রাঙ্গুনিয়ায় কাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: “পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন, রাঙ্গুনিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ভবনের ছাদ, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, রাস্তা, বাজার ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্নকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

লোহাগাড়ায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডব, বসতঘর ভাঙচুর; প্রাণ বাঁচাতে পালাল পরিবার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা আইম্মাডাফা এলাকায় গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একটি বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের চিৎকারে হাতির পাল পাশের বনের দিকে চলে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে একটি বন্য হাতির পাল লোকালয়ে প্রবেশ করে। হাতিগুলো জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ঢুকে তার মাটির বসতঘর, দেয়াল ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গভীর রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে তাকিয়ে দেখি কয়েকটি বন্য হাতি আমাদের ঘর ভাঙচুর করছে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতিগুলো ঘরের অনেক ক্ষতি করে চলে যায়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম জানু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ এলাকায় প্রায়ই বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে আসে। ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। হাতির উপদ্রব স্থায়ীভাবে রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

পদুয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান বলেন, “লোকালয়ে বন্য হাতির বিচরণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাতি তাড়াতে বন বিভাগের টিম কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও বিধি-বিধান অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বন্য হাতির বিচরণ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জানমাল হুমকির মুখে পড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

৩০ বছর পর রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচা সড়কে সংস্কারকাজ শুরু, স্বস্তি এলাকাবাসীর

রাউজান (চট্টগ্রাম): দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী সাহেব মিয়া বাড়ি এলাকার একটি কাঁচা সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো বাসিন্দা।

জানা গেছে, প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে পায়ে হেঁটে চলাচলও ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, প্রান্তিক কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সুমন নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটিতে সলিং নির্মাণকাজ শুরু করেন।

দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কাঁচা সড়কের কারণে বয়োবৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সলিং নির্মাণ শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

সলিং নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সমাজ কমিটির অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর, সমাজসেবক আলমগীর হোসেন, উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন, হাফেজ মাওলানা নুর মোহাম্মদ, ইসহাক মিয়া, মো. জাহেদ, মমতাজ, আসিফ, ইয়াছিন উদ্দিন মাসুদ, রিপন ও ইয়াকুব উদ্দিন আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অর্থায়নকারী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

রাঙ্গুনিয়ায় খেলতে গিয়ে গাছের ডালচাপায় প্রাণ গেল শিশুর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নে গাছের নিচে খেলতে গিয়ে গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে নিশিত দেব (১২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের উত্তর পারুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নিশিত দেব ওই এলাকার খোকন দেবের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালী মন্দিরসংলগ্ন মাঠে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল নিশিত। এ সময় মাঠের পাশে থাকা একটি রেইনট্রি গাছের বড় শুকনো ডাল হঠাৎ ভেঙে নিচে পড়ে। অন্য শিশুরা দ্রুত সরে যেতে পারলেও নিশিত সরে যেতে পারেনি। ডালটি তার মাথার ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাহবুব মেম্বার বলেন, “গাছটির পাশে একটি খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে শিশুরা নিয়মিত খেলাধুলা করে। গাছটিতে আগে থেকেই বড় একটি শুকনো ডাল ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ডালটি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেই খেলাধুলার সময় সেটি ভেঙে পড়ে। অন্য শিশুরা সরে যেতে পারলেও নিশিতের মাথার ওপর ডালটি পড়ে, এতে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”