রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আলোচিত আলমগীর হত্যার ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গাছ কাটার ‘ধামা দা’।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ এপ্রিল রাত সোয়া ১টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার উত্তর পদুয়া কামারটিলা এলাকায় নিজ বসতঘরের দরজার সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন প্রবাসফেরত মো. আলমগীর (৪০)। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীর সহযোগিতায় ওসি হিলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) ও স্ত্রী রহিমা বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ১৮-১৯ বছর আগে রহিমাকে বিয়ে করেন আলমগীর। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলে দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রহিমা স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে যান।
৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের আবার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ চলছিল।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভয়ভীতি দেখান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী ও ছেলে পরস্পরের যোগসাজশে ঘরে থাকা ধামা দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা একটি গল্প সাজান। প্রতিবেশীদের ডেকে জানানো হয়, আলমগীর ঘরের বাইরে গেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিকতা ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের ওপর সন্দেহ করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মা-ছেলে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
ওসি হিলাল উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধের দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।”
