রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ইসলামী ফ্রন্ট, নগদ সহায়তা বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়ায় অতিবৃষ্টিজনিত পাহাড়ধসে নিহত এক পরিবারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকটি পরিবারের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে সাবেক মোমবাতি প্রতীকের পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট এম. ইকবাল হাছান।

এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি করিম উদ্দিন হাছান, সহসভাপতি আখতার হোসেন, পৌরসভা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুর রহিম, উপজেলা নেতা মীর মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সহসভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন, প্রবাসী গাউছিয়া কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, ওয়ার্ড সভাপতি তৌলত হোসেনসহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এর সহযোগী সংগঠন এবং প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সাধ্যমতো সহায়তা প্রদান করে যাবে।

লালানগরে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াতের খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মিনহাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা শওকত হোসেন, সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি মহিউদ্দিন বাবু, লালানগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শরীফ চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিশান, মুমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। দুর্যোগের এ সময়ে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

 

হালদায় ভাসছে মৃত গরু, দূষণের শঙ্কা

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মৃত প্রাণী ফেলার ঘটনায় পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ নদীর মাঝস্রোতে একটি মৃত গরু ভাসতে দেখা যাওয়ায় পানির গুণগত মান এবং নদীর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ চৌমুহনী এলাকায় স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান মৃত গরুটি দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড় আকৃতির গরুটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবে কে বা কারা এবং কোন এলাকা থেকে মৃত প্রাণীটি নদীতে ফেলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু অসচেতন ব্যক্তি নিয়মিত নদীতে মৃত প্রাণী ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলায় হালদার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাদের মতে, এভাবে মৃত প্রাণী নিক্ষেপের ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও মাছের স্বাভাবিক প্রজননও ব্যাহত হতে পারে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও হালদা গবেষক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হালদা নদী রুইজাতীয় মাছের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। নদীতে মৃত প্রাণী বা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, যা মাছের বিচরণ, প্রজনন এবং পুরো নদীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর দুটি টিম ঘটনাস্থল শনাক্তের চেষ্টা করছে। মৃত গরুটির অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত উদ্ধার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিএনপি জনগণের সরকার, আমরা মানুষের পাশেই আছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চকরিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “বিএনপি জনগণের সরকার। তাই জনগণের দুর্দিনে সরকার সবসময় মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ও বরইতলী ইউনিয়ন, চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোচপাড়া মজিদিয়া মাদ্রাসা এলাকাসহ মাতামুহুরী নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারি, বেসরকারি ও দলীয়ভাবে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি যেসব পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সরকারি জরিপ চলমান রয়েছে। রাস্তা-ঘাট, বেড়িবাঁধ, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গবাদিপশু, কৃষিজমি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে রান্না করা খাবারের প্রয়োজন ছিল সেখানে তা সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে শুকনো খাবার, খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও সরকারি, বেসরকারি এবং দলীয় উদ্যোগে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে সকালে সড়কপথে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, চকরিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুদ্দীন ফরায়েজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম, সাজ্জাদুল কবির চৌধুরী, সাবেক প্যানেল মেয়র শহিদুল ইসলাম ফোরকান, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কুতুবউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহেদুল মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুল কবির চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) তিনি নির্বাচনী এলাকার অপর অংশ পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন।

কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন চার কোটি কৃষক

পটিয়া (চট্টগ্রাম): কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের মধ্যম কচুয়াই ব্লকে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন। কৃষক কার্ড চালু হলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষি খাতে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পাবেন।

তিনি জানান, কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে জমির মালিকানার ভিত্তিতে কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে প্রি-পাইলটিং, দ্বিতীয় ধাপে পাইলটিং এবং সর্বশেষ পর্যায়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে সারাদেশে কৃষক কার্ডের জন্য ৪৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রকৃত কৃষকদের কাছে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে সর্বোচ্চ নির্ভুলতা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রহিম, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকেরা।

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শনিবার কাপ্তাই বাঁধে স্পিলওয়ে খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি, সতর্ক থাকার আহ্বান

কাপ্তাই (রাঙামাটি): কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ১৮ জুলাই (শনিবার) বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।

বৃহস্পতিবার কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্পিলওয়ে খোলার সময় পরিবর্তন হতে পারে। পাশাপাশি উজান থেকে পানির প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেটের উচ্চতা বাড়িয়ে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হবে।

বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য পানি ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দা, জেলে এবং নৌযান চলাচলকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

 

হাসিমুখে মানবতার সেবা: দীঘিনালায় বন্যাকবলিত পাঁচ শতাধিক মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) : বন্যার দুর্যোগে যখন দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যাকবলিত পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দ্য বেবি টাইগার্স’-এর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকায় দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা দেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন। তিনি প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ডা. মুহাম্মদ শায়খ উদ্দীন সাকলাইন বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যার পর শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিয়েছে। জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীঘিনালা জোন পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।