নজরুলের চেতনায় মুখর চট্টগ্রাম, তিন দিনের আয়োজনের পর্দা নামল

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬-২০২৭) উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে রাঙ্গুনিয়ায় পল্লী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী চিকিৎসকদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই শতাধিক পল্লী চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দুর্ঘটনাজনিত জরুরি চিকিৎসাসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এটিএম রেজাউল করিম।

এছাড়া হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক করণীয় ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শওকত হোসেন। কর্মশালায় আরও প্রশিক্ষণ দেন পার্কভিউ হাসপাতালের শারীরিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হাসান এবং জ্যেষ্ঠ সেবিকা ওয়াইসিং মরমা ও অনিক সিকদার।

এ সময় অংশগ্রহণকারী পল্লী চিকিৎসকদের বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কেও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পার্কভিউ হাসপাতালের বিপণন ও ব্র্যান্ড বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. জাহেদুর ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মজিবুক হক মানিক।

বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে রোগীরা আরও উন্নত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

 

 

নাম ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ হলেও উপজেলা সদর দক্ষিণে, ৭ দিনের আলটিমেটাম

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামে নতুন অনুমোদন পাওয়া ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর উত্তরাংশের পরিবর্তে দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর পক্ষে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আল মাসুদ।

নতুন উপজেলার অনুমোদনের জন্য সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসাবাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। এই প্রেক্ষাপটে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ছাড়াই নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুরে উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার; অন্যদিকে বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং ভোটার রয়েছেন প্রায় সোয়া এক লাখ। উপজেলা পরিষদের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিলকে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে প্রভাব খাটিয়ে সেটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশের আলোকে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হসপিটালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার এবং জহির রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়ায় নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এ মসজিদ চালু হওয়ায় এলাকার কয়েক হাজার মুসল্লির দীর্ঘদিনের স্থানসংকট দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাঙ্গুনিয়ার মোগলের হাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মুহাম্মদ আলমগীর। প্রায় তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের এই তিনতলা মসজিদ ভবনের সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করেছেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী স্কলার ও ওয়ায়েজ আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জুমা ও দুই ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতার সংকটে পড়তে হতো। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদ ভবন স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান বক্তা আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম আজহারী বলেন, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আদর্শ সমাজ গঠনের কেন্দ্র হওয়া উচিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের মদিনার মসজিদের আদলে এ প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মসজিদটির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। প্রায় অর্ধশত বছর আগে এ অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম হযরত মাওলানা আবুল খায়ের, যিনি ‘গদা মওলভী’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্রথম এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পুরোনো ভবনে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মুসল্লিদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়দের আবেদনের পর নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে মুহাম্মদ আলমগীর নিজস্ব অর্থায়নে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মসজিদ নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কারিগর এবং অর্থায়নকারী মুহাম্মদ আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও অর্থায়নকারীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মোগলের হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; ভবিষ্যতে এটি রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসেবেও পরিচিতি পাবে।

 

 

ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু ১ আগস্ট

রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর (তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, অনগ্রসর ও চা-শ্রমিক) ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে জুলাইজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে গত ৩০ জুন জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

আবেদনকারীদের নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বরও দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যারা বর্তমানে অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নিয়মিত সুবিধাভোগী, তারা এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন আবেদন ও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা আবেদনসমূহ একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাবেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।