
রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আর্জেন্টিনা ফুটবল সমর্থকদের মিলনমেলা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির দেশ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেক কেটে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এসময় শতশত আর্জেন্টিনা সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের হরিণ গেইট পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা আবারও বিজয় অর্জন করবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। তবে খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা কটুক্তি করা যাবে না। ব্রাজিলসহ অন্যান্য দলের সমর্থকদের প্রতিও সম্মান দেখিয়ে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে খেলা উপভোগ করেন।”
তিনি আরও বলেন, “খেলা আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়। সেই শিক্ষা বাস্তব জীবনেও অনুসরণ করা উচিত। সবাই যেন নেশা ও জুয়া থেকে দূরে থাকি।” এসময় তিনি উপস্থিত ভক্তদের হাত উঁচিয়ে নেশা ও জুয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, “মেসির মতো খেলোয়াড়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক। আগের প্রজন্ম যেমন ম্যারাডোনার ভক্ত ছিলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মেসিকে অনুসরণ করেই আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছেন।”
আয়োজকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এ আয়োজনে অংশ নেন। তরুণ সমাজকে মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ জুন রাঙ্গুনিয়ায় ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকদের উদ্যোগে ‘ফ্যান গেট-টুগেদার ২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী মিলনমেলা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ড্রিম রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে নিবন্ধিত ব্রাজিল সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খ্রিস্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদার ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানসহ আরও অনেকে।
দিনব্যাপী আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ম্যাচ প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ, মিনি গেমস ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতেই এ আয়োজন করা হয়েছিল।
