রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক নারী আহত হয়েছেন। সকালে একই এলাকায় পাহাড়ধসে আহত সরফবানুকে দেখতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারান রেনু আক্তার (৫৬)।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার ইছাখালী আদর্শ গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় সকাল ও বিকেলে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে পাহাড়ধসে সরফবানু নামে এক নারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে একই এলাকায় আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে একটি বাড়ির ওপর পড়ে গেলে রেনু আক্তার চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, “প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে গাছসহ পাহাড়ের মাটি ধসে বাড়ির ওপর পড়ে। এতে এক নারী চাপা পড়ে নিহত হন। সকালে একই এলাকার আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আহত সরফবানুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, বিকেলে নিহত ওই নারী সকালে আহত সরফবানুকে দেখতে গিয়েছিলেন।”
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “সকাল ও বিকেলে একই এলাকায় দুটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বিকেলের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং সকালের ঘটনায় আহত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এর আগে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
