ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণায় ভূজপুরে আনন্দ মিছিল ও শোকরানা মাহফিল

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): ফটিকছড়িতে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা ঘোষণায় এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর থানার পাশে নির্ধারণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূজপুরে পৃথক দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়রা এ আনন্দ উদ্যাপন করেন। এ সময় সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম কর্মসূচিটি সকাল ৯টায় কাজিরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ৪ নম্বর ভূজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো এলাকায় এলে তাকে পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ভূজপুর থানা ঘোষণা করেছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর থানার পাশেই উপজেলা সদর দপ্তর নির্ধারণ করে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ঘোষণা হওয়ায় তারা সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, ভূজপুর থানার রূপকার খালেদা জিয়া ভূজপুরবাসীকে যথাযথ মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নতুন উপজেলা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত।

একই দিন জুমার নামাজের পর কাজিরহাট বাজারে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে দোয়া ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে নতুন উপজেলা ঘোষণার জন্য সরকারপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে ভূজপুর থানা প্রতিষ্ঠায় যারা অর্থ, শ্রম ও ভূমি দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর মাগফিরাত কামনা করা হয়।

এ সময় দ্রুত উপজেলা নির্বাহী প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু এবং অবহেলিত এ জনপদের সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।

উভয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমএসএইচ শাহজাহান চৌধুরী শিপন, মাহাবুল আলম আযাদ, রিজোয়ান চৌধুরী, মাওলানা জুনাইদ বিন জালাল, বিএনপি নেতা মাহাবুর আলম আযাদ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবু তালেব, ব্যাংকার ফজলুল করিম, ইব্রাহিম মেম্বার, জসিম মীর, লোকমান হোসেন মেম্বার, হাফেজ এমদাদ, মোহাম্মদ জাহেদ হাসান, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আমিনী, বিএনপি নেতা মুনসুর চৌধুরী, জহির উদ্দিন বাবর, এম. নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ ফয়েজ, সংবাদকর্মী মাওলানা আসগর সালেহী, নুরুল আলম গুরামিয়া মেম্বার, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মাওলানা এরশাদ বিন জালাল, বখতিয়ার তালুকদার, খায়রুল বশর, মীর সুমন, এমদাদ ইসলাম, আবু ওবাইদা, জয়নাল আবেদীন, ইলিয়াস তালুকদার, আখতারুজ্জামান রুবেল, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মাওলানা রফিক, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মামুন বশর ভূইয়া, মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, সেলিম রেজা, রিপন চৌধুরী, রহিম, নিজাম ও খালেদ।

জাতি যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন দায়িত্ব নেন মেজর জিয়া: রাঙ্গুনিয়ায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না এবং হতাশায় নিমজ্জিত ছিল, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া—এমন মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যে নামটি জড়িত, সেটি হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার টানে সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন মেজর হিসেবে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন তিনি। জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিল না, তখন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না। বিগত সময়ে ভুল ইতিহাস গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের শিশু ও নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর চেষ্টা হয়েছে। ইতিহাস তৈরি করা যায় না, ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়। সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

এর আগে মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা জিয়ানগরস্থ প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কেউ যেন নিজেকে দুর্বল মনে না করে, সেজন্য প্রশিক্ষণোত্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বীরকে জাতি যাতে আজীবন শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে পারে, সে জন্য রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।