‘রাজনীতির কৃষক’ ছিলেন রফিক বিন চৌধুরী: স্মরণসভায় হুমাম কাদের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী, সমাজ-সংস্কারক ও দানবীর মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীকে স্মরণ করে আয়োজিত স্মরণসভায় রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, “তিনি ছিলেন রাজনীতির একজন কৃষক।”

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হুমাম বলেন, একজন কৃষক যেমন জমিতে চারা রোপণ করে ধৈর্যের সঙ্গে তার পরিচর্যা করেন, তেমনি রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আস্থার চারা রোপণ করেছিলেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন।

হুমাম কাদের বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রফিক বিন চৌধুরী তাঁকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তাঁর উৎসাহেই তিনি নতুন করে মনোবল ফিরে পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, রফিক বিন চৌধুরীর হাত ধরেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজে এলেই তাঁর স্মৃতি মনে পড়ে, কারণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক শিক্ষা তিনি রফিক বিন চৌধুরীর কাছ থেকেই পেয়েছেন।

রাজনীতিতে ধৈর্য, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই রফিক বিন চৌধুরী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে আছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মোহাং আবু হোসেন ইবনে হাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দাতা সদস্য নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, কলেজের মাউশি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুহাম্মদ খোরশেদুল হক চৌধুরী রিবেল, অভিভাবক সদস্য হোসেন আলী, আব্দুল মান্নান রনি, খোরশেদ আলম এবং বোর্ড প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম।

কলেজের অধ্যাপিকা পুষ্প বড়ুয়া ও প্রভাষক আবু মহসিন মো. মঞ্জুরুল কাদেরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউনুচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজম খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আমিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নবাব মিয়া চৌধুরী, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খাইরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজসেবক খালেদ বিন আব্দুল কাদের।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রানীরহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আলকাদেরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক শাহেদ কামাল তালুকদার, রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ জেলা, উপজেলা এবং রাজানগর-ইসলামপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ একরাম ও সহকারী অধ্যাপক শান্তি জ্যোতি বড়ুয়াও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মউদুদ ইলাহী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবু মহসিন মঞ্জুরুল কাদের।

স্মরণসভার পাশাপাশি গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর স্মরণে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইছামতী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি করেন।

গুণীজন সম্মাননা হিসেবে রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আব্দুর রশিদ বিএ, বিএড, সহকারী শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম তালুকদার এবং স্থানীয় চিকিৎসক সুবোধ দেওয়ানজীকে স্মরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়া রাজানগর আর.এ.বি.এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বশর তালুকদার এবং রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক দানু মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর হাতে মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের উদ্যোগে প্রকাশিত মরহুম কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মভিত্তিক স্মরণিকা “মহীয়ান” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারক আলী তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাড়ির মামুন, রিয়াজ, মো. আমানউল্লাহ, মো. আসিফ, শহিদ ও নজরুলের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। এতে দুটি সেমিপাকা ঘর, দুটি কাঁচা ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেটসহ ঘরের সব আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে: হুমাম কাদের চৌধুরী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

বুধবার (১ জুলাই) মাসুদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “মাসুদ চৌধুরীর হত্যার বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদেও তুলেছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি নিজেই এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমি বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাফিয়া জড়িত আছে। দেশের মানুষ জানে, এই মাফিয়া বলতে আমি বালি সিন্ডিকেটের কথাই বোঝাতে চেয়েছি।”

হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “ আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা সংকেত দিতে চেয়েছে, আমরা যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চাই, তাহলে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে।”

তিনি বলেন, “মাসুদ চৌধুরী যে শক্ত ভূমিকা রেখেছিল, প্রতিবাদ করে রাঙ্গুনিয়ায় এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চেয়েছিল, তার পক্ষ হয়ে এবং তার স্মৃতিকে ধরে রেখে আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”

হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের তো ধরা হবেই। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো যারা টাকা খরচ করে খুনিদের ভাড়া করেছে, যারা এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী—তাদেরও ধরতে হবে। আমরা যদি বিচার চাই, তবে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে আমরা অত বেশি আলোচনা করিনি। তবে জনপ্রিয়তার কারণে মাসুদ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার, হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও তাকে পছন্দ করতেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যখন নির্বাচন করেছি, তখন অনেকেই বলেছিলেন, মাসুদ চৌধুরীর কারণেই তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মাসুদ এলাকার মানুষের পাশে ছিল। আপদে-বিপদে সবসময় সে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন তার এই শূন্যতা আমরা সবাই অনুভব করছি। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য আরও বলেন, “দলের জন্য মাসুদ বহুবার বড় ভূমিকা রেখেছে। অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম খুঁজলে দেখা যাবে, চট্টগ্রামের বড় বড় মিছিলে তার নেতৃত্ব ছিল। চেয়ারম্যান নির্বাচনও একটি কারণ হতে পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি, বালির মহলের বিরুদ্ধে সে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণেই তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”

কবর জিয়ারতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও দলটির অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ (১১ জন এজাহার নামীয় এবং ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত) জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরীর দাফন

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মরহুম আবুল কাশেম চৌধুরীর তৃতীয় পুত্র।

বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশের উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

দাফন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে “মুকিম চৌধুরী প্রজন্ম” পরিবার এবং “চল যাই রাংগুনীয়া” পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম: জেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিচিতি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

সম্প্রতি আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম।

সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে মতামত দেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি মানসম্মত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

এছাড়া তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতন থাকা, স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।