পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ে চুরি, এক সপ্তাহে ১০টির বেশি ঘটনা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের পটিয়ায় একের পর এক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার অন্তত ১০টি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

সর্বশেষ সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের সীতাবিধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ও দরজা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় চোরের দল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয় বন্ধ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোবাইল ফোনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা জানালে তিনি দ্রুত সেখানে যান।

বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অফিস কক্ষের তালা ও দরজা খোলা এবং ভেতরের একটি আলমারি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। চোরেরা অফিস কক্ষ থেকে একটি প্রিন্টার, একটি রাউটার, একটি অণু, একটি পিতলের ঘণ্টাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা প্রায় ২ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যায় তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী রানী দাশ জানান, রোববার রাতে অথবা সোমবার ভোরে চোরের দল এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১১ আগস্ট রাতে একই ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে দুটি বিদ্যালয়ে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় দুটি হলো আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্ব আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর দুই দিন পর ১৩ আগস্ট আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া কুসুমপুরা, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “প্রতিদিনই আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদকসেবীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মাদকের স্পট চিহ্নিত করে ব্লক রেইড করা হবে। মোবাইল কোর্টে সাজা বাড়ানোর জন্য ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।