বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: দেশের চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬ এর ৮ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষাসহ দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় একই দিনে দুই পাহাড়ধস: আহতকে দেখে ফেরার পর প্রাণ গেল আরেক নারীর

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক নারী আহত হয়েছেন। সকালে একই এলাকায় পাহাড়ধসে আহত সরফবানুকে দেখতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারান রেনু আক্তার (৫৬)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় সকাল ও বিকেলে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে পাহাড়ধসে সরফবানু নামে এক নারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে একই এলাকায় আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে একটি বাড়ির ওপর পড়ে গেলে রেনু আক্তার চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে বাড়ির ওপর পড়ে। এতে এক নারী চাপা পড়ে নিহত হন। সকালে একই এলাকার আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আহত সরফবানুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, বিকেলে নিহত ওই নারী সকালে আহত সরফবানুকে দেখতে গিয়েছিলেন।”

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “সকাল ও বিকেলে একই এলাকায় দুটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বিকেলের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং সকালের ঘটনায় আহত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এর আগে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

 

রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসের শঙ্কা, সতর্কতায় মাঠে ইউএনও-এসিল্যান্ড

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করেন। এ সময় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাহাড়ি উঁচু-নিচু এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় ইউএনও জানান, টানা অতিবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউএনও: ০১৭৮৯-৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২-৫১৬২৮৬, ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ: ০১৭৬৯-৪০০১০৯ এবং ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০-৩৮৭১৬১

এ ছাড়া অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, গুজব বা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামালের জীবনযুদ্ধের অবসান, অনিশ্চয়তায় পরিবার

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যুবক মো. জামাল (৩৯)। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একই দিন সকালে স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত জামাল ওই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে ওমানে পাড়ি জমান জামাল। সেখানে কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়েই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। পরে তাঁর শরীরে প্যারালাইসিস দেখা দেয়।

সে সময় জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, মাত্র দুই দিনের চিকিৎসায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে সাধারণ বিমানে আনা সম্ভব ছিল না। এজন্য প্রয়োজন ছিল ব্যয়বহুল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের।

জামালের চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে সবার সহযোগিতায় তাঁকে দেশে এনে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তাঁর পরিবার।

 

অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ায় সতর্কতা: আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান, জরুরি নম্বর দিলেন ইউএনও

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: টানা অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক জরুরি বার্তায় ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, গতকাল থেকে চলমান অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে।

নম্বরগুলো হলো— ইউএনও: ০১৭৮৯৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২-৫১৬২৮৬, ডিজিএম, পল্লী বিদ্যুৎ: ০১৭৬৯-৪০০১০৯ এবং ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০-৩৮৭১৬১

এ ছাড়া তিনি অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।