রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জীবিকার তাগিদে ঋণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যুবক মো. জামাল (৩৯)। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একই দিন সকালে স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত জামাল ওই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে ওমানে পাড়ি জমান জামাল। সেখানে কখনো এসি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ, আবার কখনো নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়েই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন জামাল। এতে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। পরে তাঁর শরীরে প্যারালাইসিস দেখা দেয়।
সে সময় জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানান, মাত্র দুই দিনের চিকিৎসায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে সাধারণ বিমানে আনা সম্ভব ছিল না। এজন্য প্রয়োজন ছিল ব্যয়বহুল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের।
জামালের চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভানুধ্যায়ীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে সবার সহযোগিতায় তাঁকে দেশে এনে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তাঁর পরিবার।
