ওমানে নিহত চার সহোদরের পরিবারে এমপি হুম্মাম, পাশে থাকার আশ্বাস

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার সহোদর ভাইয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ।

শুক্রবার (১৫ মে) নিহতদের গ্রামের বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং স্থানীয়দেরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “এই পরিবারের সদস্যরা আপনাদেরই আপনজন। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। একইসঙ্গে সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন, “আমরা সবাই দুনিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে পরকালের কথা ভুলে যাই। অথচ মৃত্যু যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই।”

তিনি বলেন, নিহতদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এখন একজন জীবিত আছেন। স্বজন হারানোর বেদনা তিনিই সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন। তাই তার পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “আশা করছি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এ বিষয়ে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।”

নিহতরা হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই ওমানে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব জানান, ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটলেও বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ধারণা করছে, গাড়ির ভেতরে এসির গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

চার সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহতদের বাড়িতে যান। একইদিন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তারা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক চেয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রসঙ্গত, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে রাসেদুল ইসলাম ও শাহেদুল ইসলাম বিবাহিত। রাসেদুল ইসলামের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শাহেদুল ইসলাম বিয়ের পরপরই প্রবাসে পাড়ি জমান। তার স্ত্রী রয়েছেন। নিহত সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম এখনো অবিবাহিত ছিলেন। এছাড়া তাদের পরিবারে রয়েছেন মা ও আরও এক ভাই। নিহতদের বাবার নাম মৃত আবদুল মজিদ।