উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাঙ্গুনিয়ায় দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় জায়গা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায়।

রোববার (১০ মে) উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করা হয়।

জানা যায়, জায়গা ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ ও মামলাও হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানান, সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় প্রায় দুই থেকে তিনশ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জায়গা পরিমাপের জন্য একজন সরকারি আমিনসহ মোট পাঁচজন আমিন দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও জানান, পরিমাপে দেখা যায় বাদী ওমর ফারুকের দুটি ঘর এবং আলমের সামনের বাউন্ডারি ওয়াল আংশিক ভাঙতে হতো। তবে উভয় পক্ষের ক্ষতি কমিয়ে আনতে স্থানীয়দের পরামর্শে অন্য অংশ থেকে জায়গা সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হয়। এতে চলাচলের রাস্তার সমস্যাও দূর হয়।

পরে এলাকাবাসী দুই পক্ষের মধ্যে মিলমিশ করে দেয় এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ বলেন, “সকাল থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিকেলের দিকে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান করা হয়েছে। পূর্বে উভয় পক্ষ সমাধান মানতে রাজি না হলেও জনস্বার্থ বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাপজোখের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। যার যতটুকু ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা দিয়েছে। চলাচলের রাস্তা ও বিরোধপূর্ণ দুটি পয়েন্ট অবমুক্ত করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ায় গভীর রাতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, এস্কেভেটরের ব্যাটারি জব্দ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না গেলেও মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর পাওয়া যায়। পরে এস্কেভেটরটির ব্যাটারি জব্দ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।

এ বিষয়ে দেবব্রত দাশ জানান, কৃষি জমির টপসয়েল ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক বিএনপি সভাপতির কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীরা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ তালুকদারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (৮ মে)। এ উপলক্ষে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে ইউনুছ চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানে কবর জিয়ারত, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হুমাম কাদের চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নেন উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এম এইচ সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুবসহ লালানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মরহুম ইউনুছ তালুকদার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বৃহত্তর হোসনাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং হোসনাবাদ-লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এদিকে বিকেলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী, তফনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ছাদ বাগানে আদা চাষ, বড় ফলবাগানের স্বপ্ন দেখছেন বিএনপি নেতা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেসে ওঠা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে সারি সারি বস্তায় আদা চাষ। পাশে দাঁড়িয়ে কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন এক সৌখিন বাগানি। প্রথম দেখায় সাধারণ কোনো কৃষক মনে হলেও, খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কাউখালির বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন ছাদ ও আঙিনাজুড়ে ফল ও মসলাজাতীয় ফসলের ছোট্ট এক সবুজ জগৎ। তার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে শৈশবের স্মৃতি, বাবার অনুপ্রেরণা এবং কৃষির প্রতি গভীর টান।

রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালি উপজেলার বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই গাছপালার প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা ছিল। তার বাবা হাজী অলি আহমদ সওদাগর ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজও করতেন। বাবার দেখাদেখিই গাছ লাগানো ও কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কৃষিকে ভালোবাসতাম। ইচ্ছে ছিল কৃষি ডিপ্লোমা নিয়ে পড়াশোনা করবো। কিন্তু বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। তখন আর স্বপ্ন পূরণ হয়নি।”

১৯৯২ সালে রাউজান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর কর্মজীবনে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ছোট পরিসরে ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন। একই সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। পরে যুবদল হয়ে বর্তমানে বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি কৃষিকে আঁকড়ে ধরা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষিভিত্তিক চিন্তাধারাও আমাকে অনুপ্রাণিত করে।”

বর্তমানে তার ২ হাজার ১০০ স্কয়ার ফিটের ছাদজুড়ে রয়েছে ২০০ বস্তা আদা চাষ। পাশাপাশি রয়েছে ২০ থেকে ৩০টি ড্রাগন ফলের গাছ, বিভিন্ন জাতের আম, কমলা ও অন্যান্য ফলজ গাছ। বাড়ির আঙিনাতেও গড়ে তুলেছেন লটকন, মাল্টা, জামরুল, আমড়া, কলাসহ নানা ফলের বাগান।

তবে এই পথটা খুব সহজ ছিল না। আদা চাষে একসময় বড় ধরনের ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে।

সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৯৯০ সালের দিকে আদা চাষে আগ্রহ থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু নানা রোগবালাই ও কম দামের কারণে বড় ধরনের লোকসান হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বস্তায় আদা চাষের বিষয়টি দেখে নতুনভাবে শুরু করি।”

তার ভাষ্য, বস্তায় আদা চাষে রোগবালাই কম হয় এবং পচনের ঝুঁকিও কম থাকে। দুই বছর আগে ১০০ বস্তা দিয়ে শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরে প্রতি বস্তায় প্রায় ৫০ টাকা খরচে এক কেজির মতো আদা উৎপাদন হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এবার চাষের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০০ বস্তায় নিয়েছেন।

ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে ফলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে ৪০ পরিবারকে নিয়ে একটি বাগানভিত্তিক উদ্যোগ গড়ার চিন্তা করছেন। এ বিষয়ে কৃষি অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।

কাউখালি উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সহিদুজ্জামান বলেন, “মোহাম্মদ আলী মূলত শখের বশেই ছাদ ও বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ফল ও মসলাজাতীয় ফসল চাষ করছেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগবালাই দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার বিষয়েও সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “তার ছাদ বাগানের আদা চাষ থেকে ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে বলে আশা করছি।”

৫৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলীর পরিবারেও রয়েছে কৃষির প্রতি আগ্রহ। দুই সন্তানের জনক তিনি। তার ছেলে বর্তমানে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

রাজনীতি, ব্যবসা আর কৃষি, তিনটি ক্ষেত্র একসঙ্গে সামলালেও মোহাম্মদ আলীর বিশ্বাস, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে মানুষ মাটির কাছাকাছি থাকে। আর সেই টান থেকেই তিনি এখনো স্বপ্ন দেখেন আরও বড় এক সবুজ বাগানের।

জন্মের পর বাবাকে দেখেনি ছেলে, জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায়

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: জন্মের পর থেকে কখনো বাবার মুখ দেখেনি ছেলে। ফোনে বা দূর থেকে কিছুটা যোগাযোগ থাকলেও বাবার স্নেহ-স্পর্শ তার ভাগ্যে জোটেনি। অবশেষে সেই বাবার জানাজায় অংশ নিয়েই বিদায় জানাতে হলো সন্তানকে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল গোয়াজর পাড়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম (৪৫) সৌদি আরবে মারা গেছেন। বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় সেখানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রবাসে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে জন্ম নেয় ছেলে মোহাম্মদ সিরাজ (৯)। জন্মের পর থেকে বাবাকে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি তার। বড় ছেলে মোহাম্মদ মিনহাজ (১২) ছোটবেলায় বাবাকে দেখলেও সিরাজ সেই সুযোগ পায়নি।

নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ মামুন জানান, গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তার ভাই অনলাইনে সক্রিয় ছিলেন। পরদিন ৩০ এপ্রিল সকালে সৌদি আরব থেকে খবর আসে, অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের কারণে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তিনি মারা গেছেন। বিষয়টি প্রথমে সেলিমের শ্বশুরের মাধ্যমে পরিবারকে জানানো হয়।

প্রথমে মরদেহ দেশে আনার আলোচনা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

এদিকে একই সময়ে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায়) দেশে তার পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় বাদামতলী জামে মসজিদ মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজায় অংশ নেয় সেলিমের দুই ছেলে মিনহাজ ও সিরাজও।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সেলিম সৌদি আরবে বাগানের কাজ করতেন। দেশে তার পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে মিনহাজ একটি হেফজখানার ছাত্র এবং ইতোমধ্যে ৯ পারা কুরআন মুখস্থ করেছে।

প্রবাসজীবনের দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর শেষ পর্যন্ত বাবার সঙ্গে সন্তানের দেখা হলো না—এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে।

ফটিকছড়িতে সাত তলা থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মো. কারিম (৩) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হাসান টাওয়ার-১’ নামক ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কারিম উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর গোমস্তার বাড়ির সৌদি প্রবাসী মহিনউদ্দিনের দ্বিতীয় ছেলে বলে পরিবার জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কারিম তার ভাইয়ের সঙ্গে ভবনের ছাদে খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে ছাদের কিনারায় গিয়ে রেলিংয়ে উঠে পড়ে সে। পরে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নানা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, “দুপুরে দুই ভাই একসঙ্গে খেলছিল। একসময় সে সবার অজান্তে বাইরে চলে যায়। পরে জানতে পারি, রেলিং টপকে নিচে পড়ে গেছে। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।”

ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

রাঙ্গুনিয়ায় দুই অভিযানে ১০৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক দুই অভিযানে মোট ১০৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে পৃথক সময়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শান্তিরহাট মাছ বাজার সংলগ্ন সড়কে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সিএনজিতে থাকা তিন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে ১৩টি প্লাস্টিক পলিব্যাগে রাখা মোট ৭৮ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৯ হাজার টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়।

অপরদিকে, দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. সেকান্দার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, দ্বিতীয় ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। প্রথম ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা-ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদক মামলার ৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলার আসামি মো. শাহাজাহান (২৬), নারী ও শিশু নির্যাতন (ধর্ষণ) মামলার আসামি নুর নবী (৪৬), এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দুটি পৃথক মামলার আসামি মো. নুরউদ্দিন ও সামসু মিয়া।

তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের হওয়া মামলার পরোয়ানা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কারাগারে সোপর্দ করা হবে।

কাজের মান তদারকিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা জরুরি: এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে তাপবিদ্যুৎ এলাকা থেকে গোডাউন পর্যন্ত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে কাজের সূচনা করেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ সময় বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, তাপবিদ্যুৎ থেকে গোডাউন পর্যন্ত প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলেও তাদের মূল লক্ষ্য পুরো কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। এ বিষয়ে নিয়মিত নীতিগত আলোচনা ও সভা চলছে বলেও জানান তিনি।

কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত ‘চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট সেতু’ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উপজেলায় একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় খাস জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।

উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এমপি বলেন, ঠিকাদারদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজের গতি ও মান তদারকিতে সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বজায় রাখার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করা সম্ভব।

অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ দিয়ে ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান এমপি হুমামের

 

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তরুণদের ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাঙ্গুনিয়া আয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও টেকাব প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র, ভাতা ও ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে নতুন হওয়ায় শুরুতে অনেক কিছু শেখার প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরে কথা বলার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। “অনেক কিছু বোঝার ও শেখার ছিল বলেই কিছুটা দেরিতে বক্তব্য দিয়েছি,” বলেন তিনি।

ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অতীত স্মরণ করতে গিয়ে মূল বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হারান। “আমরা যদি সবসময় ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকি, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা ও এগোনোর সুযোগ কমে যায়,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস জানা জরুরি, তবে সেটিকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষণকে প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অংশগ্রহণকারীদের আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন সংসদে আসাটাই বড় অর্জন। কিন্তু আমার কাছে কাজ এখনো শুরু মাত্র। চল্লিশ পেরিয়েও প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।”
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে শুধু পথ দেখান, কাজ আমি নিয়ে আসব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মীর মো. নজমুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

এদিকে একই দিনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন হুমাম কাদের চৌধুরী। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তিনি শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি।

নুয়ে পড়েছে ধান, ভাঙেনি মন; রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের ব্যস্ততা

রাঙ্গুনিয়া টুডে প্রতিবেদক: রাঙ্গুনিয়ার আকাশ এখনো অনিশ্চিত—মেঘ আর রোদের লুকোচুরি। কালবৈশাখীর ভয় কাটেনি পুরোপুরি। তবু কৃষকেরা থেমে নেই। রোদ উঠলেই তারা মাঠে ছুটছেন। কোথাও হেলে পড়া ধান সোজা করছেন, কোথাও পাকা ফসল দ্রুত কেটে ঘরে তুলছেন। এই সংগ্রাম প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়, বাঁচার তাগিদে।

গত ২৮ এপ্রিল থেকে টানা কয়েক দফা কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মতো রাঙ্গুনিয়াও এর বাইরে ছিল না। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ফিরতে সময় লেগেছে প্রায় এক সপ্তাহ। বজ্রপাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ঝড়ের সেই রাতের স্মৃতি এখনো তাজা। দমকা হাওয়া আর ভারী বৃষ্টিতে সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বসতঘর, দোকান, গোয়ালঘর—সবখানেই ক্ষতির চিহ্ন।

তবে মাঠের দৃশ্য পুরোটা হতাশার নয়। বেশিরভাগ জমিতে ধান এখনো ভালো অবস্থায় আছে, সোনালি রং ধরেছে। কৃষকেরা স্বাভাবিকভাবেই ধান কাটায় ব্যস্ত। যদিও কিছু নিচু জমিতে পানি জমে ধান নুয়ে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গুমাই বিলে একাই ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েসের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে কিছু জমির ধান মাটির সঙ্গে লেগে গেছে। প্রায় ৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন তিনি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ফসলেরও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে দৃশ্যমান চিত্র—কৃষকের অদম্য চেষ্টা। সোমবার রোদ উঠতেই দল বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। ক্লান্তি থাকলেও থামার সুযোগ নেই। কারণ এই ফসলই তাদের ভরসা।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি শ্রমিক সহায়তা না থাকলেও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও আবহাওয়ার আপডেট দেওয়া হচ্ছে। ধান কাটার কাজ শেষ হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে।

এদিকে কালবৈশাখীর মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর একের পর এক সতর্কতা জারি করে যাচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে লড়াই করেই ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রাঙ্গুনিয়ার কৃষকেরা।

 

মাকালুর চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশি বাবর আলী, ইতিহাসে নতুন মাইলফলক

ডেস্ক: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মাকালুর শিখরে পৌঁছেছেন চট্টগ্রামের পর্বতারোহী ও চিকিৎসক বাবর আলী। শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন।

৮,৪৮৫ মিটার উচ্চতার মাকালু নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল অঞ্চলে অবস্থিত। এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিলেন শেরপা গাইড আং কামি শেরপা।

ভার্টিকাল ড্রিমার্স ক্লাবের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের জন্য বাবর আলী গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। ৯ এপ্রিল তিনি টুমলিংটার পৌঁছান এবং সেখান থেকে সড়কপথে সেদুয়া গ্রামে যান। ১৮ এপ্রিল বেসক্যাম্পে পৌঁছে তিনি অভিযোজন প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত শিখর অভিযানে রওনা দেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি ৬,৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২ থেকে ৭,৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ অবস্থান করেন। সেখান থেকে মধ্যরাতে চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করে প্রায় ১,১০০ মিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করে ভোরে শিখরে পৌঁছান।

জানা গেছে, বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক এবং পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিকাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক।

বিশ্বে ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতকে সবচেয়ে কঠিন আরোহন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাকালু জয় করে বাবর আলী এখন পর্যন্ত পাঁচটি আট-হাজারি শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করলেন।

এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। ২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অ্যামা দাবলাম জয় করেন।

২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে একই অভিযানে জয় করেন।

২০২৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপূর্ণা-১ আরোহণ করেন এবং একই বছরে অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু জয় করেন।

মাকালু জয় তার পর্বতারোহণ জীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

চার বিভাগে ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারি বর্ষণের শঙ্কা, চট্টগ্রামে ভূমিধসের সতর্কতা

ডেস্ক : দেশের চারটি বিভাগে আগামী দুই দিনে অতি ভারি বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২ মে) দুপুরে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এই বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে এসব বিভাগের নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আলাদা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মে দিবস ও পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা দিবসে রাঙ্গুনিয়ায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

পরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াস তালুকদার, সহ-সভাপতি আব্বাস হোসাইন আফতাব এবং সদস্য ইসমাঈল হোসেন নয়ন।

বক্তারা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার উদ্যোগে র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে উপজেলার কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম), কর্ণফুলী জুট মিল ও ফোরাত মিল দ্রুত চালুর দাবি জানান। তাদের মতে, এসব কলকারখানা চালু হলে এলাকার বিপুল সংখ্যক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে।

এছাড়া ইছাখালী এলাকায় বন্ধ হয়ে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশন পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। এতে করে হাজার হাজার সিএনজি চালকের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে কাপ্তাই সড়কে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ হাসান মুরাদ।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙ্গুনিয়া শাখার সেক্রেটারি তসলিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তালেব, মাস্টার মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, পৌর শ্রমিক উপদেষ্টা আজম ওমর, দক্ষিণ রাজানগর শ্রমিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফরহাদ আলম, পোমরা ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা অধ্যাপক জসীমউদ্দিন, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা আজিম উদ্দিন, শিলক ইউনিয়ন শ্রমিক উপদেষ্টা হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আলমগীর হত্যা: ৭২ ঘণ্টায় রহস্য উদ্ঘাটন, স্ত্রী-ছেলে গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় আলোচিত আলমগীর হত্যার ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গাছ কাটার ‘ধামা দা’।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ এপ্রিল রাত সোয়া ১টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার উত্তর পদুয়া কামারটিলা এলাকায় নিজ বসতঘরের দরজার সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন প্রবাসফেরত মো. আলমগীর (৪০)। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীর সহযোগিতায় ওসি হিলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) ও স্ত্রী রহিমা বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ১৮-১৯ বছর আগে রহিমাকে বিয়ে করেন আলমগীর। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলে দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রহিমা স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে যান।

৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের আবার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ চলছিল।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভয়ভীতি দেখান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী ও ছেলে পরস্পরের যোগসাজশে ঘরে থাকা ধামা দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা একটি গল্প সাজান। প্রতিবেশীদের ডেকে জানানো হয়, আলমগীর ঘরের বাইরে গেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিকতা ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের ওপর সন্দেহ করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মা-ছেলে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
ওসি হিলাল উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধের দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।”