বাবা অসুস্থ বলে সাত বছরের কন্যাশিশুকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার হাফেজ মোহাম্মদ শরিফের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ারের মেয়ে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের দাবি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, স্কুল ছুটির পর ওয়াসিফা সহপাঠীদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল, যা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিরা ওয়াসিফাকে বলে, “তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি।” এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন ব্যক্তি ছিলেন।

দেলোয়ার বলেন, “তারা আমার মেয়ের নাম জানত এবং আমার অসুস্থতার কথা বলে তাকে নিয়ে গেছে। তাই আমার ধারণা, এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা।” তিনি জানান, ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করেছেন।

শিশুটির মা বলেন, ওয়াসিফা তার সহপাঠী ও এক আত্মীয় শিশুর সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। তাদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে ওয়াসিফার বাবার অসুস্থতার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। যদি কারও সঙ্গে বিরোধ থেকেও থাকে, তাহলে আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারত। কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশুকে কেন নিয়ে গেল? আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”

ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, ছুটি শেষে ওয়াসিফা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এ সময় তাদের বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাবার অসুস্থতার কথা বলে ডেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আরও দুইজন সহপাঠী ছিল এবং তাদের সামনেই ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

 

রাঙ্গুনিয়ায় দিনমজুরের গাভী চুরি করে অন্যত্র জবাই, বাছুর রেখে মাংস নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে এক দিনমজুরের গোয়ালঘর থেকে একটি গাভী চুরি করে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গাভীর লেজ, নাড়িভুঁড়ি ও শরীরের কিছু অংশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল ডাবাইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক (খালেক হাজী) এর ছেলে মো. মাহবুবের (৪০) গোয়ালঘর থেকে গাভীটি চুরি করা হয়।

ভুক্তভোগী মাহবুব জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি সর্বশেষ গোয়ালঘরে গাভীটি দেখেন। পরদিন ভোরে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, বাছুরটি থাকলেও গাভীটি নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, লালানগর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার বিকল্প সড়কের দক্ষিণ রাজানগর ও লালানগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চতুজ্জেপাড়ার মুখের নির্জন সড়কে একটি গাভী জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, সেটি তার চুরি হওয়া গাভী।

তিনি বলেন, “আমি কৃষিকাজ ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে গাভীটি লালন-পালন করছিলাম। এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল। গাভীটির আনুমানিক মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এটি পাঁচ মাসের গর্ভবতীও ছিল।”

মাহবুব আরও বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানি না।”

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, সংসার চালাতে গিয়ে তাদের প্রায়ই ধারদেনা করতে হয়। অনেক কষ্ট করে গাভীটি পালন করছিলেন, যাতে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়া যায় এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব হয়। তাদের তিন ছেলের বয়স ১০, ১২ ও ১৫ বছর। এর মধ্যে দুইজন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় এবং বড় ছেলে অন্য একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

স্থানীয়রা জানান, মাহবুব অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। তিনি যে কাজ পান, সেটিই করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। এটি খুবই মর্মান্তিক। মাহবুব একজন অসহায় দিনমজুর।”