রাঙ্গুনিয়া টুডে ডেস্ক:
আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে এটি গভীর শোক, ত্যাগ ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার এক স্মরণীয় দিন।
ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনটি নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। তবে ৬১ হিজরির ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনাই এ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।
এদিকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি ও নফল রোজার মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য স্মরণ করছেন।
পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে আত্মত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক চিরন্তন প্রেরণার দিন হিসেবে বিবেচিত।
