরাপদে”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নির্বাচনি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনসের সিভিক সেন্টারে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এই প্রশিক্ষণ কোর্সে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আগত মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতকরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুলিশের দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠা অপরিহার্য। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পুলিশের দায়িত্ব পালনে আরও আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বাড়াবে।”

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম-বার বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনের সময় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতে আমাদের সদস্যরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সময়ে জনপদে পুলিশের উপস্থিতি জনগণের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তা সৃষ্টি করবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি), হাটহাজারি সার্কেল অফিসার, প্রশিক্ষক এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপর হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়

ডেস্ক: নরসিংদীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শামিম আনোয়ারের ওপর চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের আরশিনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, আহত অবস্থায় শামিম আনোয়ারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে আনোয়ার হোসেনের (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে একটি টিম সদর উপজেলার বীরপুর এলাকার পুরানপাড়ায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিদর্শনে যান। ফেরার পথে শহরের আরশিনগর মোড়ে কয়েকজন ব্যক্তি যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ দুজনকে হাতেনাতে আটক করে।

আটকের খবর শুনে তাদের ছাড়াতে ৩০–৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ছাড়াতে রাজি না হওয়ায় তারা হামলা চালায়—কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে আহত হন। সন্ত্রাসীরা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ সদস্যরা শামিম আনোয়ারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে নিন্দার ঝড় ওঠে। চট্টগ্রামের সাংবাদিক জাহেদ হাসান তালুকদার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “এটা কেমন বাংলাদেশ! চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর হামলা।” ঢাকার সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম আরিফ লিখেছেন, “সাহস আর সততা থাকলে মার খেতে হয়, সেটি আপনিই বলতেন আমাকে। আর আজ আপনার ওপর এহেন হামলা। সুস্থ হয়ে উঠুন, বড় ভাই।”

কোরআনের শিক্ষা আলোকিত জাতি তৈরি করে: রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা উদ্বোধনকালে বক্তারা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে রাঙ্গুনিয়ার ধামাইরহাটের উত্তর পাশে আজম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্বপাশে নতুন মাদ্রাসা মারখাজুল উলুম তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আগত অতিথিরা।

উদ্বোধনের পর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী খাজা গিয়াস উদ্দিন ছালেকী, এবং যৌথ সঞ্চালনা করেন কাজী মুহাম্মদ আলমগীর ও এডভোকেট ফরহাদুল আলম জুয়েল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম শায়েখ আল্লামা সায়দ হোসাইন বলেন, “পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি আলোকিত হতে পারে না। এই মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি এলাকার মানুষকে আল্লাহর কিতাবের সাথে সংযুক্ত করার পথ খুলে দেবে।”

প্রধান বক্তা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এর আমির মাওলানা হাসান মুরাদ বলেন, “আজকের উদ্যোগ কোরআনপ্রেমী জনসাধারণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করবে এবং ইসলামের আদর্শে গড়ে উঠবে।”

প্রধান আলোচক, আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মাদ্রাসা হলো সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার বাতিঘর। নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে যুক্ত করতে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

বিশেষ অতিথি, প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা সুলতান আহমদ বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গঠনেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হবে।”

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মুফতি আনাস স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ শওখত হোসাইন, মাওলানা শাহ আলম, সরওয়ার হোসাইন, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সরওয়ার আলম, মুহাম্মদ মুছা, মীর আজিজুর রহমান, এডভোকেট আজিম উদ্দিন লাভলু, সেলিম, রফিক, আনোয়ার, হারুন, আজিজুল হক, হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কোরআনের প্রাথমিক ছবক প্রদান এবং ভর্তি ফরম বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াত নেতার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলে শোক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামী’র শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ইলিয়াছ কোম্পানি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ কন্যাসন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুম ইলিয়াছ কোম্পানির জানাযার নামাজ শনিবার সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তার প্রয়াণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিলেন সমাজসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় উন্নয়নে নিবেদিত একজন সক্রিয় নেতা। তিনি রাঙ্গুনিয়া ইকরা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং লালানগর আইডিয়াল স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বীনের আলো ছড়াল ছাত্রশিবিরের অনন্য উদ্যোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্বীনের ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রায় ৫৫–৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ উপহার দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গুনিয়া উত্তর সাংগঠনিক থানা শাখার আদর্শ থানা শাখা আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এ উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন থানা শাখার সেক্রেটারি আব্বাস উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মঈনুদ্দিন মিসবাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া শহর আদর্শ থানা শাখার সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ। প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর বায়তুল মাল সম্পাদক জহির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্টও বিতরণ করা হয়।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— রাঙ্গুনিয়ায় পূজামণ্ডপে বিএনপি নেতাদের বার্তা

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজার শেষদিন আজ। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে। এর আগে পূজা উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পূজার শুরু থেকেই প্রতিদিন তারা বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, “অনেকে বলে আওয়ামী লীগের আমলে হিন্দু ভাইয়েরা ভালো থাকে, বিএনপির শাসনামলে থাকে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় আওয়ামী লীগের আমলেও সমস্যা হয়েছে, বিএনপির সময়েও হয়েছে। তবে এগুলো মূলত কিছু দুষ্টু লোকজন সৃষ্টি করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়। আমরা এদের চিহ্নিত করেছি এবং সমাজ থেকে দূরে রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে সম্মান দিয়ে গ্রহণ করেছেন, আশা করি আপনাদের সেবার সুযোগও দিবেন।” এছাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার। তিনি বলেন,

“হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—আমরা সবাই মানুষ। উপর থেকে ভিন্নতা থাকলেও ভেতরে সবাই একই। আমরা সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবো। সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট থাকবে।” দলের নির্দেশনায় শুরু থেকেই কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজও এসেছি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “রাঙ্গুনিয়া সম্প্রীতির জায়গা। এখানে ধর্ম নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সবার আগে বাংলাদেশ—আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, তাই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবো।”

অন্যদিকে উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী পূজামণ্ডপে গিয়ে বলেন, “আমরা এসেছি আপনাদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে ও উৎসব ভাগাভাগি করতে। আগামী বছর এই উৎসব আরও বড় হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।”

প্রসঙ্গত, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএনপি নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজার শুভেচ্ছা জানান এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবি: সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সফল উদ্ধার অভিযান

ডেস্ক: গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতের আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় রাঙামাটির লংগদু অঞ্চলের বিএফডিসি ঘাট, ভাইবোনছড়া, লংগদু লঞ্চঘাট, গুইলশাখালি বিল ও ভাসান্যাদম এলাকায় একাধিক নৌকা ডুবে যায়। খবর পেয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় মোট পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও দ্রুত পদক্ষেপে ওই রাতেই দুইজনকে জীবিত ও এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার এবং পরদিন (০১ অক্টোবর) সকালে আরও দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, একই রাতে নানিয়ারচর উপজেলার মহাজনপাড়ায় আরও একটি নৌকা ডুবে যায়। ছয়জন যাত্রীর মধ্যে চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ডেনিজেন চাকমা ও জিতেশ চাকমা নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়রা নৌকাটি উদ্ধার করলেও নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধান মেলেনি। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ডুবুরি দল স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে দুর্ঘটনার পরপরই কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শুধু নিরাপত্তার অঙ্গীকারেই নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সচেষ্ট।

সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ