রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাঙ্গুনিয়ায় পাসের হারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এসএসসিতে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল এবং ভোকেশনালে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে।
উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৩৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১ হাজার ৪১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন।
এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে থাকা পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭ জনের মধ্যে ৪০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৪ জনের মধ্যে ৮৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরেই রয়েছে পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন এবং রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এদিকে, উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় ৬৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।
দাখিলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।
মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল। এ প্রতিষ্ঠানে ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ। রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসায় ৬৯ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।
দাখিলে মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল থেকে ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। হযরত খাদিজা (রা.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন এবং রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আহম্মদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠানে ২৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৭ জন উত্তীর্ণ এবং ১০৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।
ভোকেশনালে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ভোকেশনালে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।
ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রাজানগর আর,এ,বি,এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
প্রসঙ্গত: রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
