রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের পাশে যুব ফোরাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গ্রামে পাহাড়ধসে নিহত এক নারীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরাম। একই সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

পরে ইছাখালী আদর্শ গ্রাম ও আশপাশের এলাকার প্রায় ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে চাল, ডালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ডা. এ টি এম রেজাউল করিম, সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে পাহাড়ধসে নিহত নারীর মাগফিরাত কামনা এবং টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় একটি সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে। এতে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে সেতুটি ধসে পড়ে। সেতুর একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সড়কের দুই প্রান্তে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে ওই এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ছিল। পানির প্রবল চাপে প্রথমে রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। পরে গভীর রাতে পানির তোড়ে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে।

যদিও সেতুটির অবস্থান রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়, তবে এটি বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন সেতু ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বান্দরবান থেকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে তলিয়ে থাকায় তাদের দল এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে দ্রুত একটি বেইলি সেতু স্থাপনের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

 

বড় ভাইকে আঁকড়ে ধরেও শেষ রক্ষা হলো না সোলেমানের, কর্ণফুলীতে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে ভাসমান লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিঙ্গি নৌকা ডুবে মো. সোলেমান (২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহে যান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান। আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা দ্রুত আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান।

উদ্ধার হওয়া আব্দুল হালিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল। নৌকাটি যখন কিনারার দিকে আসছিল, তখন বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। হঠাৎ নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেলে আমি দ্রুত লাফ দিয়ে নৌকায় ওঠার চেষ্টা করি, কারণ জানতাম আমার ভাই সাঁতার জানে না। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটি ধরতে পারলে হয়তো ভাইকেও বাঁচানো যেত। ডুবে যাওয়ার সময় সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। এতে আমিও পানির নিচে তলিয়ে যাই। অনেকক্ষণ পর কোনোভাবে হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে আমাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আমার ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

নিখোঁজ সোলেমান ও উদ্ধার হওয়া আব্দুল হালিম উপজেলার পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে বিশেষ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানো হলেও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে প্রবল স্রোতে সোলেমানকে অনেক দূরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খবর দেওয়া হয়েছে। কোথাও তার সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।