হাটহাজারীতে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোবাইল চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আনুমানিক ৩৬-৩৭ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকিয়া এলাকার হাজি জয়নাল কোম্পানির বাড়িতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরোজা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

রোববার বিকালে এসআই আসাদ জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) খবর দেওয়া হয়েছে।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দায়িত্ব পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আনসার কর্মকর্তা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আলাউদ্দিন (৩৮) নামে এক আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে আবুতোরাব রাস্তার মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আলাউদ্দিন রামগতি উপজেলার কাশেম মিয়া বাড়ি এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি চলতি বছরের শুরুতে মিরসরাই উপজেলায় আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

জানা গেছে, সরকারি কাজ পরিদর্শনের জন্য জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে আবুতোরাব এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে মিরসরাই সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভ্রা দাশ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদেরসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে যান।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের বলেন, সকালে একটি তদন্ত-সংক্রান্ত কাজে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা আসছেন। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আনসার কর্মকর্তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সকে হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের শাস্তির দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের নার্সিং কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, দায়িত্ব পালনরত একজন নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান সম্ভব নয়। গভীর রাতে মহিলা ওয়ার্ডে বহিরাগতদের প্রবেশ করে কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভা দেবী, সিনিয়র স্টাফ নার্স মায়া রাণী মজুমদার, সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমিনা মমতাজ, শাহনাজ পারভীন, পারভীন আক্তার, কাকলি বড়ুয়া, ঝুমুর আক্তার, রাবেয়া মমতাজ, পম্পী দেবী, মাহফুজা কুমারী, নাজনীন আক্তার, নাসরিন আক্তার, ফারজানা আক্তার, পাপড়ি দাশ, অর্পনা দাশ, তন্বী পাল, উম্মে কুলসুম শেলীসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য নার্সিং কর্মকর্তারা।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।