নাম ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ হলেও উপজেলা সদর দক্ষিণে, ৭ দিনের আলটিমেটাম

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামে নতুন অনুমোদন পাওয়া ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর উত্তরাংশের পরিবর্তে দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর পক্ষে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আল মাসুদ।

নতুন উপজেলার অনুমোদনের জন্য সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসাবাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। এই প্রেক্ষাপটে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ছাড়াই নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুরে উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার; অন্যদিকে বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং ভোটার রয়েছেন প্রায় সোয়া এক লাখ। উপজেলা পরিষদের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিলকে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে প্রভাব খাটিয়ে সেটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশের আলোকে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হসপিটালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার এবং জহির রায়হান উপস্থিত ছিলেন।