রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা, গ্রাম পুলিশদের সরঞ্জাম বিতরণ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

পরে গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে ও উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।

পরীক্ষা নম্বরের লড়াই নয়, জ্ঞান ও সততার মূল্যায়নের ক্ষেত্র: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম: পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেন, পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়।

বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামে ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উত্তরপত্রে লিখে আসে।”

পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরীক্ষার খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।”

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। কোনো কোনো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করত। এ ধরনের বিতর্ক ও বৈষম্যের ধারণা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের অগ্রদূত: মীর হেলাল

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় দেশের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের কথা ভাবতেন। গ্রামের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই নীতিতেই তিনি বিশ্বাসী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) হাটহাজারীর রিসার্চ ও ফার্ম বেইজড ক্যাম্পাস মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাসযোগ্য দেশ গড়তে এর কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও করতে হবে। তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, তিনি আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে নয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। এই ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কৃষি, চট্টগ্রাম বিভাগের মনিটর এবং সিভাসুর ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. আহসানুল হক রোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রফেসর এ কে এম সাইফুদ্দিন, ড. মিজানুর রহমান, ড. আহসানউল্লাহ, প্রফেসর নূরুল হক, ড. তফাজ্জল হোসেন রনি, ড. মনিরুজ্জামান, ড. আতিউর রহমান এবং সিভাসু ছাত্রদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান।

সৈয়দ মুনিয়া জিলশাদ ও মো. শাহরিয়ার হোসেন তালুকদারের যৌথ সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু তোয়াব।

কেরানীহাটে সিসিটিভি নজরদারি চালু, অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সাতকানিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানীহাটকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় এনেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিসিটিভি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি শাহজাহান চৌধুরী।।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামসুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তারেক হোসাইনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেরানীহাট এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এতে অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

স্থানীয়দের মতে, কেরানীহাট বান্দরবান জেলার প্রবেশদ্বার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিমুখী সড়ক জংশন হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল হয়। এছাড়া এখানে রয়েছে একাধিক শপিং মল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের আশা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সহজ হবে। এতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।