
ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর ) চারটি অভিযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এসব অভিযানে অবৈধ পদোন্নতি, ভুয়া জন্মনিবন্ধন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নিম্নমানের চাল মজুদসহ নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।
অভিযান ০১ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের এক ডিজিএমের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে টিম জানায়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে যাচাই শেষে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযান ০২ : নোয়াখালী
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়ন পরিষদে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী একটি অভিযান চালায়। টিম অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করে এবং ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবাপ্রার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। টিম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যান্য ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরও জন্ম নিবন্ধন সনদ দেয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দালালদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার আশ্বাস দেন।
অভিযান ০৩ : ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ থেকে আবেদন ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ একটি টিম অভিযান চালায়। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে ৪৭টি প্রকল্প নেয়া হয়, যার মধ্যে ১৭টি প্রকল্প ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নে। এসব প্রকল্পের টাকা ছাড় হলেও কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া পারিবারিক গোরস্থানকে সামাজিক গোরস্থান দেখিয়ে টাকা উত্তোলন এবং বসতবাড়িতে নামমাত্র কওমি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে বলে টিম প্রমাণ পায়।
অভিযান ০৪ : কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্য গুদামে নিম্নমানের চাল মজুদ ও কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ১৩০ বস্তা চাল যাচাই করে নিম্নমানের প্রমাণ মেলে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে অধিকাংশ নাম ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
দুদক জানায়, অভিযানে সংগৃহীত সব রেকর্ডপত্র ও তথ্য যাচাই শেষে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
সূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (Anti-Corruption Commission – Bangladesh) থেকে নেয়া।
