
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) ডেস্ক: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন। দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ সহায়তা বিতরণ, রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান এবং পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর মতো নানা মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে কোনো মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পান, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। জরুরি সহায়তার জন্য প্রশাসনের হটলাইন ও ইউএনওর ব্যক্তিগত নম্বরও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এদিকে ইছাখালী আদর্শগ্রামের (গুচ্ছ গ্রাম) পাহাড়ধসে নিহত নারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। পরে ডা. এটিএম রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের পাশাপাশি ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে চাল, ডালসহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে নিহত নারীর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং টানা বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশবাসীর নিরাপত্তা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নেতারাও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শন শেষে নেতারা পাহাড়ধসে নিহত নারীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া, এর আগে সাবেক ছাত্রদল নেতা ভিপি আনছুর উদ্দীনের উদ্যোগে পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়া চালক ও পথচারীদের মধ্যে রেইনকোট ও ছাতা বিতরণ করা হয়। ভিপি আনছুর উদ্দীন জানান, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর পক্ষে তাঁর উদ্যোগে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করছে। তবে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
টানা বর্ষণে এখনো রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। তাই প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণে টিন প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে রাতের রান্না করা খাবার সরবরাহ এবং রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝেও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
