চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি বাঁশখালী, সাতকানিয়া এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই তিনি বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় যান। সেখানে বন্যার্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নেন। এ সময় তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাঁশখালী সফর শেষে তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা এবং পরে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওসহ জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শনকালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপিসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

দীঘিনালায় বন্যার তৃতীয় দিনেও পানিবন্দি প্রায় ৫ হাজার মানুষ, লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার তৃতীয় দিনেও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, দুই দিন পর দীঘিনালা-সাজেক সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়ক এখনো পানির নিচে থাকায় রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে সড়কের পানি কমে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সকালে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ জন পর্যটককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে ১০১টি যানবাহনে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকায় সড়ক এখনো পানির নিচে থাকায় লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকবে।”

 

রাউজানে পানিবন্দি মানুষের পাশে উপজেলা যুবদল, দিনব্যাপী উপহার সামগ্রী বিতরণ

রাউজান (চট্টগ্রাম) : টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা যুবদল। শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার পাহাড়তলী, কদলপুর ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে রাউজান আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দীন কাদের চৌধুরী ও তরুণ রাজনীতিবিদ সামির কাদের চৌধুরীর সার্বিক দিকনির্দেশনায়। উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটনের নেতৃত্বে দুর্যোগের শুরু থেকেই নেতাকর্মীরা পানিবন্দি মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কদলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফেজ এম এ হাশেম, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নুরুল হুদা, পাহাড়তলী বিএনপি নেতা জাবেদ খান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার, রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিটন মহাজন লিটু এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল শুক্কুর।

এছাড়া দিনব্যাপী পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেওয়া ও উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন যুবদল নেতা এয়াকুব বাদশা, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, ইলিয়াস জাবেদ, লিয়াকত আলী, আলমগীর, মাহবুব আলম, সোলেমান, মুরাদুল আলম, নুরুল আসাদ রিমন, বরকত চৌধুরী, এনায়েত আলী, হাসান, উছমান, মামুন, মনসুর, সাইদ, সরোয়ার, আবদুল্লাহ, রিগ্যান বড়ুয়া, আলম, মোজাফফর, আহম্মদ, ফরহাদ, মানিক ও রুবেল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আলম। পাশাপাশি উপজেলা যুবদল নেতা শাহজাহান, আবদুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, দুইজন মোরশেদ, এমদাদ, রাশেদ, সুজন, শাকিল, রবিন, বশর, সাব্বির, সালাউদ্দিন, গিয়াস, সাকিব ও বেলালসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যুবদল নেতারা জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে তাদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

শপথের পরদিনই বন্যাকবলিত ফটিকছড়িতে এমপি সরওয়ার আলমগীর, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর।

শপথ গ্রহণের পরদিন শুক্রবার বন্যাকবলিত ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাংসদ সরওয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ির কোনো মানুষ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সে লক্ষ্যে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

দিনের শুরুতে তিনি নিজ বাড়িতে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে মাইজভাণ্ডার জিয়ারত করে সেখানে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর উপজেলার সুন্দরপুর ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান।

পরে হারুয়ালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সাংসদ। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন কাঞ্চন, উত্তর জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

দিনের কর্মসূচি শেষে সাংসদ সরওয়ার আলমগীর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে আসরের নামাজ আদায় করেন।

আহত বন্ধুকে দেখতে ঢাকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল লোহাগাড়ার যুবকের

লোহাগড়া (চট্টগ্রাম) : সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক বন্ধুকে দেখতে ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার যুবক মাহবুবুল করিম আবরার (২৮)। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছোটদারোগারহাট এলাকার ভূঁইয়ার বটতলায় বিকেওয়াই জুট মিলের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহবুবুল করিম আবরার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাতঘর এলাকার মরহুম আব্দুল জলিলের বড় ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা অভিমুখে দ্রুতগতিতে চলা একটি প্রাইভেটকার হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিভাজক (ডিভাইডার) অতিক্রম করে বিপরীতমুখী লেনে উঠে যায়। এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক মাহবুবুল করিম আবরার গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই এসফাকুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক বন্ধুকে দেখতে ঢাকা যাচ্ছিলেন আবরার। কিন্তু সেই বন্ধুর কাছে পৌঁছানোর আগেই তিনি নিজেই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ নুরুর আবসার বলেন, প্রাইভেটকার ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পটিয়ায় বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় মাঠে এমপি এনাম ও প্রশাসন

পটিয়া (চট্টগ্রাম): টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। এ সময় তিনি হাঁটুপানি মাড়িয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং যেকোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।

ত্রাণ বিতরণকালে এনামুল হক এনাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পটিয়ার বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় ত্রাণের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে পটিয়ার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দ চেয়ে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে, সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক, সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মঈনুল আলম ছোটন, পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম, ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর বন্যা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পটিয়ার ৩৬টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ১২০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া দুর্গত মানুষের মধ্যে ১ হাজার ৫৫টি শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস, সরকারি কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের প্রশংসা করলেন এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতি ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার পৌরসভার কয়েকটি এলাকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই রাঙ্গুনিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদেরও প্রশংসা করে বলেন, তারা মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে এমপি বলেন, এখনও অনেক পাহাড়সংলগ্ন বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে প্রস্তুত রাখা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী কেউ যদি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আর কেউ নিজ এলাকায় থাকতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহায়তা করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পাহাড় রক্ষার বিষয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বালু উত্তোলন বন্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করেছেন। এখন অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এমপির এ পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে গত মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সকালে পাহাড়ধসে এক নারী আহত হওয়ার পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।

এদিকে, টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।