ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের নার্সিং কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, দায়িত্ব পালনরত একজন নার্সকে গভীর রাতে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান সম্ভব নয়। গভীর রাতে মহিলা ওয়ার্ডে বহিরাগতদের প্রবেশ করে কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভা দেবী, সিনিয়র স্টাফ নার্স মায়া রাণী মজুমদার, সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমিনা মমতাজ, শাহনাজ পারভীন, পারভীন আক্তার, কাকলি বড়ুয়া, ঝুমুর আক্তার, রাবেয়া মমতাজ, পম্পী দেবী, মাহফুজা কুমারী, নাজনীন আক্তার, নাসরিন আক্তার, ফারজানা আক্তার, পাপড়ি দাশ, অর্পনা দাশ, তন্বী পাল, উম্মে কুলসুম শেলীসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য নার্সিং কর্মকর্তারা।
মানববন্ধন শেষে বক্তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
