রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
বুধবার (১ জুলাই) মাসুদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “মাসুদ চৌধুরীর হত্যার বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদেও তুলেছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি নিজেই এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি বলেন, “আমি বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাফিয়া জড়িত আছে। দেশের মানুষ জানে, এই মাফিয়া বলতে আমি বালি সিন্ডিকেটের কথাই বোঝাতে চেয়েছি।”
হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, “ আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা সংকেত দিতে চেয়েছে, আমরা যদি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চাই, তাহলে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে।”
তিনি বলেন, “মাসুদ চৌধুরী যে শক্ত ভূমিকা রেখেছিল, প্রতিবাদ করে রাঙ্গুনিয়ায় এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে চেয়েছিল, তার পক্ষ হয়ে এবং তার স্মৃতিকে ধরে রেখে আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”
হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের তো ধরা হবেই। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো যারা টাকা খরচ করে খুনিদের ভাড়া করেছে, যারা এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী—তাদেরও ধরতে হবে। আমরা যদি বিচার চাই, তবে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে আমরা অত বেশি আলোচনা করিনি। তবে জনপ্রিয়তার কারণে মাসুদ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার, হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও তাকে পছন্দ করতেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যখন নির্বাচন করেছি, তখন অনেকেই বলেছিলেন, মাসুদ চৌধুরীর কারণেই তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মাসুদ এলাকার মানুষের পাশে ছিল। আপদে-বিপদে সবসময় সে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন তার এই শূন্যতা আমরা সবাই অনুভব করছি। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”
রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য আরও বলেন, “দলের জন্য মাসুদ বহুবার বড় ভূমিকা রেখেছে। অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম খুঁজলে দেখা যাবে, চট্টগ্রামের বড় বড় মিছিলে তার নেতৃত্ব ছিল। চেয়ারম্যান নির্বাচনও একটি কারণ হতে পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি, বালির মহলের বিরুদ্ধে সে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণেই তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
কবর জিয়ারতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও দলটির অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের সামনে মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ১৯ (১১ জন এজাহার নামীয় এবং ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত) জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আইয়ুবসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
