রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক: হিমেল বাতাসে যখন চট্টগ্রাম নগরীর ফুটপাত, রেলস্টেশন কিংবা মাজার প্রাঙ্গণে শীতার্ত মানুষগুলো কাঁপছে, তখন গভীর রাতে তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক নিজেই। দায়িত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তিনি সশরীরে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায়। দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার, চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী ও জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকায় ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি। এ সময় মোট ৬০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বসতবাড়িহীন ভাসমান মানুষের খোঁজখবর নেন, শোনেন তাদের কষ্টের কথা। গভীর রাতে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে এভাবে পাশে পেয়ে অনেকের চোখেই দেখা যায় স্বস্তি আর বিস্ময়।
মানবিকতার এই উদ্যোগ এখানেই থেমে থাকেনি। শীতার্ত দুই শিশু ঝুমুর ও শাহীন রাতের খাবারের অভাবে কষ্টে আছে জেনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। আবার টেকনাফের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ, যিনি কন্যাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন, তার পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দেন। ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য তাকে নিজের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং ফোন নম্বরও দেন।
শীতের এই দুঃসময়ে জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি শীতার্ত মানুষের মাঝে শুধু উষ্ণতা নয়, পৌঁছে দেয় আস্থা ও আশার বার্তা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো জেলা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই চলমান থাকবে।
এক রাতের এই উদ্যোগ অনেক মানুষের কাছে শুধু কম্বল নয়, শীতের রাতে মানবিক স্পর্শের উষ্ণ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
